মা, তোমাকে আগুনের মতো ভালোবাসি : মাদার অফ ড্রাগনকে দ্রোগোনের খোলা চিঠি

১৬৬ পঠিত ... ২০:২৫, মে ১২, ২০১৯

 

মা,

কখনো তোমাকে মুখ ফুটে বলতে পারিনি কতটা ভালোবাসি। একবার বলতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তখনই তুমি ‘ড্রাকারিস’ বলায় মুখ থেকে কথার বদলে আগুন বের হয়ে গিয়েছিল। সে কথা ভাবলেও লজ্জায় পুড়ে যাই!

এই দেখো, আজকে নাকি মা দিবস, তাও তোমাকে ‘হ্যাপি মাদার্স ডে’ বলে জড়িয়ে ধরতে পারছি না, লজ্জা করছে। এটাই মধ্যবিত্ত জীবন! তাই না মা? অথচ সবাই ফেসবুকে কত পোস্ট দিচ্ছে, তাদের মায়েদের সাথে ছবি দিচ্ছে। আমি সেটাও দিতে পারছি না। তুমি তো আমাকে ফেসবুকই খুলতে দাওনি। তাই নিরুপায় হয়ে লিখছি এই চিঠি…

মা, এসোসের কোথায় আমাদের বাবা-মা ছিল, কোথায় আমরা ছিলাম... সেসবের কিছুই জানি না! কিছু জানতেও চাই না। যেদিন তুমি আমাদের নিয়ে চিতায় উঠেছিল সহমরণের উদ্দেশ্যে, ঠিক সেদিন থেকে তুমিই আমাদের মা! জন্মেই দেখি বাবা নেই! আমি কৃতজ্ঞ, আমার নাম তুমি রেখেছ বাবার নাম থেকে। এতদিন হয়ে গেলো, এখনো তোমার সবগুলো উপাধি আমার মুখস্থ হয়নি। তুমি খালিসি, মাদার অফ ড্রাগন, ব্রেকার অফ চেইন, দ্যা লাস্ট টারগারিয়েন যা কিছুই হও না কেন, আমার জন্য তুমি শুধুই মাদার অফ দ্রোগোন!

মা, তোমার জীবনে অনেক কষ্ট আমি তা জানি। যখন তোমার কথা ছিল রাজকন্যা হয়ে রেড কিপে ঘুরে বেড়ানোর, তখন তুমি জীবন বাজি রেখে লুকিয়ে থেকেছ ঘর থেকে কত দূরে। ড্রাগনস্টোনে তোমার শৈশব কাটানো হয়নি। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে ঐ অবৈধ খুনি রাজা রবার্ট বারাথিওনের হাত থেকে। তবে এসব হয়েছিল বলেই না তুমি আমাদের পেয়েছিলে। বড় করলে, কতো কষ্টে।

তোমার মনে আছে, আমরা যখন খুব ছোট তখন তুমি আমাদের নিয়ে কার্থ-দেশে গেলে। কার্থের ওরা আমাদের বন্দী করল। তারপর তুমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের উদ্ধার করতে এলে। মা, তোমার মনে আছে? কতটা আবেগ নিয়ে তুমি আমাকে বলেছিলে, ‘ড্রাকারিস’?

মা, কত অবাধ্য হয়েছি তোমার কথার। রেগাল আর ভিসেরিওনের সাথে মারামারি করতে গিয়ে একদিন তোমার সাথে অনেক চিৎকার চেঁচামেচি করে ফেলেছিলাম! সেদিন তুমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলে। আমি না তখন বুঝতে পারিনি… পরে সেদিন রাতে অনেক মন খারাপ হয়েছিল। আমি একা একা কেঁদেছি সারা রাত। কিন্তু তোমাকে একটাবারের জন্যেও বলতে পারিনি, স্যরি!

আজ যেহেতু এত কিছু বলে ফেলছি, আরেকটা কথাও বলে ফেলি। কিছু মনে করো না। তোমার এখনকার বয়ফ্রেন্ডকে আমার একদমই ভালো লাগেনি। কিন্তু ঐ দারিও নাহারিস আঙ্কেলকে পছন্দ হয়েছিল খুব। জোরাহ আঙ্কেলও খুব ভালো ছিল। কেন যে তুমি ওকে সারাটা জীবন ফ্রেন্ডজোন করে রাখলে!

সার্সেই নামের ওই বদ মহিলাটা তোমাকে কষ্ট দিয়েছে, শেষ করে দিয়েছে আমার প্রিয় মিসানদেই খালামণিকেও। ওকে আমি একেবারে ড্রাকারিস করে দেবো। তবু তোমার মুখে আমি হাসি ফোটাবোই মা!

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা যেমন জন্ম নিয়েই তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার লড়াইয়ে নেমে পড়ে, আমিও ঠিক তেমনি জন্ম নিয়েই তোমার আইরন থ্রোনে বসার স্বপ্ন পূরণ করতে লড়াই করছি। সেই স্বপ্ন পূরণে আমার দুই সহোদর নিজেকে নিঃশেষ করেছে, প্রয়োজনে আমিও করবো। তবুও তোমার স্বপ্ন আমি পুরণ করবোই মা। তোমাকে যে আমি আগুনের মতো ভালোবাসি!

১৬৬ পঠিত ... ২০:২৫, মে ১২, ২০১৯

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top