রুহামনামা ৩ : ওয়াইফ অ্যান্টটাকে খেয়ে ফেললে হাজবেন্ড অ্যান্টটা অ্যাংরি হল কেন?

৮০৫ পঠিত ... ২১:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

[ছড়াকার রোমেন রায়হানের এগারো বছর বয়সী একমাত্র সন্তান রুহাম। একমাত্র হওয়ার কারণে রুহামের সারাদিনের গল্প, স্কুলের গল্প, বন্ধুদের গল্প সবই তার বাবা-মায়ের সাথে। হুট করে একদিন রুহামের বাবা খেয়াল করলেন, ছেলের কার্যকলাপ কিংবা কথাবার্তা তো বেশ মজার! তবে সমস্যা একটাই, রুহামের প্রতিদিনের মজার কর্মকান্ড দিন না ফুরোতেই তিনি ভুলে যাচ্ছেন। তাই পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করেই একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন, রুহামের পাকামি, বোকামি, দুষ্টুমিগুলো লিখে রাখার। রুহামকেন্দ্রিক সেই রচনাগুলো নিয়েই 'রুহামনামা'। যা পড়লে আপনি কখনো হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বেন, নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়বে, অবাক হবেন বা কখনো মমতায় আপনার হৃদয় আর্দ্র হয়ে উঠবে।--সম্পাদক] 

 

 

সম্পর্ক

রুহামের ক্রিয়েটিভ আইডিয়া বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গল্প বানানো খেলা। রুহামকে ৫টা শব্দ বলা হবে, সেই ৫টা শব্দ ব্যবহার করে গল্প বানাতে হবে।
আমি: রুহাম, আমি তোকে ৫টা শব্দ বলবো। এইগুলো দিয়ে গল্প বানাতে হবে।
রুহাম: বল।
আমি: একটা দুষ্ট ছেলে, তার নাম রুহাম।
রুহামঃ না না রুহাম না। আরহাম (ওর ক্লাসের বন্ধু আরহামের সাথে ওর বোধ হয় ইদানীং খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে)।
আমি: ওকে। দুষ্ট ছেলে আরহাম, সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, পিঁপড়া। এই ৫টা শব্দ দিয়ে গল্প বানাতে হবে।
রুহাম: ঠিক আছে।
আমি: তাহলে বল।
রুহাম: এক দেশে একটা দুষ্ট ছেলে ছিল। ওর নাম আরহাম। একদিন আরহাম একটা সাপ ধরে আনল।
আমি: তারপর?
রুহাম: আরহাম সাপকে বলল, সাপ! তুমি ব্যাঙকে খেয়ে ফেল। সাপ যেই ব্যাঙকে খেতে গেলো...ব্যাঙ লাফ দিয়ে পালিয়ে গেল। তারপর আরহাম বলল, সাপ, তুমি ইঁদুরকে খেয়ে ফেল। সাপ হা করতেই ইঁদুর দৌঁড়ে চলে গেলো।
আমি: তারপর?
রুহাম: তারপর আরহাম সাপকে বলল অ্যান্টকে খেয়ে ফেলতে। সাপটা কপ করে ওয়াইফ অ্যান্টকে খেয়ে ফেললো। এটা দেখে হাজবেন্ড অ্যান্টটা অনেক অ্যাংরি হল। হাজবেন্ড অ্যান্টটা কামড়াতে কামড়াতে আরহামের মুখটা ফুলিয়ে লাল করে দিল।
আমি: (মজা করার জন্য বললাম) কী রে রুহাম! ওয়াইফ অ্যান্টটাকে খেয়ে ফেললে হাজবেন্ড অ্যান্টটা অ্যাংরি হল কেন? তোর আম্মুকে খেয়ে ফেললে তো আমি খুশিই হতাম।
রুহাম: (মুখ গম্ভীর করে) ওদের সম্পর্ক ভাল ছিল।
রুহামের আম্মু: ওই, তোর বাবার সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ তোকে কে বলল?  

 

বান্ধা বুয়া 

অফিস থেকে বাসায় ফেরার সাথে সাথে রুহাম দৌঁড়ে আমার কাছে এসে বলল--
রুহাম: বাবা! বাবা! আম্মু না বান্ধা বুয়া রেখেছে!
আমি: তাই নাকি!
রুহাম: আচ্ছা বাবা, এই বুয়াকে কি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবে?
আমি: কী কথা! দড়ি দিয়ে বাঁধবে কেন?
রুহাম: না বাঁধলে ওর নাম বান্ধা বুয়া কেন?

