জরিনা বেগম যেদিন মার্সিডিজে করে গার্মেন্টসে কাজ করতে গেলেন

৬১৮৩ পঠিত ... ১৪:৪৭, মে ০১, ২০১৭

জ্যামে আটকে আছে একটা কালো মার্সিডিজ। সি ২৫০ মডেলের গাড়ির ভেতরে বেশ চিন্তিত মুখে বসে আছেন জরিনা বেগম। আজও কাজে পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে তার। পেশায় তিনি একজন গার্মেন্টসকর্মী। যদিও দেরি হলে তেমন কিছুই হবে না, তবুও তার একটা রেপুটেশন আছে। কখনোই দেরি করেন না তিনি। হঠাৎ দেখলেন রাস্তার পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে যাচ্ছে বিভিন্ন গার্মেন্টসের মালিক, ম্যানেজাররা। জরিনা বেগমদের গার্মেন্টস মালিকও আছেন সেখানে। দৃশ্যটা নতুন নয় জরিনা বেগমের কাছে। তবু জানালার কাচ নামিয়ে বিনীত ভঙ্গিতে মালিকের উদ্দেশে বললেন, গাড়িতে আসুন স্যার, নামিয়ে দেই।

: না না। ইটস ওকে, তুমি যাও। আমি হেঁটেই যেতে পারবো।

আবার কাচ উঠিয়ে দিলেন জরিনা। গার্মেন্টস মালিকরা সাধারণত দলবেঁধে হেঁটে হেঁটে অফিসে যান। বয়স হয়েছে তাঁদের। ডায়বেটিস, হার্টের অসুখসহ নানা সমস্যা। সকালে না হেঁটে উপায় কী? 

জ্যাম ছুটেছে। দ্রুত এগোলেন জরিনা। কিছুক্ষণ পরই পৌঁছে গেলেন তার কর্মস্থল মডার্ন অ্যাপারেলস-এ। গাড়ি পার্ক করে ভেতরে ঢুকলেন জরিনা। আঙুলের ছাপ দিয়ে চলে গেলেন ক্যানটিনে। আজ ১০ মিনিট লেট! যদিও এটা কোনো ঘটনাই না। গার্মেন্টসের নিয়ম--একেবারে ঘড়ি ধরে আসতে হবে এমন কোনো কথা নাই। কাজটা বুঝিয়ে দিলেই হলো। সুইং বিভাগে কাজ করেন জরিনা। প্রতি সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট লক্ষমাত্রা থাকে তার। সেটা পূরণ হলেই হলো। কে কখন আসলো-গেলো তা দেখে না কেউ।

তবু সবাই ঠিক সময়ে আসার চেষ্টা করে। কারণ একটাই, পরিবেশ। এই যে জরিনা স্যান্ডউইচ আর মোকা কফি দিয়ে ব্রেকফাস্ট করছেন, কোনো টাকা দিতে হবে না এ জন্য। শুধু ব্রেকফাস্ট কেন? কর্মীদের জন্য লাঞ্চ, ডিনার, স্ন্যাকস সবই ফ্রি এখানে। কাজ করতে যখন ভালো লাগে না, ২০ তলার থিয়েটারে গিয়ে দলবেঁধে মুভি দেখে আসেন জরিনা। সহকর্মীরা মিলে গল্পগুজব করেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার আগে জিমে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করে নেন, কখনো আবার সাঁতার কাটেন পুলে।

বাড়ি ফেরার আগে কখনো জিমে গিয়ে একটু ব্যায়াম করে নেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা

তবে মাঝে মাঝে কাজের চাপ বেড়ে যায় ভীষণ। দম ফেলারও সময় থাকে না কারো। করতে হয় ওভারটাইম। কিন্তু বিরক্ত লাগে না জরিনাদের। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে বিরক্ত লাগবেই বা কেন? তাছাড়া ওভারটাইমে ডবল বোনাসও দেয় কোম্পানি। আর খাবারদাবার তো আছেই।

তবে টাকাটাই মূল কথা নয় জরিনার কাছে, গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষগুলো। এই তো কদিন আগে, হঠাৎ মাথা ধরেছিলো জরিনার। সুপারভাইজার সেটা টের পেয়েই ডাক্তার-টাক্তার ডেকে কী একটা হুলস্থুল কাণ্ড করলেন! জরিনা কত বোঝালো, এটা সামান্য মাথা ব্যাথা, পাত্তাই দিলো না কেউ। নানা রকম টেস্ট করে শেষে গাড়ি করে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো জরিনাকে।

এমন কোম্পানি আর সহকর্মী থাকলে কেই বা ইচ্ছে করে দেরী করবে? মালিক-শ্রমিক সবাই মিলেই তো এগিয়ে নিচ্ছে এই কোম্পানিটা, তাই না?

৬১৮৩ পঠিত ... ১৪:৪৭, মে ০১, ২০১৭

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top