বাংলাদেশ যে কারণে উদ্ভাবনে পিছিয়ে নেই!

২৭৬৭ পঠিত ... ০০:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

উদ্ভাবনী কাজে এশিয়া মহাদেশে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর। গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০১৮ এর এক প্রতিবেদনে বলা জানানো হয়েছে--পাকিস্তান, নেপাল শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান ইত্যাদি দেশও বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি উদ্ভাবনী দেশ হলো সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর। ছয় নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে মোট ১২৬ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬। 

গ্রাফিক্স: প্রথম আলোর সৌজন্যে

গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স-এর এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুখি বিজ্ঞান ধারণা (সুবিধা) লীগের সদস্যরা। সুবিধা লীগের মহাসচিব মন্তব্য করেছেন, গত একটি দশক ধরে সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র উদ্ভাবনের লক্ষ্যে আমরা নিরলস কাজ করে সফল করেছি। আমাদের উদ্ভাবিত যন্ত্রটির নাম "ষড়যন্ত্র"। আমরা এর পেটেন্ট করিয়ে মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করেছি। পদার্থ বিদ্যায় এ বছরের সম্ভাব্য নোবেল পুরস্কারের তালিকায় "ষড়যন্ত্র" রয়েছে। সুতরাং গ্লোবাল ইনোভেশন বিদেশে বসে "মনগড়া" প্রতিবেদন লিখেছে। 

সুবিধা লীগের সভাপতি বর্ণনা করেছেন "ষড়যন্ত্র" ও এর খুচরা যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা সম্পর্কে। ষড়যন্ত্র উদ্ভাবনে ছয়টি খুচরা যন্ত্রাংশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তার বর্ণিত ষড়যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশগুলো নিম্নরূপ। 

ষড়যন্ত্রের মূল যন্ত্রাংশ হচ্ছে "চেতনার ফিল্টার যন্ত্র"; এর মাধ্যমে যে কোন মানুষের দেশপ্রেমের ওজন কত কেজি তা অনায়াসে মাপা যায়। দেশপ্রেমের ওজন যত বেশী হয়; ঐ ব্যক্তির পদ-পদবী-পদক-আর্থিক প্রবৃদ্ধি তত সম্প্রসারিত হয়।  এক্ষেত্রে ভার্ণিয়ার ধ্রুবক বা মাপকাঠি হিসেবে রয়েছে কয়েকজন নিয়ত ইতিহাস রচয়িতার বেঁধে দেয়া সূচক। স্মৃতিসৌধে ও শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সংখ্যার সঙ্গে ফেসবুকে দেশপ্রেম প্রকাশক স্ট্যাটাসের সংখ্যা যোগ করে; সরকারের গুণ কীর্তনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই "চেতনার ফিল্টার যন্ত্র" জানিয়ে দেয় দেশপ্রেমের ওজন। 

ষড়যন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হচ্ছে "ধর্মীয় অনুভূতিমাপক যন্ত্র"। অনুভূতি বা সেন্টিমেন্ট কত সেন্টিমিটার লম্বা তা খুব সহজেই মেপে দিতে পারে এ যন্ত্র। ধর্মীয় অনুভূতি যত লম্বা হয়, খাসজমি ও অর্থবরাদ্দ ততো বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে ভার্ণিয়ার ধ্রুবক হিসেবে রয়েছে কয়েকজন নিয়ত ধর্মীয় অনুভূতি রচনাকারীর বেঁধে দেয়া সূচক। ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল আইনে সমর্থনের মাত্রার সঙ্গে ধর্মীয় আবেশ ও সরকার সমর্থন প্রকাশের সংখ্যা যোগ করলেই "ধর্মীয় অনুভূতিমাপক যন্ত্র" জানিয়ে দেয় ধর্মীয় অনুভূতির  দৈর্ঘ্য। 

ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে কার্যকর যন্ত্র হচ্ছে "গুম যন্ত্র"। যাদের দেশপ্রেমের ওজন কম এবং ধর্মীয় অনুভূতির দৈর্ঘ্য কম; তাদের মেরামতে সবচেয়ে কার্যকর গুম যন্ত্র। প্রেম ও ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে যারা হারিয়ে যায়; তাদের মস্তিষ্কে গুম যন্ত্রের তারের দুটি প্রান্ত লাগিয়ে হাই ভোল্টেজের শক দিলে এরা ফিরে পায় দেশপ্রেম-ধর্মীয় অনুভূতি তথা সরকার সমর্থনের হুঁশ। মানুষের মস্তিষ্ক মেরামতের এমন ধন্বন্তরী যন্ত্র এতোদিন ছিলো অজানা। এই যন্ত্রের ব্যবহারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু হলে বুঝতে হবে এমন দেশপ্রেম ও ধর্মীয় অনুভূতিহীন সরকার বিরোধী লোক আসলে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল শ্রেয়। 

