বাংলাদেশের কোনো মেয়ে প্রেমের টানে আমেরিকা চলে গেলে সবাই যেমন মন্তব্য করতো

২২১৮ পঠিত ... ১৮:৩৬, নভেম্বর ২৫, ২০১৮

সম্প্রতি ফেসবুকে বরিশালের অপু মণ্ডলের প্রেমে আমেরিকা থেকে বরিশালে চলে আসেন আমেরিকার সারাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে গরম। আমরা বাঙালিরা মানুষের প্রেমও দেখতে পারি না, অপ্রেমও দেখতে পারি না। কেউ ভালো করলেও খুত খুজিঁ, কেউ খারাপ করলে তো কথাই নেই। সেই নিয়মে অপু মন্ডলও সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিগালাজ এবং হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছেন। তবে এসব হেট স্পিচের ভিড়ে 'বাংলাদেশের প্রেমিকরাই প্রকৃত প্রেমিক', 'বাংলাদেশের প্রেমিকদের প্রেমের টান এতই যে দেশের বাইরের মেয়েরা দেশে চলে আসে' অর্থাৎ অপু মন্ডলকে কৃতি প্রেমিক স্বীকৃতি দেয়া মন্তব্যও দেখা গেছে। অপু মণ্ডল কৃতি প্রেমিক বটে, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ভাবুন তো, বাংলাদেশের কোনো মেয়ে যদি আমেরিকার কোনো ছেলের প্রেমের টানে আমেরিকা চলে যেত? তাহলেও কি বাংলার ফেসবুকাররা তাকে মেনে নিত?

ফেসবুকে নারী সেলিব্রেটি তো বটেই, সাধারণ নারী ফেসবুকারদের ছবি কিংবা পোস্টে যেসব আক্রমণাত্মক কমেন্ট, বডি শেমিংসহ নানা রকম হেট স্পিচ দেখতে পাই, তাতে আন্দাজ করা যেতেই পারে, এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের ফেসবুকার তথা সমাজের মানুষরা কেমন মন্তব্য করতে পারে। কিছুক্ষণের জন্য নিজের বিচার-বুদ্ধি-বিবেককে পজ করে ফেসবুকের হেট স্পিচ দেয়া মানুষদের মতো করে চিন্তা করার চেষ্টা করেছিল আমাদের সামাজিক গণমাধ্যম গবেষক দল। কেমন হতো আমাদের ফেসবুকারদের কমেন্ট---

 

১# আজকাল দেশীয় যন্ত্রে আর মজা পায় না। বিদেশী যন্ত্র টেস্ট করতে গেছে।

২# মেয়েদের কোনো কালেই দেশপ্রেম ছিল না। এই মাতৃভূমি মা জননী ছেড়ে তারা আমেরিকা যায় কীভাবে? 

৩# দেখ দেশে কি অকাম ঘটায় রাখছে। নাহলে সাধে কি আর আমেরিকা যায়...

৪# ফর্সা চামড়া দেখে ভুলে গেছে। দুইদিন পর লাত্থি মেরে পাঠায় দিলে বুঝবে ঠ্যালা।

৫# এই মেয়েকে আমি ছোটকাল থেকেই চিনি। এই মেয়ে বেয়াদব। রাস্তায় ওড়না ছাড়া বের হইতো। দেশে সুযোগ করতে পারে নাই, বেলাল্লাপনা করার জন্য বিদেশ গেল।

৬# সব দোষ ওই মেয়ের মায়ের। গিয়ে দেখেন ওই মহিলাও পরকীয়া করে বেড়ায়।

 

 

৭# এটা এই সরকারের ব্যর্থতা। দেশের মেয়েকে দেশে রাখতে পারছে না। এই সরকার দিয়ে আমরা কী করিব?

৮# দেশে তো আর এমনি এমনি ব্যাঙের ছাতার মতো পার্লার গজাই উঠে নাই। চামড়া লোভনীয় কর আর বিদেশে গিয়ে মা* খাও।

৯# নিশ্চয়ই 'ফিফটি শেডস অব গ্রে' দেখে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারতেছে না। নতুন নতুন স্টাইল এক্সপেরিমেন্ট করার শখ জাগছে। এইজন্য আমেরিকায় চলে গেল। 

১০# এ কি শনি ভর করলো! দেশে মেয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার আগে দ্রুত বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে।

১১# এই মেয়েকে আর দেশে ঢুকতে দেওয়া উচিত হবে না। এই মেয়ে তো উচ্ছন্নে গেছে। দেশে এসে ভাইরাস ছড়াবে।

১২# আজ শুনেছেন প্রেমের টানে উড়ে যাওয়ার খবর। কাল শুনবেন এইচএইভি ভাইরাস থাকার কারণে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার খবর।

১৩# সারাদিন আরও নারী স্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা বলে মুখে ফেনা তোলেন। দেখলেন তো নারী স্বাধীনতার ফল। দেশের মুখে চুনকালি দিয়ে আমেরিকা চলে গেল।

 

 

১৪# শিক্ষিত মেয়েরা এরকমই হয়। বেটার অপশন পাইছে। চলে গেছে।

১৫# দাও আরও ফেসবুক দাও। আমাদের কথা তো কেউ শোনে না।

১৬# মন্ত্রীরা বিদেশে টাকা জমায়। মেয়েটা প্রেম জমাইছে। সমস্যাটা কি বুঝতেছি না।

১৭# যেদিন মেয়েরা খেলার মাঠে নেমেছে সেদিনই আমি বুঝতে পারছিলাম, এমন কলিকাল আসতে আর বেশি দেরি নেই!

১৮# ছেলেরা, ভালো হয়ে যাও। মেয়েদের জন্য কিন্তু এখন বৈদেশিক বাজারও উন্মুক্ত!

১৯# মেয়েরা কোনোকালেই দেশের কঠিন মুহুর্তে পাশে ছিল না। আপনারা তো একটা মেয়ের চলে যাওয়ার খবর পাইছেন। তলে তলে দেখেন আরও কতজন চলে গেছে। মিডিয়া তো আছে শুধু মন্ত্রীদের সমালোচনা নিয়ে। 

২০# মেয়েদেরকে চার দেয়ালের মাঝেই বন্দি রাখা উচিত। 

 

[পরিশিষ্ট: এই ধরণের মন্তব্য যারা করতে পারেন, তারা হয়তো আপনার আশেপাশেরই কেউ, আপনারই বন্ধু, আত্মীয় কিংবা আপনজন। তাদের এসব মানসিকতার বদল হোক। মানুষের প্রেমকে অন্তত এপ্রিশিয়েট করতে শিখুক। আমরা চাই না, এমন মন্তব্য দেশের কোনো মেয়েকে দেশে কিংবা বিদেশে, কোথাওই শুনতে হোক!]

২২১৮ পঠিত ... ১৮:৩৬, নভেম্বর ২৫, ২০১৮

Top