কানাবগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব ও রামগরুড়ের ছানা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প

৭২৪ পঠিত ... ২১:৪৬, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

অলংকরণ: রেহনুমা প্রসূন

তালগাছপুরের 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব' বার্ষিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে চায়। 'রাম গরুড়ের ছানা স্পোর্টিং ক্লাব' যেন কোনভাবেই এ চ্যাম্পিয়ানশিপের ধারে কাছে আসতে না পারে; সেটা পঁই পঁই করে বলে দেন কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাবের চেয়ারম্যান।

'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর শক্তি বাড়াতে হাঁসজারু স্পোর্টিং ক্লাবের কিছু খেলোয়াড় দলে নেয়া হয়। তালগাছ পুরের মানুষ বছরে একবার এই ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য উন্মুখ থাকে। তালগাছপুর বাজারের দোকানে দোকানে মানুষ জড় হয়ে এই ফুটবল খেলা নিয়ে জল্পনা কল্পনা করতে থাকে।

ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ রেফারি নিয়োগ করা দেয়া হয়। এর আগে এই ফুটবল ম্যাচের সময় দর্শকদের হাতাহাতি ও গুঁতাগুঁতির মধ্যে ফুটবল পাগল এক লাইন্সম্যানের একটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়। তাই ফুটবলের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে একটি চোখ হারানো ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে তাকেই রেফারি নিয়োগ করা হয়।

রেফারি এক চোখে কালোপট্টি বেঁধে খেলার মাঠটি সমতল করার কাজ পর্যবেক্ষণ করে। ভদ্রলোকের একটি চোখ অন্ধ হওয়ায় ফুটবল মাঠটি একদিকে ঢালু হয়ে যায়। পথচারীরা অনেকেই রেফারিকে এ কথা জানালে; সে বারবার মাঠটি দেখে; কিন্তু দেখে মাঠটি ঠিকই আছে। ভাবে অযথা লোকজন তাকে বিভ্রান্ত করছে। মাঠটিকে চারপাশ থেকে মসলিন কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।

নির্ধারিত দিনে ফুটবল ম্যাচের জন্য 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর খেলোয়াড়দের মাঠে নেমে শরীর চর্চা করতে দেখা যায়। সঙ্গে হাঁসজারু স্পোর্টিং ক্লাবের কিছু খেলোয়াড়ও দৌড়ঝাঁপ করতে থাকে। 'রাম গরুড়ের ছানা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর খেলোয়াড়দের টিকিটির সন্ধান পাওয়া যায় না।

মাঠের আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণকারীরা বেছে বেছে 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর সমর্থকদের ঢুকতে দেয়। 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর খেলোয়াড়েরা হাঁসজারু স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের তাদের বিরুদ্ধে খেলার অনুরোধ জানায়। তারা রাজি হয় না। অনেকে অসুস্থতার ভান করে।

খেলা না হলেও 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর খেলোয়াড়েরা চ্যাম্পিয়ানশিপ ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপন শুরু করে। হাঁসজারু স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের রানার আপ ট্রফি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে অনুরোধ করে তারা। কিন্তু ওটা স্পর্শ করতেও রাজি হয়না হাঁসজারু স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়রা। তারাও চ্যাম্পিয়ানশিপের অংশীদারিত্ব দাবি করে।

রেফারি বলে, এটা আপনাদের বিষয়। আপনারা মীমাংসা করুন। আমার গাড়ি ভাড়াটা দিয়ে দিন; আমি বাড়ি যাবো। রেফারি খেলার মাঠ থেকে বের হলে স্বচ্ছ মসলিনের বাইরে থেকে তোলা কিছু ছবি দেখিয়ে দর্শক বলে, কোনই ম্যাচই হয়; অথচ আপনি চলে যাচ্ছেন!

রেফারি বিরক্ত হয়ে বলে, আপনারা আগের কোন ম্যাচের ছবি দেখাচ্ছেন; আপনারা ফুটবলের শত্রু; আপনাদের এইসব অভিযোগ রূপকথা; পূর্বনির্ধারিত ও অগ্রহণযোগ্য।

দর্শকরা বলে, এই ম্যাচের চ্যাম্পিয়ানশিপ ট্রফি কে পাবে সেটা খেলা ছাড়াই পূর্বনির্ধারিত বলে মনে হচ্ছে।

মাঠের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারীরা এসে ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন তোলা দর্শকদের মৃদু লাঠির বাড়ি দিয়ে রেফারিকে গাড়িতে তুলে দেয়; আর 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর সমর্থকদের বিজয় মিছিলের জায়গা করে দেয়।

তালগাছপুরের স্থানে স্থানে 'কানা বগির ছা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর ফ্যান ক্লাব গরু জবাই করে প্রীতিভোজের বিজয় উদযাপন করে। লাউডস্পিকারে গান বাজতে থাকে; ফুটবল ফুটবল; বি কেয়ারফুল; ইটস ফুটবল।

৭২৪ পঠিত ... ২১:৪৬, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top