গঠিত হচ্ছে মনোনয়ন বাতিল ঐক্যজোট, নির্বাচন হবে ফেসবুকে

৫৪ পঠিত ... ১৬:৫৭, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তিনজন 'বিখ্যাত' প্রার্থীর। তারা হলেন ওয়ার্ল্ড ফেমাস সেলিব্রেটি হিরো আলম, নব্য পল্টিবাজ গোলাম মওলা রনী এবং শিক্ষাব্যবস্থার সাবেক জামাই ইমরান এইচ সরকার। এরকম সংবাদ প্রকাশের সাথে সাথে সারাদেশে বইছে আলোচনার ঝড়। এই তিন প্রার্থী এখন কী করবে? নির্বাচন-খেলায় মাঠে নামা হবে না তাদের? দেখতে হবে গ্যালারিতে বসে? সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন রয়ে যাবে স্বপ্নই? দেশ ও জনগণের জন্য করা হবে না কোনো কাজ?

সবাই যখন আছেন এমন নানান কনফিউশনে, তখন eআরকি বের করে এনেছে একদম ভেতরের খবর। পীথাগোরাস, টলেমি এবং নানান বিজ্ঞানীর বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া সেই খবরটি হলো, হিরো আলম, ইমরান এইচ সরকার এবং গোলাম মওলা রনি এবার এক হচ্ছেন। তিনজন এক হয়ে তারা গড়তে যাচ্ছেন- 'মনোনয়ন বাতিল ঐক্যজোট'। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারা লড়বেন এই জোটের হয়ে।

কিন্তু আপনাদের মনোনয়ন তো বাতিল করা হয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে জোটের অংশীদার ইমরান এইচ সরকার বলেন, 'দেখুন আমাদের নির্বাচনের পদ্ধতিটা হবে একটু আলাদা। আমরা রাস্তায় নেমে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার সিস্টেমে যাব না। আমরা জানি বর্তমানে সমাজের ভেতরে আছে আরেকটা সমাজ। যেটাকে বলে সোশ্যাল মিডিয়া, সহজ বাংলায় ফেসবুক। হ্যাঁ, আমরা নির্বাচন করবো ফেসবুকেই। জিতলে ফেসবুকেই গঠন করা হবে সরকার। এখন শুধু দরকার দেশীয় আইডিগুলোর সমর্থন।'

কিন্তু কীভাবে হবে নির্বাচন? জনতা ভোটই বা দেবো কিভাবে? এ বিষয়ে মুখ খোলেন জোটের আরেক শরিক গোলাম মওলা রনি। তিনি স্ক্রিনশট না প্রকাশের শর্তে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, 'আমরা তিনজনই কিন্তু ফেসবুক সেলিব্রেটি। আলম ভাই, ইমরান ভাই বা আমার প্রত্যেকের আইডি বা পেজেই বহু ফলোয়ার আছে। সুতরাং আমরা ত্রিশে ডিসেম্বর সকালেই যার যার আইডি থেকে পোল খুলে ভোট নেব। এছাড়াও দেব পোল টাইপ স্ট্যাটাস। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় স্ট্যাটাসে লেখা হবে, "সবাই ভোট দিন। দেখি কে জিতে- রিঅ্যাক্ট লাভ ফর আওয়ামীলীগ, ওয়াও ফর বিএনপি এন্ড হাহা ফর হিরো আলম।" এই স্ট্যাটাসে জনগণ খুব সহজ ও ইভিএমের থেকেও আধুনিক পদ্ধতি ফেসবুক রিয়্যাক্টের মাধ্যমে তাদের ভোট দিবে। দিনশেষে রিঅ্যাক্ট যোগ করে আমরা ফলাফল ঘোষণা করব।'

 ছবি: বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের সৌজন্যে

কিন্তু এই পদ্ধতি কতটা বিজ্ঞানসম্মত এরকম প্রশ্ন করলে তিনি জানান, বিশ্বের বহু দেশে নাকি এই পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন হয়, সরকার গঠন হয়। কিন্তু এরকম একটা দেশের নাম জানতে চাওয়া হলো রনি সাহেব আমাদের প্রতিনিধিকে ব্লক করে দেন।

আমরা তাই বাধ্য হয়ে ফিরে যাই ইমরান এইচ সরকারের কাছে। তার কাছে আমাদের প্রশ্ন ছিল, 'নির্বাচনে দেশের সবাই কিভাবে অংশগ্রহণ করবে? আপনাদের ফলোয়ার তো কয়েক লাখ, ওদিকে আইডির সংখ্যা কয়েক কোটি।' এই প্রশ্নের উত্তরে ইমরান সাহেব বলেন, 'আমরা শুধু আইডি নয় বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজে গিয়েও স্ট্যাটাস দিব। বিশেষ করে প্রথম আলোর সকল পোস্টের কমেন্টে সারাদিন ভোটগ্রহণ চলবে।'

এক্ষেত্রে একজন ফেক আইডির মাধ্যমে একাধিক ভোট দিলে কি হবে জানতে চাইলে রনির মত ইনিও রেগে গিয়ে আমাদের প্রতিনিধিকে ব্লক করে দেন। ব্লক করার আগে লাস্ট মেসেজ দেন, 'অফলাইনে একজন যখন একশ জাল ভোট দেয়, মৃত ব্যক্তিরা ভোট দেয়, তখন তো দোষ হয় না। খালি ফেসবুক নির্বাচনে জালভোট দিলেই দোষ! এ বিচার মানি না।'

সবশেষে জোটের আনব্লক থাকা একমাত্র ব্যক্তি হিরো আলমের সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তিনি বারবার শুধু একটি কথাই বলে যেতে থাকেন। কথাটি হলো, 'আপনেরা হামাক একটা হাহা তো দিব্যাইন!'

৫৪ পঠিত ... ১৬:৫৭, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

গল্প

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top