বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডের সাথে আমার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর যা ঘটলো

১৬৫ পঠিত ... ২১:৫০, জুন ১৩, ২০১৯

আমি সাকিব।
সদ্য পাস করা গ্র‍্যাজুয়েট.. পাশের বাসার আন্টির ভাষ্য মতে বেকার ইঞ্জিনিয়ার!

আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ দুইজন মানুষ হলো আবীর আর অনন্যা। প্রথমজন আমার ন্যাংটাকালের ফ্রেন্ড। ছোটবেলা থেকে এক স্কুল, তারপর জিলা স্কুল, তারপর সেইম কলেজ, তারপর সেইম ভার্সিটি এবং সেইম ডিপার্টমেন্ট... এককথায় আমার বেস্টফ্রেন্ড।

অনন্যার দুইটা পরিচয়... প্রথম পরিচয়টা হলো আবীরের গার্লফ্রেন্ড। আর দ্বিতীয় পরিচয়টা হচ্ছে আমার ভার্সিটি লাইফের প্রথম এবং শেষ ক্রাশ। ক্রাশ থেকে আর কিছু হয় নাই। কারণ ওই আবীর, আমার বেস্টফ্রেন্ড.. সত্যি বলতে অনেকবার ভাবছি ব্রেকআপ করায়ে ফেলবো দুইজনের। কিন্তু যার সাথে মাঝরাতের একমাত্র বেনসন শেয়ার করা যায় তার গার্লফ্রেন্ডকে নিশ্চয়ই কেড়ে নেয়া যায় না!

এইবার মাঝের কাহিনী একটু শর্টে বলি... অনন্যা আমার আর আবীরের দুই ব্যাচ জুনিয়র। আবীরের ফ্যামিলি কন্ডিশন ভাল না খুব একটা। বেসরকারি জবে ঢুকেছে একটা। কোনমতে বাপ-মা, ছোটবোন আর নিজের খরচ চালায়। অনন্যার ফ্যামিলি থেকে আবীরকে মেনে নেবে না। এইদিকে আমার আম্মাজানও মাশাল্লাহ তার বেকার ছেলের বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগছে। কই থেকে কই থেকে যেন মেয়ের খবর নিয়ে আসে।

দুনিয়ায় মানুষজনের সাথে হরহামেশাই উদ্ভট সব ঘটনা ঘটে। আমাদের তিনজনের (!) সাথেও ঘটলো।
এক সকালে আম্মা দেখি এক মেয়ের খোজ নিয়ে এসেছে... আমার বেস্টফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ড!

আমি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠি। অনন্যারে মেসেঞ্জারে নক দেই... একটু পরে রিপ্লাই আসে, 'সাকিব ভাই, আপনি কি বলবেন তা জানি আমি। আমার বাসায়ও আব্বু আপনার কথা বলছে... আপনার আব্বা আর আমার আব্বু কেমনে কেমনে জানি আত্মীয় হয়। তারাই ঠিক করে ফেলছে সবকিছু!'

ওইদিন বিকালেই ওর সাথে দেখা করতে রাজশাহী গেলাম। মিনহোয়াইল, আবীর কিছুই জানে না। আমি চাই না আমার বেস্টফ্রেন্ড এ ব্যাপারে কোন প্যারা খাক!

ইবলিশ চত্ত্বরে বসে সিগারেট ফুঁকছি, এমন সময় অনন্যা আসলো হেলতে দুলতে... আমার প্রথম এবং শেষ ক্রাশ, আমার বেস্টফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ড! বিশ মিনিট কথা বলার পর যা বুঝতে পারলাম, মেয়ে পুরাই এরশাদের মতো পল্টি মারছে... সে আমারে বিয়ে করতে রাজি! আমার ক্রাশ আমারে বিয়ে করতে রাজি!!

আমার মনে স্লাইড শো শুরু হয়ে গেল (!), কিন্তু প্রতিটা স্লাইডে ওয়াটার মার্কে আবীরের ছবি, আমার বেস্টফ্রেন্ডের ছবি। নাহ, জিগরি দোস্তের সাথে এই বেইনসাফি আল্লাহও সইবে না। অনন্যা কিছু বুঝবে না আর, ওরে বোঝানোর চেষ্টা করে লাভও নাই..

না পেরে আবীরকে নক দিলাম... ও বললো সব জানে ও। অফিস থেকে বের হয়ে কল দিবে।

আবীরের কলের জন্য ওয়েট করতে থাকি আমি... সিগারেট ফুকি আর ওয়েট করি... ওয়েট করি আর সিগারেট ফুকি...

অবশেষে আবীরের কল আসে। আমার হাত কাঁপছে... কলটা রিসিভ করি কোনমতে....

: সাকিব!

কোনমতে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম 'বল দোস্ত '...

 

 

 

 

 

 

: সাকিইইইব...
খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার!

১৬৫ পঠিত ... ২১:৫০, জুন ১৩, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top