নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পরেও যেভাবে ভোট দিতে যাবেন

৬৩২৩ পঠিত ... ১৮:৪১, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সব ধরনের যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রোববার (২৩ ডিসেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সড়কপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আওতায় রয়েছে- বেবি ট্যাক্সি/অটো রিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পু, স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রচালিত বিভিন্ন যানবাহন (বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর)।

কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোট দিতে হলে ভোটকেন্দ্রে তো যেতেই হবে! যদি কোনো যানবাহন না চলে, তাহলে কীভাবে যাবেন? eআরকি তাই ভাবতে বসেছিল নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কয়েকটি পদ্ধতি!

১# বেলুনে চেপে

উষ্ণ বায়ু দিয়ে ফুলানো বেলুনে চেপে শহরের সান্ধ্যকালীন দৃশ্য কিংবা প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা পাশ্চাত্যে বেশ জনপ্রিয় একটি ব্যাপার। আমাদের দেশে এটি সেভাবে প্রচলিত না থাকলেও নির্বাচন উপলক্ষ্যে হতে পারে এর শুভ উদ্বোধন। বেলুনে চেপে মন্থর বেগে কেন্দ্রের দিকে ভেসে যাবেন এবং সুস্থিরভাবে ভোট দিয়ে শ’খানেক ফুট উপর থেকে কেন্দ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে বাড়ি ফিরবেন। সাথে বাদাম, ঝালমুড়ি, চিপস নিয়ে উঠতে পারেন, তবে যেখানে সেখানে এগুলোর খোসা ফেলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।

 

২# গরুর গাড়িতে করে

আবহমান বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বাহন গড়ুর গাড়িতে চেপে হেলে দুলে কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারবেন নিমিষেই। এতে নিশ্চিতভাবে আপনাকে কোন ধরণের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে না। তবে গাড়ির ইঞ্জিন অর্থাৎ গরু বেআইনিভাবে বর্ডার ক্রস করে এসেছে কি না সে বিষয়ে যথাযথ খবর নিয়ে তবেই গাড়ি ঠিক করবেন।

 

 

৩# নবাব আমলে খোঁড়া গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে

মোঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন স্থানে ছিল নবাবদের আধিপত্য। তাঁদের বসবাসের জন্য নির্মিত দূর্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল দেশের নানা প্রান্তে। শত্রুর আক্রমণ হলে যেন পরিবার পরিজনদের নিয়ে নিরাপদে তারা গা ঢাকা দিতে পারেন, সেজন্য দূর্গের সাথে নির্মাণ করা হয়েছিল নানা দৈর্ঘের বিভিন্ন সুড়ঙ্গ। আজ সেইসব দূর্গগুলো হারিয়ে গেলেও সুড়ঙ্গগুলো কোথায় ছিল বা এখন কেমন আছে তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেন না। নির্বাচন উপলক্ষ্যে তাই ভোটাররা এসব সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বের করে ফেলতে পারেন কেন্দ্রে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে পৌঁছানোর শর্টকাট। এসব সুড়ঙ্গ ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন, কারণ দুই-একটা ভুল মোড় নিলে চলে যেতে পারেন দিল্লি বা আগ্রার কোন প্রাসাদের মজলিসে।

 

৪# রেড বুল খেয়ে

আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত এনার্জি ড্রিঙ্ক ‘রেড বুল’ দিতে পারে আপনার কেন্দ্রে যাওয়ার সমাধান। এই রেড বুলের বিখ্যাৎ বিজ্ঞাপনী কপি হচ্ছে ‘রেড বুল গিভস ইউ উইংস!’ অর্থাৎ রেড বুল সেবনের মাধ্যমে আপনার পিঠে উৎপত্তি হতে পারে একজোড়া ডানার, আর তা ঝাপটে আপনি অনায়াসে উড়ে যেতে পারবেন আপনার নির্ধারিত কেন্দ্রে।

 

৫# মানব ট্রেনে চড়ে (বা চালিয়ে)

গত ১২ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি ট্রেনকে বহন করে নিয়ে যায় বাংলাদেশের নতুন উদ্ভাবন মানবট্রেন! ভোটাররা নিজেদের এলাকায় মানবট্রেন চালু করে তাতে করে কেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে পারেন সহজেই। একই কেন্দ্রে ভোটার ও তার বাহন ভোট দেয়ার নজির সম্ভবত এখনো কোথাও দেখা যায় নি।

 

 

