আদিম যুগে গুহামানবেরা যেভাবে গ্যাস ছাড়াই রান্না করতো

৪৩২ পঠিত ... ১৮:৪৪, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন স্থানান্তর করতে টাই-ইন নামক কাজের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস থাকবে না বলে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এই গ্যাসহীন দিনগুলোটে কী করে রান্না হবে, সেই দুশ্চিন্তায় উত্তপ্ত হচ্ছে ঢাকাবাসীর মাথা। কীভাবে পাতে জুটবে খাদ্য, সেই ভাবনায় অনেকের বয়স বাড়ছে না বলে জানা গেছে। গ্যাসহীন জীবনে কী তবে খাবার পাওয়া অসম্ভব? 

খাদ্যগ্রহণের ফলে অনেক সময় গ্যাস উৎপাদিত হয়ে থাকলেও, খাদ্য প্রস্তুতে গ্যাস কী আসলেই এত জরুরি? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের তাকাতে হবে প্রাচীন যুগে, সেই গুহাবাসীদের আমলে। খাদ্য ছাড়া বাঁচা যায় না, সুতরাং তারা কিছু না কিছু অবশ্যই খেত। কিন্তু তাদের কী গ্যাস ছিলো? গ্যাস তো দূরের কথা, তাদের তো চুলাই ছিলো না। আরো গভীরভাবে ভাবলে দেখা যাবে, চুলা তো দূরের কথা, তাদের তো রান্নাঘরই ছিলো না। আর আরো একটু ভাবার প্র্যাকটিস করে ভাবলে আমরা দেখতে পাবো, রান্নাঘর তো রান্নাঘর, তাদের তো ঘরই ছিলো না। তবে তারা খেত কী?

ইচ্ছা আর ক্ষুধা থাকলে উপায় ঠিকই হয়। কিছু খেতে মন চাইলে তারা প্রথমে ফুডবাইসন দিয়ে খাবার অর্ডার দিতো। অর্ডার দেয়ার পর ডেলিভারি যদি দেরি হতো, তবে খাবারের পাশাপাশি তারা বাইসনটিকেও কেটেকুটে খেয়ে উঠতো। এভাবে করে বাইসন, ম্যামথ, ডাইনোসরসহ আরো অন্যান্য ফুড পার্সেল ব্যবসায়ী প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তবে ইন্টারনেট না থাকলে ফুড ডেলিভারি সার্ভিস বাদে তারা আগুন জ্বালিয়েও রান্না করতে পারত। তবে সেজন্য প্রথমে তাদেরকে লাকড়ি খুঁজতে হতো। গাছ কেটে লাকড়ি তৈরি করতে তাদেরকে গাছ কাটতে হতো। গাছ কাটার জন্য তাদেরকে কুড়াল তৈরি করতে হতো। কুড়াল তৈরি করতে তাদেরকে পাথর ঘষামাজা করে সিস্টেমে আনতে হতো। সে যাই হোক, কয়েকদিন ধরে লাকড়ি কাটার সবধরনের প্রস্তুতি শেষ করে লাকড়ি সংগ্রহ করে এরপর তারা লাকড়িতে আগুন ধরাতো। কিন্তু যেহেতু গ্যাস নেই, চুলা থেকে লাকড়িতে আগুন ধরানোর কোনো সুযোগ ছিল না। তাই তারা দুটো পাথর ঘষা দিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করতো। মূলত গ্যাস বন্ধ থাকায় পাথর ঘষাঘষি করতে করতেই গুহামানবেরা আগুন আবিষ্কার করেছিল।

তবে পাথর দিয়েও যদি আগুন না ধরানো যেত, তাহলে তারা আশেপাশের গুহায় কার ইলেক্ট্রিক চুলা আছে খোঁজ করতো। এরপর সেখান থেকে লাকড়িতে আগুন দিয়ে এরপর তাদেরকে রান্না করতে হতো। তবে কারো বাসায়ই ইলেক্ট্রিক চুলা না পাওয়া গেলে তারা অনেক সময় খাবার কাঁচাই খেয়ে ফেলত। এখান থেকেই 'এক্কেরে কাঁচা খায়া ফালামু' এই বাক্যের উৎপত্তি হয়।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, গ্যাস না থাকা একেবারেই নতুন কিছু নয়। সেই আদিমকাল থেকেই গ্যাস না থাকাটা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই আদ্যিকালের গুহামানবদের মতো গ্যাস ছাড়াই রান্না করার প্র্যাকটিস করুন। দেখবেন, রান্নার জন্য গ্যাসের একেবারেই দরকার নেই, দিব্যি গ্যাস ছাড়াই আপনি রান্না করতে পারছেন।

৪৩২ পঠিত ... ১৮:৪৪, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top