রাখাল বালক রিটার্নস

১৮৩০ পঠিত ... ১২:২৬, জুন ৩০, ২০১৮

অনেক অনেক কাল আগে ব্রাজিলের এক গ্রামে বাস করত এক রাখাক বালক। বালকটির ছিল ছোট্ট একটি খামার। তার খামারটি ছোট ছিল বলেই এলাকার ছেলেমেয়েরা তাকে দুষ্টুমি করে ডাকতো- নেইখামার!

খামারের পাশেই গ্রামের কিশোর ছেলেরা ফুটবল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করত। বালকটি একদিন ওদের ডেকে বললো, 'তোমরা দৌড়াদৌড়ি করছ কেন? আসো আমরা দুইটা দলে ভাগ হয়ে খেলি।'

আইডিয়াটা কিশোর ছেলেদের পছন্দ হল। তারা বললো, 'কিন্তু তাহলে আমাদের তো মাঠ দরকার। মাঠ পাবো কোথায় বলো?'

বালকটি এবার বুদ্ধি করে বলল, 'আমার খামারের মধ্যেই মাঠ আছে। আমরা ওখানেই খেলতে পারি।'

রাখাল বালক নেইখামারের কথা শুনে সকলেই খুশি হল। তারা খুশি হয়ে রাখাল বালককে একটা দলের অধিনায়ক বানিয়ে দিলো। রাখাল বললো, 'তোমরা একটু দেখেশুনে খেলো। গরুর লাথি খেয়ে আমার ডান পা ভেঙে গেছে। আমি যেন ব্যথা না পাই।'

অলংকরণ: মাহাতাব রশীদ

খেলা তো শুরু হলো, কিন্তু রেফারি কে হবে? রেফারি হওয়ার মতো কেউই নেই। এমন সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো গ্রামের একজন মুরব্বি। সবাই মিলে মুরব্বিকে অনুরোধ করলো, যেন সে এক ম্যাচের জন্য রেফারি হয়। মুরব্বি বললো, 'আচ্ছা। কিন্তু কার্ড হবে একটাই। লাল। কেউ খেলার মধ্যে মারামারি করলে আমি তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেবো।'

মুরব্বির কথায় একমত হয়ে শুরু হলো খেলা। ভালই চলছিলো খেলা। কিন্তু একটু পরই রাখাল বালক মাটিতে পড়ে গেলো। পাশের প্লেয়ারটি অবাক হয়ে তাকালো। সে তো তাকে মারেনি, ধাক্কাও দেয়নি... তাহলে রাখাল বালক পড়ে গেলো কেন? রেফারি দৌড়ে এসে দেখলো, রাখাল বালক মাটিতে তীব্র বেদনায় কাতরাচ্ছে! রেফারি সাথে সাথে পাশে থাকা প্লেয়ারটিকে লাল কার্ড দিয়ে বের করে দিলেন।

আবারো শুরু হলো খেলা। বল নিয়ে ছুটে যাচ্ছে বিপক্ষ দলের প্লেয়ার। পেছনে রাখাল বালক। তারপর হঠাৎ আবারো রাখাল বালক মাটিতে পড়ে গেলো। পড়ে যাওয়ার ভঙ্গীতে মনে হলো সামনের প্লেয়ারটি তাকে আঘাত করেছে। মুরব্বি রেফারি ওই প্লেয়ারটিকেও লাল কার্ড দিয়ে বের করে দিলেন। রাখাল বালকের অভিনয় আবারো কেউ ধরতে পারলো না।

এভাবে প্রতিবার ফাউলের অভিনয় করে সফল হলো রাখাল বালক। বিপক্ষ দলের ৯টি প্লেয়ার লাল কার্ড খেয়ে মাঠের বাইরে। শুধু মাত্র গোলকিপার এবং ডিফেন্সে একজন আছেন। এমন সময় মুরব্বি রেফারির মনে খটকা লাগলো। তিনি রাখাল বালককে ডাক দিয়ে বললেন, 'দেখি তুমি হাতের কোথায় ব্যথা পেয়েছো?' তখনই রাখাল বালক হাত উঁচু করতে গিয়েই 'ও মা রে' বলে মাটিতে পড়ে গেলো। পড়লো তো পড়লো, পড়ে গিয়ে সাত-আটবার গড়ালোও!

অলংকরণ: মাহাতাব রশীদ

সকলেই ভাবলো রেফারি রাখাল বালককে আঘাত করেছে। তাই সকলে মিলে রেফারিকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিলো। রেফারি বুঝলো, এতক্ষণ কি ভুলটাই না সে করেছে।

খেলার আর মাত্র আছে এক মিনিট। বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় মাঠে নেই বললেই চলে, তবু রাখাল বালকের দল একটাও গোল দিতে পারেনি। ওদিকে বিপক্ষ দল সেই প্রথমেই একটা গোল দিয়ে এগিয়ে আছে। রাখাল বালক এবার ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ঢুকে গেলো বিপক্ষ দলের ডি-বক্সে। আর তখনই ডিফেন্সের প্লেয়ারটি নেইমারের পায়ে সজোরে লাথি বসিয়ে দিলো। মাটিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ল রাখাল বালক।

কিন্তু এখন তো লাল কার্ড দেয়ার কেউ নেই। রেফারি নিজেই তো মাঠের বাইরে!

রাখাল বালক চিৎকার করে বললো, 'এটা ফাউল! এটা ফাউল!' কিন্তু এখন তো এই চিৎকার শোনার কেউ নেই। রেফারিহীন ম্যাচে সত্যিকারের ফাউলে পেনাল্টি পেলো না রাখাল বালক। এরই মধ্যে ম্যাচের সময় শেষ হল। রাখাল বালকের দল ১১ জন নিয়ে খেলেও হেরে গেলো। সেই থেকে রাখাল বালক বুঝতে পারলো, ফাউলের অতিরিক্ত অভিনয় করলে সত্যিকারের ফাউল হলেও কেউ বিশ্বাস করে না!

১৮৩০ পঠিত ... ১২:২৬, জুন ৩০, ২০১৮

আরও

 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top