বিএনপির জন্য মোটিভেশনাল স্পিচ : আজকের ৬টা আসনই আগামীদিনের সিক্স ডিজিট ভোট

৮৯৬ পঠিত ... ১৭:৪২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

তোমরা যারা বিএনপি থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হয়েছ, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই... হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আজ মনে পড়ে যাচ্ছে আমার নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা। যখন আমি ক্লাস থ্রিতে পড়ি, তখন ক্যাপ্টেন নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র একটি ভোট পেয়েছিলাম। বিপরীতে বিজয়ী ক্যাপ্টেন পেয়েছিলো ৮৪ ভোট। তখন কিন্তু আমি হতাশ হইনি। নিজেকে বুঝিয়েছি, আজ একটা ভোট পেয়েছি তার মানে অন্তত একজন মানুষ আমাকে ক্যাপ্টেন হিসাবে দেখতে চায়। যদিও এই এক ভোট আমি নিজেই নিজেকে দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা বড় বিষয় না। বড় বিষয় হলো হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতা। সেদিন হাল ছেড়ে দিয়ে আমি যদি নির্বাচন বর্জন করতাম তাহলে আজ কিন্তু এই ছয় ডিজিটের স্যালারির জব আমি পেতাম না। তোমরাও হাল না ছেড়ে দিয়ে ঠিকমত লেখাপড়ায় মন দাও। কে জানে এমপি হতে না পারলেও তোমার জন্য আরো বড় কিছু অপেক্ষা করছে কিনা!

গতবারের নির্বাচনের (!) কথা ভাবো। সেবার কিন্তু তোমাদের দল একটা আসনও পায়নি! আসন পাওয়া তো দূরের কথা, নির্বাচনই করেনি। এবার নির্বাচন করে অন্তত বিরোধী দল স্ট্যাটাসটা তো তোমরা ফিরে পেয়েছো, ৬টা হলেও আসন পেয়েছো। এভাবেই, অল্প অল্প করেই অন্তত শুরুটা হোক! আজকের এই ৬টা আসনই একদিন তোমাকে সিক্স ডিজিট সংখ্যক ভোট এনে দেবে!

এই যে পরাজিত এমপি প্রার্থীরা, আমি তোমাদের বলবো... একবারে সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ছোট থেকে শুরু করো। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচনে লড়বা। তারপর পৌরসভা, উপজেলার মেম্বার। জিততে পারলে পরবর্তীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবা। এভাবে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে হয়। বিন্দু বিন্দু জল দিয়েই কিন্তু সাগর হয়। এ বিষয়ে আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা এর একটি উক্তি আমি তোমাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। একদিন তিনি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'খুব ক্ষুধা লাগছে, খাবার দাও।'

এ থেকে কি বুঝলে? সফল হওয়ার জন্য সফলতার প্রতি ক্ষুধাটা থাকা জরুরী। আজ এমপি নির্বাচনে পারোনি তো কি হয়েছে? আজই মনে মনে শপথ গ্রহণ করো যে, আগামী মেম্বার নির্বাচনে দেখিয়ে দেবে। দেখবে, এই জয়ের আকাঙ্ক্ষাই তোমাকে সেদিন বিজয়ী করে তুলবে।

প্রিয় বন্ধু, তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী লাখ লাখ ভোট পেয়েছে কিন্তু বিপরীতে তোমার ভোটের সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার? দ্যাটস নট আ বিগ ডিল। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এসএম জিলানীকে দেখ। সে যদি তিন লাখের বিপরীতে মাত্র ১২৩ টি ভোট পেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, রাতের খাবার খেতে পারে, ঘুমাতে পারে, তাহলে তোমার কিসের কষ্ট? জুতা হারিয়ে তুমি দুঃখ পাচ্ছো, আর জিলানী সাহেব যে পা দুটোই হারিয়ে বসে আছে সেটা ভাবো একবার। দেখবে, তোমার সব কষ্ট ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। তুমি তো শুধু নির্বাচনে হেরেছ, একবার সেই মানুষটার কষ্ট অনুভব করার চেষ্টা করো যার গার্লফ্রেন্ডের তিন চারটা জাস্টফ্রেন্ড আছে, একবার সেই মেয়েটার কথা ভাবো কাল যার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ফার্স্ট ডেট আর আজ মুখে পিম্পল উঠেছে। একবার তার কথা ভাবো, থার্টি ফার্স্টের রাতেও যার বন্ধুরা তার ফোন ধরবে না! বুঝতে পাবে, তুমিই একমাত্র দুঃখী না। এদের চাইতে তোমার দুঃখ খুব সামান্যই। যেদিন অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করা শিখবে, সেদিন নিজের কষ্টকে আর কষ্ট মনে হবে না। বিলিভ মি।

সবশেষে আমি একটা কথাই বলতে চাই যে সবকিছুর মাঝেই কিন্তু পজিটিভ দিক থাকে। সেই পজিটিভিটাকে খোজার চেষ্টা করো। তোমার এই পরাজয়ের মাঝেও কিন্তু তখন জয় খুজে পাবা। ভাবো প্রতি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে গেলে তাদের দুপুরের খাবার দেয়া লাগতো। দিনশেষে সম্মানী দেয়া লাগতো। সেই টাকাটা কিন্তু তোমার বেঁচে গেছে। পোস্টার ছাপাতে দেয়া হয়নি, বেচে গেছে সেই টাকাটাও। টাকাগুলো নিয়ে কক্সবাজার বা সাজেক থেকে লম্বা একটা ট্যুর দিয়ে আসো। চিল ম্যান, চিল। দেখবা সব হতাশা দূর হয়ে একদম মন ফ্রেশ হয়ে গেছে। তারপর আবার নতুনভাবে লাইফ শুরু করো।হাসিখুশি থাকো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দাও। তাও ভালো না লাগলে মাঝেমধ্যে হরতাল দাও! খুব ছোট্ট একটা জীবন আমাদের। তবু যদি ভালো ফিল করতে না পারো, জাস্ট একটা কথা ভাবো, 'নির্বাচনে পাশ করে আর কি হবে, একদিন তো মরেই যাবো!'

৮৯৬ পঠিত ... ১৭:৪২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

গল্প

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top