কর্মজীবী মা মীনা, স্বামী সাজুর সঙ্গে একদিনের কাজ অদলবদল করায় যা ঘটলো...

৭২৬৪ পঠিত ... ২২:২২, মে ১৪, ২০১৭

রাত এগারোটা। মীনা ঘুমোতে যাচ্ছে।

কেবল রাত এগারোটা বাজতেই ঘুমোতে যাচ্ছে দেখে মীনার স্বামী সাজু একটু মনঃক্ষুণ্ণ হলো। ‘ঘটনা কী? কালকে তো আমাদের দুইজনেরই ছুটি, এত তাড়াতাড়ি ঘুমায় গেলে হইব? আসো একটু গপ সপ করি। সুখ দুঃখের কথা বলি!'

মীনা ক্লান্তির সঙ্গে উত্তর দিল, 'আর কইয়োনা সাজু, সারাদিন এত খাটাখাটনির পর, আর ভাল্লাগতাছে না, আমি একটু ঘুমাই।'

-কী এমন কঠিন তোমার কাম?

-আমার কাম কঠিন না?

-কেমনে কঠিন? তুমিও একটা চাকরি করো, আমিও চাকরি করি। আমার মত তো তাও তোমার এত ছুটাছুটির কাজ না। তাও এত টায়ার্ড হওয়ার কী আছে!

-ঠিকাছে তাইলে, কাইল তো আমাগো ছুটি, চল আমরা বদলাবদলি করি, তোমার কাম আমি করুম, আমার কাম তুমি করবা?

-এটা কোন ব্যাপার অইলো? তাইলে চলো বদলাবদলি করি।

সকাল সাড়ে পাঁচটায় এলার্ম বাজল মোবাইলে, তাও সাজুর ঘুম ভাঙেনা। মীনা তাকে জাগিয়ে দিয়ে বলে, 'সাজু, ঘুম থেইকা ওঠো, ঘরডা ঝাড়ু দাও আগে।'

সাজু ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানা ছেঁড়ে উঠল, কিন্তু ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে সে দেখে যত স্পিডেই ঝাড়ু ঘোরাক না কেন সে, ময়লা আর সরে না। এরই মাঝে মীনা আবার তারে ডাক দিয়ে বলে, 'সাজু, আমারে আজকের একটু পেপারটা দিয়া যাইও তো।' সাজুর হয় মেজাজ খারাপ, আরাম করে বিছানায় শুয়ে মোড়াচ্ছে আবার পেপার চায়! ফাইজলামি? তারপর আবার মনে পড়ে, আজ তারা কাজ বদলাবদলি করেছে। পেপার দিয়ে আসে সে, কিন্তু পেপার দিয়ে আসতে গিয়ে মেজাজ হয় আরো খারাপ, মীনা তখন বলে, 'এক কাপ চা দিয়া যাইও সাজু আমারে, লগে দুইডা বিস্কুট।' কটমট করতে করতে সাজু চা-বিস্কিট দিয়ে যায়।

পেপার হাতে নিয়ে চা-বিস্কিট খায় মীনা, তারপর সাজুকে ডাক দিয়ে বলে, “আমি একটু বাইরে গেলাম সাজু, তুমি বল্টুরে ঘুম থেইকা উঠায়া স্কুলের লাইগা রেডি করো, আর পল্টু বাবুরে উঠাইয়া দুধডা গরম কইরা খাওয়াও আর নাশতাডা রেডি রাইখখো, আমি আইলে খাইতে দিবা।' একবার সাজু ভাবে সে বাসার ছাদে গিয়ে লাফ দেয়, কিন্তু হাজার কষ্টে সে নিজেকে সামলায়। সে পল্টু বল্টুর ঘরে যায়। পল্টু বাবুকে ঘুম থেকে উঠাতে গিয়ে সে দেখে, পল্টু বাবু বিছানায় হিসু করে দিয়েছে। মেজাজ হয় আরও খারাপ, কিন্তু তারপরই তার মনে পড়ে আজ 'অদলাবদলি'।