৬# টাইম মেশিন তৈরি করে

আপনি যদি একজন বিজ্ঞানমনস্ক সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে যাতায়াতের ঝামেলা আপনার জন্য কোন সমস্যাই নয়। আপনার মূল্যবান ভোটটি দিতে আপনি তৈরি করে ফেলতে পারেন একটি টাইম মেশিন। এর মাধ্যমে যেখানে খুশি যখন খুশি আপনি যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বোনাস হিসাবে ২০১৮ নির্বাচনের পাশাপাশি একদিনেই আগে পরের একশ বছরের সব নির্বাচনের ভোট আপনি চাইলেই দিয়ে আসতে পারবেন।

 

৭# প্রার্থীদের সাথে বিশেষ রাইড শেয়ারিং করে

ভোটের দিন সাধারণ মানুষের নানাবিধ যানবাহন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য বলা হয়েছে। তাই প্রার্থীদের সাথে রাইড শেয়ার করে আপনি ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে পারবেন নির্বিঘ্নে।

৮# সাঁতার কেটে

ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো জলসংবেদনশীল যেসব স্থানে সামান্য বর্ষণেই পানি জমে যায়, সেসব এলাকার ভোটারদের জন্য ব্যাপারটি শাপে বরের মতো হয়েছে বলে ভাবা যায়। এলাকার সবাই সম্মিলিতভাবে আপনাদের বাসার নিচের পানির ট্যাপ ভোটের আগের দিন চালু রাখলে পরদিন সকালে উঠে নিজেদের আবিষ্কার করবেন টইটুম্বুর জলপথের সামনে। ব্রজেন দাসের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার রেকর্ডটি অনুপ্রেরণা ভেবে আপনারাও ভোট দিতে পাড়ি দিতে পারেন সুবিশাল মিরপুর চ্যানেল বা অন্যান্য সাময়িক নদী। সাঁতারে বিশেষ বাঁধা নেই বলে আপনাকে আইনী জটিলতায় জড়াতে হবে না।

 

৯# ইকারাসের মতো নকল মোমের ডানা তৈরি করে

গ্রিক পুরাণের বিখ্যাত ‘ইকারাস’ নামটি আমাদের কমবেশি সবারই জানা। নিঃসঙ্গ দ্বীপ থেকে পালাবার জন্য ইকারাস যেভাবে মোমের ডানা তৈরি করে উড়ে যায়, সেভাবে আপনিও ডানা তৈরি করে উড়তে উড়তে চলে যান ভোটকেন্দ্রে। তবে কৌতূহলী ইকারাস যেভাবে সূর্যের বেশি কাছে চলে গিয়েছিল, তেমন করে আপনিও যদি কেন্দ্রের বেশি ভেতরে চলে যেতে চেষ্টা করেন, তার ফলাফল বিপজ্জনক হতে পারে।

 

 

১০# নিজেকে কামানে ভরে নিক্ষেপ করে

মশা মারতে কামান না দাগলেও, ভোট দিতে কামান দাগা তো যেতেই পারে! সার্কাসের কামানে নিজেকে ভরে জিমন্যাস্টরা নিজেদের নিক্ষেপ করতে পারেন দূরের কোন স্থানে। তেমনি একটি কামানে গোলার পরিবর্তে নিজেকে ভরে কেন্দ্রের দিকে টার্গেট রেখে নিজেকে নিক্ষেপ করে দিন। লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়িয়ে ভোট দিতে পারবেন নিমিষেই।

 

১১# পালকি করে

শিল্পায়নের ছোঁয়া লাগার আগে বাংলার প্রচলিত বাহন ছিলো পালকি। নির্বাচনে বিভিন্ন যন্ত্রচালিত যানবাহন নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পালকির কথা কোথাও বলা হয় নি। তাই পালকিতে চেপে চলে যেতে পারেন আপনার মূল্যবান ভোট দিতে।

 

১২# পায়ে হেঁটে

উপরের কোন উপায়ই আপনার মনমতো না হলে ভরসা রাখুন আপনার পায়ের উপর। এতে করে ভোটের পাশাপাশি আপনার ক্যালরি পুড়িয়েও আসতে পারবেন। জীবনানন্দ দাস যদি নাটোরের যুবনেত্রী বনলতা সেনের জন্য হাজার বছর হাঁটতে পারেন, তাহলে আপনি কয়েক মাইল পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে পারবেন।

৬৩২৩ পঠিত ... ১৮:৪১, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

Top