মাছ চুরি করলে জেল হয়, কিন্তু পুকুর চুরি করলে?

১১২৭ পঠিত ... ১৪:৩৯, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

. একটি কৌতুক

এক সরকারি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রামের একটা পুকুর ভরাট করার কাজে পাঠানো হলো। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার গ্রামে গিয়ে দেখলেন, যেখানে পুকুর থাকার কথা সেখানে আদৌ কোনো পুকুর নেই, সবুজ মাঠ। মাঠে গরু ঘাস খাচ্ছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করলেন। জানা গেলো, আগের এক সরকারি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এই জায়গায় একটা পুকুর খনন করার কাজ পেয়েছিলো। পুকুর তো কাটা হয়ইনি, বরং পুকুর কাটার জন্য এক লাখ টাকার বিল বানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার পুরো টাকাই পকেটে পুরেছে।

সব বুঝেশুনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার খাতায় নানান হিসাব নিকাশ করে পুকুর ভরাট করার কাজের জন্য দেড় লাখ টাকার বিল করে গ্রাম থেকে ফিরে এলেন।

. একটি খবর

গণ্যস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জমি দখলের পাশাপাশি মাছ চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার (২৪ অক্টোবর) রাতে কাজি মহিবুল নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন (বাংলা ট্রিবিউন)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মালিকানাধীন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে কাজি মহিবুলের ১৯ একর জমি রয়েছে। তিনি ওই জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ চাষ করে আসছেন। তবে বেশ কিছু দিন যাবৎ জাফরুল্লাহর লোকজন জমিটি দখলের চেষ্টা করছিলেন ও জমির মালিককে মোটা অংকের চাঁদার দাবিতে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এছাড়াও ওই ব্যক্তির পুকুর থেকে জাফরুল্লাহ তার লোকজনদের দিয়ে মাছ চুরি করিয়ে নিয়েছেন।

. একটি ভাবনা

জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঐ মাছচাষীর পুকুর থেকে কী মাছ চুরি করেছিলেন? মাগুর, বোয়াল নাকি পাঙ্গাস? মাছ কি ভুনা করে রান্না করা হয়েছিল নাকি ভাজা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা যায়নি।

এমন অজানা বিষয় আরো আছে। যেমন-

-চুরি হওয়া মাছগুলো কীভাবে ধরা হয়েছিল? ছিপ দিয়ে নাকি জাল ফেলে?
-ছিপ দিয়ে ধরা হলে ছিপে টোপ হিসেবে কী ব্যবহার করা হয়েছিল?
-শুধুই কি মাছ চুরি করা হয়েছিল, নাকি মাছের সাথে জুয়োপ্লাংকটন, ফাইটোপ্লাংকটন, নানান রকম শৈবাল, এগুলোও চুরি হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, সেগুলোর জন্য পৃথক মামলা হলো না কেন!

আশা করা যেতে পারে, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এসব রহস্যেরও সমাধান হবে।

. একটি কল্পনা

মাছ চুরির এই রোমহর্ষক মামলা তদন্তের জন্য ইন্টারপোলের অ্যাকুয়াটিক ফোর্সের একটি ডুবুরি দল ওই পুকুরে অভিযান চালাতে গেলেন। মাছ চুরির ঘটনার সহযোগী সন্দেহে বেশ কয়েকটি মাছকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। প্রথমে ধরা হলো এক মাগুর মাছকে। মাগুর মাছ জানালো, ‘ওস্তাদ, আমি তো এই পুকুরের না, অন্য পুকুরের। এইখানে বেড়াইতে আসছি। আমি কিছু জানি না।’ কৈ মাছ জানালো, ‘কৈ? আমি তো এমন কিছু জানি না।’ রুই-কাতলাদেরকে ধরা গেলো না, তারা বিশেষ প্রটোকলে জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে গেলো। বোয়াল মাছকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করামাত্র সে একটা পিলে চমকানো হাসি দিয়ে বললো, ‘স্যার, মাছ চুরি হইছে ঠিক। তবে ঘটনাটা এই পুকুরের না, আগের পুকুরের।’

ইন্টারপোলের ডুবুরি বোয়াল মাছের কাছে বিস্তারিত শুনতে চাইলো। বোয়াল জানালো, ‘এইখানে আগে একটা পুকুর ছিল। সেই পুকুরে মাছ চুরি হইছে। এই পুকুরে এমন কোনো ঘটনা ঘটে নাই।’

ডুবুরি কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলো, ‘মাছ চুরি হওয়া পুকুরটা কোথায়?’

বোয়াল আরো একবার দাঁত বের করে হেসে বললো, ‘স্যার, ওই পুকুর তো চুরি হইয়া গেছে।’

১১২৭ পঠিত ... ১৪:৩৯, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top