তিন গোয়েন্দারা এখন যেমন আছেন

৫৮৭৬ পঠিত ... ০৪:২৬, জুন ০৮, ২০১৮

স্যালভিজ ইয়ার্ডটা এখন পরিত্যক্ত। নতুন ব্যবসার জন্য রাশেদ পাশা সপরিবারে চলে গেছেন নিউইয়র্কে। কিশোর সেখানকার ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে, ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত।

গাড়ি দুর্ঘটনায় একমাত্র সন্তান মুসার মৃত্যুর পর শোকে স্তব্ধ বাবা মা আজীবনের জন্য ছেড়েছেন রকি বীচ শহর। কেউ কোনো খোঁজখবর জানে না তাদের। রকি বীচের খাবারের রেস্টুরেন্ট, খেলার মাঠ যেন খাঁ খাঁ করে মুসার জন্য!

শেষ জীবনটা পিতৃভূমিতে কাটাতে চান- সে জন্য মিস্টার এবং মিসেস মিলফোর্ড ফিরে গেছেন আয়ারল্যান্ডে। তাদের সাথে চলে গেছে রবিনও।

অলংকরণ: সামির
জিনা বিয়ে করেছিলো তার বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছেলেকে, বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে গেছে দুজনের। পরিবারের সাথেই থাকে সে এখন। মাঝে মাঝে যখন রকি বীচে আসে- নিয়মিত মুসার কবরে ফুল দেয়, আর অতীতের ঝগড়াঝাঁটিগুলোর স্মৃতি মনে করে কাঁদে।

শুঁটকি টেরি পারিবারিক ব্যবসায় নেমে পড়েছে, বেশ ভালোই উন্নতি করছে আস্তে আস্তে। শোনা গেছে- অসৎ সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে সে। কিশোর, মুসা, রবিনকে ভীষণ মিস করে টেরি- মনে পড়ে তাদের সাথে শত্রুতার দিনগুলির কথা। আবার যদি কৈশোরে ফিরে যেতে পারতো, তবে শত্রু হবার বদলে বন্ধুত্ব পাতানোর চেষ্টা করতো ওদের সাথে। কিন্তু এখন হাজার চাইলেও ফিরে পাওয়া যাবে না সেই সময়টুকু!

ডেভিস ক্রিস্টোফার সিনেমা বানানো থেকে অবসর নিয়েছেন। কিছুদিন আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিলো তার, এখন মোটামুটি সুস্থ হয়ে আছেন। যদিও সাবধানে চলাফেরা করতে হয়।

ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার বদলি হয়ে গেছেন অ্যারিজোনায়। খুন খারাপির অভাব নেই সেখানে। অপরাধীদের পেছনে ধাওয়া করার সময় তিন গোয়েন্দার কথা মনে পড়ে তার। ওরা থাকলে কতো চমৎকারভাবেই না অপরাধীদের মোকাবেলা করতো!

অলংকরণ: সামির
ওমর শরীফ ফিরে গেছে তার দেশ মিশরে। ইসরায়েলী মোসাদের একটা চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয়ার পুরষ্কার হিসেবে মিসরের বিমানবাহিনীর সহকারী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে।

ভিক্টর সাইমন আগের মতোই আছেন, আছে তার বাবুর্চি নিসান জাং কিম-ও! তিন গোয়েন্দাকে নিজের আবিষ্কৃত বিভিন্ন রান্না খাওয়াতে না পেরে প্রায়ই মন খারাপ করে কিম। আর ভিক্টর সাইমন জানালার পাশে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তার খুব মনে পড়ে ছেলে তিনটের কথা।

পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে ফগর‍্যাম্পারকট। গ্রীনহিলসের পাহাড়ের ধারে ছোট্ট একটা বাড়ি বানিয়েছে, স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকে। একটা রেস্টুরেন্ট দিয়েছে। ব্যবসা মোটামুটি ভালোই জমেছে। অবসর সময়ে বারান্দায় বসে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকে সে, স্মৃতিচারণ করে অতীতের। মনে পড়ে ছেলে তিনটের কথা! তাকে কী ঘোলই না খাইয়েছিলো দুষ্টুগুলো! ভেবে ভেবে নিজের অজান্তেই ঠোঁটে মুচকি হাসি ফোটে তার, গোঁফে তা দিয়ে বলে - 'আহ্, ঝামেলা!' মাঝে মাঝে ছেলেগুলোকে দেখার ইচ্ছে হয় ফগের। কতো বছর পেরিয়ে গেলো! কোথায় আছে ওরা, কেমন আছে; কে জানে!

বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস তুলে আজকাল বাতাস বয়ে যায় নির্জন স্যালভিজ ইয়ার্ডের আঙিনায়- এলোমলো হয়ে উড়তে থাকে চেস্টনাট গাছ থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতা! সে সবের মাঝে হয়তো মিশে থাকে আশ্চর্যবোধক চিহ্ন বসানো তিন গোয়েন্দার কার্ড...

৫৮৭৬ পঠিত ... ০৪:২৬, জুন ০৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top