ক্রাশ খাওয়া জুনিয়র ছেলেটা যে কারণে অজ্ঞান হয়ে গেলো

১৭৮৩ পঠিত ... ২০:৩০, মার্চ ১৪, ২০১৯

কয়দিন ধরে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়া একটা ছেলে খুব বিরক্ত করছিলো। প্রথমদিন যখন তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল আমি তখন কলেজের মাঠে বসে ফেসবুক চালাচ্ছি। সে এসে আমার পাশে বসে বলল, 'কেমন আছো?'

: ভালো!
: তোমাকে দেখে মনেই হয় না তুমি ইন্টারে উঠে গেছ। বরং মনে হয় স্কুলে নাইন টেনে পড়ো।

আমি লাজুক হেসে বললাম, 'ঠিক‌ই ধরেছেন, আমার বাবা-মা অল্প বয়সে আমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন নাহলে এখন‌ বেশি হলেও টেনে থাকতাম।'

: তোমার বয়স কিছুতেই সতেরোর বেশি না! আমার তো মনে হচ্ছে ষোল।
: আসলে পনের!
: হাউ কিউট! আমিও সেরকম‌ই ভাবতেছিলাম। কোন বিভাগ?
: মানবিক।

আচ্ছা দেখা হবে,‌ বলে সেদিনের মতো সে বিদায় নিলো।

অলংকরণ: জোনাকি

পরদিন কলেজে ঢোকার মুখেই ছুটতে ছুটতে এলো।

: ইয়ে মানে তোমার নামটা যেন কি.. পেটে আসছে মুখে আসছে না।

আমি মনে মনে ভাবছি, 'ক্যাবলাকান্ত, তোমার পেটে এলো কিভাবে? আমি তো নাম‌ই বলিনি।'
মুখে বললাম, লাবণ্য।

ওহ ওয়াও! নামের মতোই সুন্দর তুমি.. বলে সে একটু লজ্জা পেয়ে গেল। যদিও লজ্জা পাওয়ার কথা আমার।‌
: চলো‌ ঝালমুড়ি খেয়ে আসি।

তার সাথে ঝালমুড়ি খেলাম। সরাসরি ফোন নাম্বার চাইতে পারছে না সুতরাং ইনিয়ে বিনিয়ে বললো, 'তোমার ফেসবুক একাউন্টটা দেয়া যাবে?'

সেই মুহূর্তে আমার দুইজন বান্ধবী ডাক দিল, 'এই লাবণ্য! ক্লাসে চল!'

দুজন‌ই বিবাহিত, বাচ্চাও আছে। তার ছাপ তাদের শরীরেও পড়েছে। সুতরাং ছেলেটা অবাক হয়ে বললো, 'এই বড় আপু দুটো কোন ক্লাসে যাইতে বলছে তোমারে?'

: অনার্সের ক্লাসে। থার্ড ইয়ারে উঠব এবার। সেকেন্ড ইয়ারের টেস্ট পরীক্ষা চলছে। দোয়া রেখো।

ছেলেটার মাথার ভেতর হাল্কা চক্কর দিয়ে উঠলো মনে হয়। ঝালমুড়ির গাড়ি ধরে নিজেকে সামলালো।

আরো বড় ধাক্কা দেয়ার জন্য আমি এড করলাম, 'আসলে আমার বেবির বয়স দেড় বছর, এই বয়সী বাচ্চা রেখে পরীক্ষা দিতে আসা খুব কষ্ট হবে। কিন্তু কি আর করা। কষ্টেসৃষ্টে দুইটা বছর‌ই তো! আমার বেবিকে দেখবা? আমার মতোই কিউট। ছুটির সময়ে এইখানে থেকো, আমার হাজবেন্ড নিয়ে আসবে ওকে। মানে আমার দ্বিতীয় হাজবেন্ড। প্রথমজনের সাথে বনিবনা হয়নি, লম্বা কাহিনী... তোমাকে পরে একদিন...'

শেষ করতে পারলাম না। ছেলেটা তার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেলো...

লেখা: জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

১৭৮৩ পঠিত ... ২০:৩০, মার্চ ১৪, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top