আমি নিরুত্তর।

 

ক্রিকেট ক্রিকেট 

বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী কিছুদিন পর পরই বদলায়। একগাদা নানান জাতের খেলনা গাড়ি ফেলে রুহাম এখন পড়েছে ক্রিকেট নিয়ে। সুযোগ পেলেই ক্রিকেট ব্যাট আর বল হাতে। রুহামের আম্মু যদি ব্যাট বল লুকিয়ে ফেলে তাহলে খালি হাতেই শ্যাডো ব্যাটিং আর বোলিং চলতে থাকে।

তার যাবতীয় প্রশ্নও ক্রিকেট ঘিরে। সবচেয়ে বেশি রান কার? টি-টুয়েন্টিতে ফাস্টেস্ট সেঞ্চুরি কে করেছে? বিরাট কোহলির উইক জোন কোনটা? এক বলে কী সাত রান নেয়া সম্ভব? ক্রিকেট বিষয়ক নানা এঙ্গেলের নানান প্রশ্ন। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেই রুহামের আম্মুর চিৎকার, ‘এই যে! বাপটাই ছেলেটাকে নষ্ট করছে’। তবে সত্যি কথা হল রুহাম যতটা ক্রিকেট খেলতে পারছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ বকা খাচ্ছে ক্রিকেট-বিষয়ক উন্মাদনার জন্য। 

রুহাম আর আমি রুহামের আম্মুর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আইপিএল-২০১৬ দেখছি। ক্রিকেটারদের নাম বিষয়েও রুহামের কৌতূহলের নমুনা দেই। এমএস ধোনি ব্যাটিং করছে... 

রুহাম: বাবা! ওর নাম ধোনি কেন?
আমি: ওর বাবা-মা এই নাম রেখেছে।
রুহাম: নাকি ও অনেক রিচ--এই জন্য ওর নাম ধোনি?
আমি: ও অনেক রিচ হওয়ার আগেই ওর বাবা নাম রেখেছিল ধোনি।
রুহাম: বাবা, ওর নামের সামনে যে এমএস, এই এমএস মানে কী?
আমি: মহেন্দ্র সিং। সংক্ষেপে এমএস।
রুহাম: আচ্ছা বাবা, ওর নাম যদি মহেন্দ্র রানিং সিং ধোনি হত, তাহলে ওকে কী ডাকতো?
আমি: কী ডাকতো?
রুহাম: মিসেস ধোনি।
আমি: (বিস্মিত) কেন?
রুহাম: এমআরএস ধোনি মানে তো মিসেস ধোনি, তাই না?
আমি: অ! 

রুহাম: (আরেকদিন টিভিতে খেলা দেখতে দেখতে) বাবা, ওর নাম কাইল অ্যাবট রেখেছে কেন?
আমি: নাম রাখা হয়েছে, এই জন্যই ওর নাম ‘কাইল অ্যাবট’।
রুহাম: ও যদি বাংলাদেশে জন্মাত, তাহলে ওকে লোকে কী ডাকতো?
আমি: কী ডাকতো? কাইল অ্যাবটই ডাকতো।
রুহাম: না বাবা। ওকে ডাকতো ‘কাইলা ভূত’।
আমি: (ধমক দিয়ে) রুহাম, একদম চুপ।

 

ট্টগ্রাম 

রুহামকে ওর টিচারের বাসা থেকে নিয়ে ফিরছি। ওর টিচার কেমন জানার ইচ্ছা হলো-- 

আমি: রুহাম, তোর টিচার কেমনরে!
রুহাম: অনেক ফানি।
আমি: অনেক ফানি কেন?
রুহাম: আমাকে ডাকে ‘হাম বার্গার’।
আমি: হাম বার্গার কেন?
রুহাম: রুহাম থেকে হাম নিয়ে নাম বানিয়ে ফেলেছে।
আমি: ও!
রুহাম: জানো বাবা! টিচারের সবচেয়ে ছোট যে বাচ্চা ও না অনেক মোটা। তোমার চেয়েও তিন কেজি বেশি হবে।
আমি: তাই নাকি? তোর টিচারের কয়টা বাচ্চা রে?
রুহাম: তিনটা বাচ্চা। দুইজন এখানে থাকে, আরেকজন গ্রামে থাকে (রুহামের কণ্ঠে দুঃখ)।
আমি: (ভাবলাম, আহা একটা বাচ্চাকে কেন গ্রামে থাকতে হচ্ছে!) ওহ! গ্রামে থাকে?
রুহাম: হু, চট্টগ্রামে থাকে। 

চট্টগ্রাম নামক গ্রামে থাকা সকল গ্রামবাসীর জন্য সহানুভূতি।

 

[রুহামের সর্বমোট ৮০টি নানা ধরণের কর্মকান্ডের গল্প নিয়ে চন্দ্রাবতী প্রকাশনী থেকে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বই 'রুহামনামা'। ঘরে বসে পেতে চাইলে কিনতে পারেন রকমারি ডটকম থেকে।] 

 

আরও পড়ুন-

রুহামনামা ১ : চায়নার ধুলা গড়িয়ে এসে আমাদের দেশে পড়ে বলেই কি বাংলাদেশে এত ধুলা?

রুহামনামা ২ : ওবাকের বাচ্চারা যখন মেঘের উপর গোসল করে, তখন যে পানি গড়িয়ে পড়ে ওটাই বৃষ্টি

৮০৫ পঠিত ... ২১:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top