অরুন্ধতীরে নিয়ে এত নাচানাচির কী আছে, উনি তো ইউপি নির্বাচনও জিততে পারবেন না!

২৪৮৪ পঠিত ... ১৭:০৭, মার্চ ০৬, ২০১৯

Illustraton: Shyama Golden

বুকার প্রাইজ বিজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়কে নিয়ে এতো নাচানাচি অর্থহীন। পশ্চিমা বিশ্ব যখন অনুন্নত দেশের কাউকে পুরস্কার দেয়; তখন বুঝতে হবে ঐ যে একটাই যন্ত্র 'ষড়যন্ত্র' কাজ করতেছে এর পেছনে। অরুন্ধতী রায়ের এইসব সাহিত্য-প্রবন্ধ ভারতের কোন কাজে আসছে! অরুন্ধতী রায় কী কোন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মেম্বর পদে নির্বাচন করে জিততে পারবেন! 

হাহ্‌! জামানত বাজেয়াপ্ত হইবো। তো এই যে যে মানুষটার একটা ইউপি নির্বাচনে জেতার যোগ্যতা নেই; তার কথা শোনার জন্য এতো আঁকুপাকু কেন। আর যত বড় মুখ নয়; তত বড় কথা, বলেন কিনা, নির্বাচনই গণতন্ত্রের একমাত্র উপাদান নয়। আসল হচ্ছে মানুষের অধিকার সংরক্ষিত হইলো কীনা সেইটা। 

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া ইউসলেস নাগরিক সমাজ যারে নিয়া লাফাবে; আপনার মধ্যে যদি খাঁটি দেশপ্রেম থাকে; তাহলে ঐরূপ ব্যক্তি নিয়ে লাফাবেন না। 

অরুন্ধতী রায় যদি এতোই যোগ্য হইতেন তাহলে আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হইতেন। ইউপি নির্বাচনে জয়ী হবার যোগ্যতা নাই যার, সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে! এইজন্যই বলি সুশীলগো এড়াইয়া চলেন। এরা ইহুদি-নাসারা গো এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়। ফ্রি-মেসেনদের এজেন্ট বইলা সন্দ হয়। 

খেয়াল করছেন, অরুন্ধতী রায় বললেন, আমি এসব কাল্পনিক রাষ্ট্রসীমায় বিশ্বাস করিনা; কেবল মানুষে বিশ্বাস করি। এইটা কোন কথা হইতে পারে না। দেশ না থাকলে দেশপ্রেমের কী হবে; আমরা দেশপ্রেম ছাড়া বাঁচতে পারবো না গো। 

অরুন্ধতী রায় ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বলিউডের নয়নের মনি আম্বানীর ধন-সম্পদের সমালোচনা করলেন। এই আম্বানী উন্নয়নের প্রতীক; যোগ্যতা আছে জন্যই টেকাটুকা বানাইতে পারছেন। অরুন্ধতী রায় নিশ্চয়ই তাকে হিংসা করে। সুশীলরা এই হিংসার কারণে দেশে দেশে উন্নয়নের শত্রু থেকে গেলেন। 

গরীব মানুষের জন্য এতোই যখন দরদ; তখন হিন্দি ভাষায় বই না লিখে ইংরেজিতে লিখলেন কেন! আমার এক পণ্ডিত বড় ভাই তাই বললেন, অরুন্ধতী রায় হচ্ছে পেটি বুর্জোয়া। গরীব মানুষের সেবা করতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর হয়ে উন্নয়নের সৈনিক হতে পারতেন তিনি। 

কিন্তু উনি উন্নয়নের শত্রু হয়ে বলছেন, শিল্পায়ন, নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও বনভূমি উজাড় করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে তাদের নিঃস্ব করা হয়েছে। প্রথমেই বলি, আদিবাসী বলে কিছু নেই। এরা হইতেছে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী। 

নিশ্চয়ই ঐ 'যন্ত্র' একটাই; ষড়যন্ত্র করতেছেন তিনি। কার কাছ থিকা কত টেকাটুকা নিছেন তিনি বলা মুশকিল। কিন্তু চলাফেরা দেইখা বোঝা যায়, উনি এলিট ; গরীবের বন্ধুর অভিনয় করতেছেন। এই যে "মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস"-এ আনজুম আনজুম বইলা কাঁদতেছেন; এই কান্নাকাটির সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। 

কইলাম এইজন্য যে, শহরে "অসাম্প্রদায়িক চেতনার" এতো অমিত সদন থাকতে; উনি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ও লোকের আমন্ত্রণে এলেন কেন! দুই দুই-এ চাইর করলে "ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড"। আর ধর্ম হেফাজতের দরকার পড়লে উনি কিছুদিন আগে এসে শোকরানা মেহেফিলে যোগ দিতে পারতেন; তা না কইরা কার ডাকে ছুইটা আসছে, দেখছেন্নি। 

অরুন্ধতী ইংরেজিতে কথা কওয়ায় বেশিরভাগই বুঝতে পারি না; তাও মনে হইলো, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উনি বন্দুকওয়ালা গান্ধীজী বলতেছেন। এইরকম উস্কানি আর গুজব উন্নয়নের পথে কত বড় বাধা; বুঝছেননি। 

আবার নিজেরাই শুনলেন; উনারে নিয়া উনি নিজেই মজা করলেন, উনি যে কোন মামলায় আদালত অবমাননা করায় আর হাউ কাউ বাধায়া দিতে ওস্তাদ হওয়ায় তারে আদালতে দেখলেই অনেকে মনে মনে বলে, ও দ্যাট হুকার, হু গট বুকার। 

বাকিটা আর বললাম না। আমার এক ঠিকুজি বিশেষজ্ঞ দাদার কাছ থিকা পরে শুইনা নিবেন "অরুন্ধতীর গুপন কথা"। আমার সমালোচনা তার উন্নয়ন বিরোধী রাজনীতি নিয়া। 

তাই বলতেছি, এইসব পশ্চিমা পুরস্কার বিজয়ী দেশ ও এলাকার শত্রু পেটি বুর্জোয়াদের ভক্ত হবেন না। ভক্ত হউন এলাকার বিশিষ্ট সহমত ভাইয়ের। ভক্ত হন পুলিশ-প্রশাসকের। উন্নয়নের দেবতার ভক্ত হন। ভেতরে ভেতরে শক্ত হন।

২৪৮৪ পঠিত ... ১৭:০৭, মার্চ ০৬, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top