সে পল্টুকে  ঘুম থেকে উঠায়, তাকে পরিষ্কার করে, বিছানা পরিষ্কার করে, দুধ খাওয়ায়, বল্টুকেও রেডি করে। মীনা বাইরে থেকে হেঁটে আসলে তাকে নাস্তা দেয়, তখন তার মেজাজ হয়ে যায় আরও খারাপ। এত কাজ করার পরও কিনা মীনা নাস্তা খেতে খেতে তাকে বলে, রুটি কেন কম গোল হল? ডিম কেন সে পুড়িয়ে ফেলল? তাহলে কি মানবতা বলতে কিছু নেই? এই মুহুর্তে সাজুর মনে পড়ে, সেও প্রায়ই মীনাকে এমন সব প্রশ্ন করে, অভিযোগ করে। সাজুর অনুশোচনা হতে থাকে।

মীনা বলে, 'তাইলে আমি বল্টুরে ইশকুলে দিয়া আসি, তুমি পল্টুরে সামলাও, আর হুনো দুপুরে লাইগা খাওন রেডি কর, ঘর দুয়ার মুইচ্ছা রাইখখো, আর কাপড় ধুইয়া রাইখখো।' এই বলে মীনা গট গট করে বেরিয়ে যায়। তারপর সাজু নিজের মাথা নিজে চাপড়াতে থাকে, কে তাকে কাল রাতে বলেছিল মীনার সাথে গপশপ করতে চাইতে, অদলাবদলি করতে? তারপরও সাজু সব কাজকর্ম করে। সাজু ভাবতে থাকে, যেসব দিন মীনার অফিস থাকে, সে সব দিনেও এই সব কাজ ঠিকঠাক হয় কীভাবে? সাজু কোনোভাবেই বুঝতে পারে না!

মীনা দুপুরে বাসায় ফেরে। খেতে বসতেই সাজুকে খোটা দেয়, তরকারিতে লবণ কেন কম হলো, ঝাল বেশি কেন! সাজুর মেজাজ খারাপ হয়, আরে এত কাজ করার পর খাবার রান্না করেছে সে এই তো বেশি! এইজন্যেই তো ভালোমানুষের মত চুপচাপ খেয়ে ফেলা উচিৎ মীনার, আর সে এসেছে তরকারির লবণ নিয়ে কথা বলতে? সাজু আবারও নিজের রাগ সামলে নেয়, যখন তার এমনই অন্য সব দিনের কথা মনে পড়ে যায়।

সন্ধ্যা হলে মীনা তাকে বলে নাস্তা রেডি করতে। মাঝখানে আবার মেহমান আসলো বাসায়, তখন মীনা মেহমানদের সাথে গল্প করছিল আর সাজুকে করতে হয়েছে মেহমানদারি। মেহমানরা সাজুর চেহারা দেখেই জিজ্ঞেস করে সাজু অসুস্থ কিনা। পরে তাদের অদলাবদলির কাহিনী শুনে তারা হাসতে হাসতে শেষ। রাতের বেলা আবার সাজুকে রান্না করতে হয়, পল্টু বল্টুকে খাওয়াতে হয়, ঘুম পাড়াতে হয়। রাতের বাসনগুলো মাজতে হয়। এরপর আবার ঐ নিষ্ঠুর মীনা বলে তাকে চা করে খাওয়াতে। সাজু চা করে তাকে খাওয়ায়, তারপর বিছানায় শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ে।

মীনা তখন তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'কী সাজু? এত তাড়াতাড়ি ঘুমায়া পড়লা যে? আসো একটু গপসপ করি?'

সাজু উত্তর দেয়, 'আজকে আমি মেলা কাম করছি মীনা, আমার আর ভাল্লাগতাছেনা।' এই বলে কম্বলটা মুড়ি দিয়ে অন্যপাশে ঘুরে ঘুমিয়ে পড়ে।

৭২৬৪ পঠিত ... ২২:২২, মে ১৪, ২০১৭

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top