একজন সফল গার্মেন্টস শিল্পপতির মেয়ের বিয়েতে যা যা আলোচনা হলো

২৭১৪ পঠিত ... ১৯:৪৪, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

একজন সফল গার্মেন্টস শিল্পপতির মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান আনন্দ ঝলমল করছে। নগরীর সফল মানুষেরা গিজগিজ করছে সেখানে। অত্যন্ত স্মার্ট পোশাক; চুলে জেল আর আই মেকআপে একবিংশের নাগরিক সমাজ গল্পগুজব করছে।

একজন বুদ্ধিজীবী চেহারার লোক বলে, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোটর বাইকে হেলমেট না পরে আইন লংঘন করেছে; একজন আইন প্রণেতার কাছ থেকে আমরা এর চেয়ে আরো বেশি দায়িত্ববোধ প্রত্যাশা করি।

নরওয়ে প্রবাসী এক অতিথি কথাটাকে লুফে নিয়ে বলে, আমাদের ওখানে এমনটি একদম চোখে পড়ে না।

একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলে, এতো সস্তা স্টান্ট আর চলে না।

ইতিহাস দাদা বলে, মনে পড়ে স্বৈরাচারী এরশাদের সাইকেল চড়ার স্টান্টের ছবির কথা।

এক তরুণ পাশের সোফায় বসে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়, আমরা কি এমন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী চেয়েছিলাম! সঙ্গে আপলোড করে দেয় হেলমেট বিহীন ছবি।

বিয়ে বাড়ির অতিথি টেবিলগুলো তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর হেলমেট-হীনতায় প্রকম্পিত হয়।

এক আধুনিক নারী বলে, দিস ইজ আ কমপ্লিট ভায়োলেশান অফ ল। ডিসগাস্টিং। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে সে ইনস্টাগ্রামে 'হ্যাশট্যাগ দ্য হেলমেটলেস মিনিস্টার' মুভমেন্ট শুরু করে দেয়। এটা ট্রেন্ড হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

নরওয়ে প্রবাসী বলে, আরেকটা ছবি দেখলাম স্টান্টের। এক মন্ত্রীর ঘর ঝাড়ু দেয়ার ছবি দেখলাম।

পাশে বসা ইতিহাস দাদা বলে, এটা আগের ছবি; এই যে মিলিয়ে দেখুন, মন্ত্রী প্রথম কর্মদিবসে অন্য শাড়ি পরে।

ছবি: কালা কাউয়া পেজের সৌজন্যে

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলে, স্টান্টে কাজ হবে না; পারফরমেন্স দেখতে চাই।

এক লোক খুব আত্মতৃপ্তির সঙ্গে বলে, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী হেলমেট হীনতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। যাক এভাবেই সুশাসন আর জবাবদিহিতা তৈরী হবে।

আধুনিক নারী 'হ্যাশট্যাগ দ্য হেলমেটলেস মিনিস্টার' মুভমেন্টের সাফল্যে বিয়ের বাড়িময় আনন্দে গুন গুন করে গান করতে করতে ঘুরতে থাকে। অনেকে মুভমেন্টের সাফল্যে সেলফি তোলে তার সঙ্গে।

একটু আগে হেলমেটহীনতা নিয়ে ট্রল করা তরুণটি চেঁচিয়ে ওঠে। পুলিশে সঙ্গে সংঘর্ষে সুমন নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছে।

ফোন এসেছে এমন অজুহাতে খাবার টেবিল থেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী উঠে যায়।

তরুণটি উঠে গিয়ে হেলমেট মুভমেন্টের আপাকে শ্রমিক নিহতের খবরটা দেয়।

সেখানে উপস্থিত আরেক ভাবি বলে, গার্মেন্টসে কাজের সুযোগ পাবার পর বাসা বাড়িতে সার্ভেন্ট পাওয়া খুব ডিফিকাল্ট হয়ে পড়েছে। আমার দারোয়ান ছেলেটা বড্ড দেমাগ দেখিয়ে গত মাসে গার্মেন্টসে কাজ নিয়েছে।

ওদিকে নরওয়ে প্রবাসী বলে, শ্রমিকদের মজুরি এতো কম কেন বুঝি না। এত প্রফিট হচ্ছে যখন এ সেক্টরে। ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে কম মজুরি কেন পাবে এরা!

ইতিহাস দাদা বলে, সবই হবে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্য। আর এই শ্রমিক আন্দোলনের পিছে কারো উস্কানি বা ইন্ধন আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে হবে। চারিদিকে উন্নয়নের শত্রু।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী টেবিলে ফিরে এসে যোগ দেয়, আমিও এটাই বলতে চেয়েছিলাম হিস্ট্রিদা। উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করুন।

বুদ্ধিজীবী বলে, আমাদের কর্তব্য হচ্ছে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।

খাবার টেবিলে উপস্থিত একজন দায়িত্ববান পুলিশ বলে, উই হ্যাভ স্টার্ডেড আওয়ার জব। আপনারাও ফেসবুকের উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত আমাদের ফেসবুকের গুজব নিরাময় কেন্দ্রে জানান।

হেলমেন্ট মুভমেন্ট সফল আপা এসে সবাইকে বলে, ডিনার সার্ভ করা হয়েছে। লেটস সেলিব্রেট আওয়ার ভিক্ট্রি এগেইন্সট দ্য হেলমেটলেস মিনিস্টার।

এমন সময় বিয়ে বাড়ির বর-কনে একসঙ্গে পুলিশের কর্মকর্তার কাছে এসে বলে, আমাদের এই মুহূর্তে বিয়ে করার এতটুকু ইচ্ছা ছিলো না। রিয়্যাল আর ভার্চুয়াল লাইফের বন্ধুদের উস্কানি আর ইন্ধনে বিয়ে করতে হলো। আপনার কাছে রিপোর্ট করে করে গেলাম।

এমনি একটি চ্যালেঞ্জিং মোমেন্টে একজন মন্ত্রী হাস্যজ্জ্বল মুখে প্রবেশ করেন বিয়ের পার্টিতে। আত্মীয় স্বজনের ইন্ধনে বিয়ের বর-কনে তার কাছে দোয়া নিতে যায়। মন্ত্রী বরের কাঁধে হাত রেখে বলে, বাসর রাতেই বেড়াল মারতে ভুলে যেও না কিন্তু।

২৭১৪ পঠিত ... ১৯:৪৪, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top