বিভূতিভূষণের 'পথের পাঁচালী' পড়ার পর পুলিশ যেমন রিপোর্ট জমা দিতে পারে

১২১৩ পঠিত ... ১৩:৫৬, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

শুরু হয়ে গেলো বাংলা একাডেমি বইমেলা! বইমেলায় প্রকাশিতব্য বই নাকি এবছরও পুলিশের নজরাদারিতে থাকবে, 'আপত্তিকর' কিছু পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধরুন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালীর রিপ্রিন্ট প্রকাশিত হলো এবারের মেলায়। পুলিশ তা পড়লো এবং পড়ার পর রিপোর্ট করলো অনেকটা এমন-

১. বইয়ের নামটি একটি বিখ্যাত সিনেমা থেকে মেরে দেয়া হয়েছে। গল্পের প্রায় পুরাটাই সিনেমা থেকেই নেয়া হয়েছে। কপিরাইট আইন অনুসারে প্রথমেই মামলা হওয়া প্রয়োজন।

২. বিখ্যাত ওই সিনেমাটা দেখা যায় না। বেজায় সাদাকালো। সিনেমা স্লো। অ্যাকশন নাই বললেই চলে। শেষের দিকে একটা কয়লারর ট্রেন দেখাইছে হুদাই। ট্রেইন থেইকা কেউ নামেও নাই, ওঠেও নাই। কোনো স্টেশনও দেখায় নাই, আশ্চর্য!

৩. বইটা সিনেমাটার চাইতেও বেশি স্লো। আর ভারি ভারি কথা খালি। বেশিক্ষণ পড়া যায় না। পড়লে খুবই ঘুম আসে। আমি নিজেই সাতবার কী আটবার ঘুমাই গেছিলাম। এদিকটা খেয়াল করে পথের পাঁচালী চিকিৎসা শাস্ত্রের বই হইতে পারে। ঘুম না আসা রোগীদের তিন বেলা তিন ডোজ দেওয়া গেল। সুফল আশু পাওয়া যাইতে পারে।

৪. বইয়ে কিছু ভুল আছে। যেমন ওই বুড়িটা বইয়ে আগেই মারা যায়। লেখক নিজের বুদ্ধি খাটাইতে গেছে আর কি। গিয়া বই বেড়াছেড়া কইরা ফেলছে। নতুন লেখকদের নিয়া এই এক অসুবিধা! এরা কপি করতে পারে না। নিজের ঘিলু এস্তেমাল করতে গিয়া সব হযবরল কইরা ফেলে। পুরাপুরি কপি করলে এর চেয়ে ভালো হইত।

৫. বইয়ে দুর্গা নামের মেয়েটারে বিশিষ্ট চুন্নি হিসাবে দেখানো হইছে। সে গ্রামের ফল ফলাদি চুরির সাথে গয়নাও চুরি করে। অথচ সে মইরা যায় কোনো বিচার ছাড়াই। লেখক এইটা খুবই গর্হিত কাজ করছেন। তার উচিত ছিল দুর্গাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা। কারণ আইন সবার জন্য সমান। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলেই লেখকেরা এমন চ্যাংড়ামি করতে পারে। এই বই প্রকাশিত হুলে মানুষের আইনের শাসনের উপর শ্রদ্ধা উঠে যাবে।

৬. যাই হোক পথের পাঁচালী মেলায় ইনসমনিয়ার রোগীরা কিনতে পারে। তবে বইটা অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখতে হবে। না হলে শিশুরা দুর্গার মতন চোর হইয়া উঠতে পারে। সমাজে চোরের এমনিতে কমতি তো নাই।

 

১২১৩ পঠিত ... ১৩:৫৬, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

Top