সিনিয়র এপ্রেন্টিস

৮৫৩ পঠিত ... ২১:২০, জুলাই ২২, ২০১৮

গণেশ বেচারি এপ্রেন্টিস , মাইনে পায় না। কাজ শিখেছে , এর ধাঁতানি , ওর গুঁতোনি চাঁদপানা মুখ করে সয়। আশা, একদিন পাকাপাকি চাকরি হবে , মাইনে সব কিছুই পাবে। চাকরি খালি পড়লোও , কিন্তু বড়বাবু সেটা দিয়ে দিলেন তাঁর শালীর ছেলেকে - সে কখনো এপ্রেন্টিস করেনি। বড়বাবু গণেশকে ডেকে বললেন , 'বাবা গনেশ কিছু মনে করো না ; এ চাকরিটা নিতান্তই অন্য একজনকে দিয়ে দিতে হল। আসছেটা তোমাকে দেব নিশ্চয়ই।

কাকস্য পরিবেদনা , আবার চাকরি খালি পড়ল , বড়বাবু ফের ফক্কিকারি মারলেন, গণেশকে ডেকে আবার মিষ্টি কথায় চিঁড়ে ভেজালেন। এমনি করে দেদার চাকরি গনেশের সামনে দিয়ে ভেসে গেল , তার এপ্রেনটিসির আঁকশি দিয়ে একটাকেও ধরতে পারল না। শেষের দিকে বড়বাবু আর গণেশকে ডেকে বাবারে , বাছারে বলে সান্ত্বনা মালিশ করার প্রয়োজন বোধ করেন না।
গনেশের চোখ বসে গেছে , গাল ভেঙে গেছে , রগের চুলের দু এক গাছায় পাক ধরলো , পরনের ধুতি ছিঁড়ে গেছে , জামাটা কোনো গতিকে গায়ে ঝুলে আছে। গনেশ এ-টুলে ও-টুলে , এর কাজ , ওর কাজ , ওর ফাই ফরমাশ করে দেয় - আর করে করে আপিসের বেবাক কাজ তার শেখ হয়ে গেল। চাকুরী কিন্তু হলো না।

এমন সময় বড় সাহেব একদিন বড়োবাবুকে দোতলায় ডেকে বললেন ,'আমায় একটা জরুরি রিপোর্ট লিখে আজকেরই মেল ধরতে হবে। কেউ যেন ডিস্টার্ব না করে। দরজার গোড়ায় একজন পাকা লোক বসিয়ে দাও , কাউকে যেন ঢুকতে না দেয়।
দারোয়ানরা সেদিন ধর্মঘট করেছিল। বড়বাবু গণেশকে দিলেন দোরের সামনে বসিয়ে। বললেন ' কিছু মনে করো না বাবা গনেশ , হেঁ হেঁ হেঁ হেঁ। গনেশ টুলে বসে ছেঁড়া ধুতিতে গিঁট দিতে লাগলো।এমন সময়ে নিচের রাস্তায় হৈহৈ রৈরৈ। এক বদ্ধ পাগল রাস্তা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে , পরনে কপ্পিনটুকুও নেই - ইংরেজিতে যাকে বলে 'বার্থ-ডে -সুটে ' - আর পিছনে রাস্তার ছোঁড়ারা তাকে লেলিয়ে লেলিয়ে খেদিয়ে খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

হবি তো হ , পাগলা করল গনেশের আপিসের দিকে ধাওয়া। সিঁড়ি ভেঙে উপরের তলায় উঠে ঢুকতে গেল বড় সাহেবের ঘরে। গনেশ টুল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল , কিন্তু পাগলটাকে বাধা দিল না। মার্ মার্ কাটকাট কান্ড। পাগলের পিছনে পিছনে ছোঁড়াগুলোও গিয়ে ঢুকেছে বড় সাহেবের ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি। পাগলা আবার সাহেবকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে ফেলে রিভলভিং টিলটিং চেয়ারে বসতে চায়।

তাই দেখে কেউ বদ্যি ডাকে
কেউ বা ডাকে পুলিশ ,

কেউ বা বলে কামড়ে দেবে
সাবধানেতে তুলিস।

শেষটায় পুরো লালবাজার এসে ঘর সাফ করল। সাহেব রেগে কাঁই। বড়বাবুকে ধরে এই মার কি সেই মার লাগান আর কি। বলেন 'তুমি একটা ইডিয়ট , আর দোরে বসিয়েছিলে তোমার মতো ইম্বেষাইলকে। কোথায় সে, ডাকো তাকে?

গনেশ এসে সামনে দাঁড়াল। সাহেব মারমুখো হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন , ' ইউ প্রাইজ-ইডিয়ট , পাগলকে তুমি ঠেকালেন কেন ?' 
গনেশ বড় বিনয়ী ছেলে। বললে , ' আমি ভেবেছিলুম, উনি আমাদের আপিসের সিনিয়র এপ্রেন্টিস। আমি তো জুনিয়র , ওঁকে ঠেকাবো কি করে ?

সাহেব তো সাত হাত প্যানিমে। বললেন ,'হোয়াট ডু ইউ মিন বাই দ্যাট ?'
গনেশ বললে , ' হুজুর, আমি তিন বৎসর ধরে এ আপিসে এপ্রেন্টিস করছি। খেতে পাই নে , পরতে পাই নে। এই দেখুন ধুতি। ছিঁড়ে ছিঁড়ে পট্টি হয়ে গিয়েছে। লজ্জা ঢাকবার উপায় নেই। তাই যখন এঁকে দেখলুম , আমাদের আপিসে ঢুকছেন , একদম অবস্তর উলঙ্গ , তখন আন্দাজ করলুম , যিনি নিশ্চয় এ আপিসের সিনিয়র এপ্রেন্টিস। তা না হলে তাঁর এ অবস্থা হবে কেন ? এখানে এপ্রেন্টিস করে করে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে সিনিয়র এপ্রেন্টিস হয়েছে।

৮৫৩ পঠিত ... ২১:২০, জুলাই ২২, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top