বাংলায় 'ষড়যন্ত্র' ব্যবহারে মীর জাফর-ঘষেটি বেগম জুটি এখনো স্বরনীয় হয়ে আছে।

ষড়যন্ত্রের আরেকটি বিস্ময়কর খুচরা যন্ত্রাংশের নাম টাইম মেশিন। বর্তমান কালের যন্ত্রণা ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিতে সহসা মানুষকে ইতিহাসের যন্ত্রণা ভ্রমণ করিয়ে আনা যায় টাইম মেশিন চেয়ারে বসিয়ে। এই চেয়ারে বসিয়ে রোগীর চোখে "উন্নয়নের থ্রীডি চশমা" পরিয়ে দিলে প্রথমে তার চোখের সামনে জিডিপি গ্রোথ, ব্যাংক রিজার্ভ, রপ্তানী আয় ইত্যাদির পরিসংখ্যান ভাসতে থাকে। এরপর সে ফ্লাইওভার, চারলেনের সড়ক, পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলে চড়ে ভ্রমণ করতে করতে ঢুকে পড়ে মাত্র দশবছর আগের বাংলাদেশ আমলের অন্ধকার যুগে; এরপর সর্বনাশা পাকিস্তান আমল, বৃটিশ আমল, মুঘল যুগের গভীর অন্ধকার আর নির্যাতনের চাবুকে চেয়ারে বসা রোগী চিৎকার করতে থাকে। অনেকক্ষণ আর্তনাদের পরে আবার তাকে মেট্রোরেলের আনন্দভ্রমণে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। রোগী ফিরে পায় স্বর্গের শান্তি। 

'ষড়যন্ত্র'-এর পেটেন্ট রক্ষার জন্য যুদ্ধ হয়েছে বারবার!

ষড়যন্ত্রের আরেকটি যন্ত্রাংশের নাম "সসেস যন্ত্র"। যেসব মানুষকে কোনভাবেই উন্নয়নের মূল ধারায় রাখা যাচ্ছে না; যাদের প্রয়োজনীয় আনুগত্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কিছুতেই; তাদের দিকে এই যন্ত্র অনবরত কুতসা ছুঁড়তে থাকে। এদের জন্য চেতনার ফিল্টার যন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত নল দিয়ে বেরিয়ে আসে, সুশীল, বামাতি, রাজাকার, বিএনপি, পাকিস্তান, চীন, এমেরিকার দালাল ইত্যাদি তকমা। "ধর্মীয় অনুভূতিমাপক যন্ত্রে"র সঙ্গে সংযুক্ত নল দিয়ে বেরিয়ে আসে, নাস্তিক-কাফের-মুরতাদ ইত্যাদি তকমা। "গুম যন্ত্র" সংযুক্ত নল দিয়ে বেরিয়ে আসে ভীতি, "চল অস্ত্র উদ্ধারে যাই"। আর টাইম মেশিন ঐসব ব্যক্তির নারীঘটিত কেলেংকারির দৃশ্য দেখাতে থাকে আভাগার্দ চলচ্চিত্রের কাটপিস দিয়ে। সসেস যন্ত্রটি তখন ছ্যা ছ্যা করে; সঙ্গে বাজতে থাকে সরকারি সেবা সংঘ (সসেস)-এর ভাইয়া ও বুবুদের লোকজ ও সসেস-এর মত স্বাদু রগড়। 

'ষড়যন্ত্র' শব্দটি এখন শুধুই আমাদের।

ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ যন্ত্রাংশের নাম "সহমত ভাই যন্ত্র"। এই যন্ত্রের সাহায্যে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বত্র কোন রকম ভিন্নমত প্রকাশ না করে সবসময় "সহমত ভাই" বলার সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। সহমত ভাই যন্ত্রের সঙ্গে  চেতনার ফিল্টার যন্ত্র,ধর্মীয় অনুভূতিমাপক যন্ত্র, গুম যন্ত্র, টাইম মেশিন, সসেস যন্ত্রের অন্তঃসম্পর্ক থাকে। ফলে সহমত ভাই যন্ত্র খুব দ্রুত যে কোন বেপথু মানুষকে পথে নিয়ে আসতে পারে। 

সুবিধা লীগের প্রচার সম্পাদক বলেছেন, ষড়রিপু ও ষড়ঋতুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরী করা এই শ্রেষ্ঠ যন্ত্র, ষড়যন্ত্র কেবল পদার্থ বিজ্ঞান নয়; চিকিৎসা বিজ্ঞানেও সাড়া ফেলতে বাধ্য। নোবেল কমিটি এই বাস্তব সত্যটি যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করে; তাতেই মঙ্গল।

২৭৬৭ পঠিত ... ০০:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top