যে কারণে বাংলাদেশের এক কুয়ার ব্যাঙ কখনো রাজপুত্র হতে পারলো না

৭৬৯ পঠিত ... ০১:৫০, জুলাই ২৬, ২০১৮

ডাইনি বুড়ির ভয়ঙ্কর এক অভিশাপে অভিশপ্ত এক রাজকুমার ব্যাঙ হয়ে বাস করত গভীর এক কুয়ায়। এই বীভৎস বন্দিদশা থেকে মুক্তির পথ একটাই, যদি কোন তরুণী তাকে চুম্বন করে তবেই সে ফিরে পাবে তার পুরোনো রূপ। কিন্তু বঙ্গদেশে কে তাকে চুম্বন করবে, হোক না যতই রাজকুমার- সে তো কদাকারদর্শী কোলাব্যাঙ!

রাজকুমার কোলা ব্যাঙ বুক চিতিয়ে কুয়োর অন্য ব্যাঙদের বলে, ‘তোরা হলি কুয়ার ব্যাঙ, আর আমি হলাম সুদর্শন রাজকুমার।’ তার এমন বীরদর্প বাণীকে সবাই হেসেই উড়িয়ে দেয়। সামনে আয়না এনে বলে, ‘চেহারা দেখেছিস নিজের একবার? আসছে আমার কুয়ার রাজকুমার!’ হাল ছেড়ে দিয়ে ব্যাঙ রাজকুমার কুয়ার এক কোণে বসে বিভিন্ন মিম পেজের মিম শেয়ার করে আর অর্থপূর্ণ অর্থহীন বাক্যমালা দিয়ে হতাশাসূচক স্ট্যাটাস রচনা করে দিন কাটায়।

একদিন আনমনে ফেইসবুকের হোম ফিড স্ক্রল করতে করতে একটি ছবিতে চোখ আটকে যায় ব্যাঙ রাজকুমারের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি নামক এক জায়গায় চুম্বনরত এক যুগলের ছবি দেখে আনন্দে চোখের পানি আটকে রাখতে পারে না সে। চোখের কাছে বারবার ছবিটা আনে, আর লাভ রিঅ্যাকশন দিতে থাকে ক্রমাগত! তার উচ্ছ্বাসের চোটে শেষমেষ তার একমাত্র সম্বল স্মার্টফোনটি কুয়ার পানিতে ডুবে পেল অক্কা। কিন্তু কিইবা আসে যায় এতে, ব্যাঙ রাজকুমার খুঁজে পেয়েছে তার অভিশাপ মোচনের স্থান! কুয়ার অন্য ব্যাঙগুলোকে ভেংচি কেটে বেরিয়ে আসে সে, গন্তব্য চুমুর স্থান- টিএসসি।

অলংকরণ: রেহনুমা প্রসূন

লাল ইট দিয়ে বাঁধা প্রাঙ্গন, আর তার চারদিক ঘিরে গুটিকয়েক চা-সিগারেটের দোকান- টিএসসিটাকে এক নজরে ভালোমত দেখে নেয় ব্যাঙ। কয়েকজন তরুণীকে প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রাথমিক বাছাইটাও সেরে নেয় সে। কিন্তু বিধি বাম! একটা ব্যাঙকে কে চুমু খাবে শখ করে, তাও আবার টিএসসির মত একটি উন্মুক্ত জায়গায়! কেউই তার প্রস্তাবে রাজি হয় না।

সে যতবারই টিএসসি যুগলের চুম্বন প্রসঙ্গ টানে, ততবারই আসে একেক রকম কথা- ‘আরে ওসব ফটোশপ। টিএসসিতে কেউ কাওকে চুমু খায়নি!’

‘কী বলে এই ব্যাঙ! যারা চুমু খেয়েছিল তারা এখন গায়েব। যে তাদের ছবি তুলেছিল তাকেও উত্তম মধ্যম দিয়ে এলাকাছাড়া করা হয়েছে।’ আরেকজন শুনিয়ে গেল এই সাবধানী বাণী। দিশেহারা ব্যাঙ বলতে থাকে, ‘আমি এক রাজকুমার, চুমু খেলে আমি তোমায় দিব কেয়া কসমেটিক্সের আকর্ষণীয় সব পুরষ্কার, আর মানুষের বন্ধু গাছ।’

আরেকজন ব্যাঙকে যুক্তি দেখায়, ‘এসব বাঙালি সংস্কৃতি আর মূল্যবোধ ধ্বংসের জন্য বিরোধী দলের চক্রান্ত!’

একজন ব্যাঙকে লাথি দিয়ে সরিয়ে বলে, ‘পকেটমারি-ছিনতাই-খুন-ধর্ষণ-মূত্র বিসর্জন যেমন তেমন। কিন্তু প্রকাশ্যে চুম্বন খুবই অসভ্য খারাপ।’

একেবারেই কেউ যে তাকে চুমু খেতে চায়নি তেমনটাও না, তবে কেউই প্রকাশ্যে চুমু খেতে সাহস পায় না। একবার চুমু খেলেই জলজ্যান্ত রাজকুমার পাওয়া যাবে ভেবে কোন কোন তরুণী তাকে বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু রাজকুমারের মনে অনেক ভয়। যদি বাসায় নিয়ে গেলে ঐ বাড়ির কুকুর-বিড়াল তাকে খেয়ে ফেলে। কিংবা কে জানে, তারা হয়ত ব্যাঙের মাংস খায়। রোস্ট হবার কোন আশা রাজকুমারের নেই।

দিনের পর দিন চুমুর অভিযান চালিয়ে এদিকে কাহিল বেচারা ব্যাঙ। যে আশা-ভরসা নিয়ে সে টিএসসি এসেছিল, সবকিছু টিএসসির বৃষ্টির জলে ভেসে যাচ্ছে বুঝি। কিন্তু ভাগ্য যেন একদিন সহায় হল তার।

তার করুণ কাহিনী শুনে এক তরুণীর মনে মায়া জন্মালো। টিএসসিতে বসেই চুমু খাওয়ার জন্য হাসিমুখেই রাজি সে।

চুমুর পূর্ব-প্রস্তুতি। দু’জনের দৃষ্টি একে অপরের দিকে নিবদ্ধ, আর ঘন তপ্ত নিঃশ্বাস। দু’জোড়া ঠোঁটের স্পর্শ এখন শুধু মূহুর্তের ব্যাপার।

হঠাতই চারপাশে শোরগোল! ‘হারেরেরে! ধররে ধররে!! বহিরাগত আসছে রে!’ বলতে বলতে হাতুড়ি, ছেনি, বাঁশ এবং নানাবিধ ধারালো যন্ত্র নিয়ে কারা যেন ব্যাঙের দিকে ধেয়ে আসলো। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যাঙ তরুণীর হাতের মুঠো থেকে লাফ দিয়ে নিমিষেই মিলিয়ে গেল টিএসসি থেকে। পেছনে আর ফিরে তাকানোর সাহসটুকুও হলো না।

চুম্বনে ব্যর্থ ব্যাঙ রাজকুমার এখনও কুয়োর ব্যাঙ হয়ে চুম্বন নিয়ে হতাশার স্ট্যাটাস দিয়ে বেরায়!

৭৬৯ পঠিত ... ০১:৫০, জুলাই ২৬, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top