কোটা সংস্কার আন্দোলনের বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও বক্তব্য পাল্টানো চক্র

৩৬৫৭ পঠিত ... ১৮:৪০, জুলাই ১৮, ২০১৮

কোটা-সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হাতুড়ি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া, কিল-চড়-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে লাথি দেবার মতো ঘটনা ছাত্রলীগ ঘটিয়ে ফেলার পরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ছাত্ররা কী করেছে আমার জানা নেই।

সাধারণ মানুষ ছাত্রলীগের এসব হামলা সামনাসামনি ও ভিডিওতে চাক্ষুষ দেখায় তেতে উঠে বলে, এই দেশে যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয় সেই এলো-মেলো ও উদ্ভট কথা বার্তা বলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উদ্ভট কথার ঝাঁপি খুলে বসেন, কোটা-সংস্কার আন্দোলনকারীরা জঙ্গি।

প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন মারামারির খবর জানিনা। খতিয়ে দেখতে হবে।

বিরক্ত লোকজন বলে, দলবাজি করার জন্য এসব পাগলামি করার মানে হয় না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বাশি বলে, বাম ঘরানার শিবির বলে তকমা দেন। হাতুড়ি দিয়ে আন্দোলনকারীর হাড়-গোড় ভেঙ্গে দেয়া জাস্টিফাই করতে বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে বলে শুনেছি।

প্রক্টরের বয়ান একই, দেখি খতিয়ে দেখতে হবে।

সাধারণ মানুষ সমস্বরে বলে, পাগল-পাগল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একইসঙ্গে যেহেতু 'শিক্ষার জাদুঘর' ও 'কিল-চড়-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে লাত্থানোর চিড়িয়াখানায়' পরিণত হয়েছে; আর পৃথিবীর যে কোন জাদুঘর ও চিড়িয়াখানায় প্রবেশের অনুমতি নিতে হয়; ভিসি তাই বহিরাগতদের এই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্ররা বলে, পৃথিবীর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা নেই; ফলে কেবল উন্মাদের পক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব।

ভিসি তার গোলামদের বলেন, আমি উন্মাদ এটা তো টপসিক্রেট; গুপনীয় বিষয়; ঘরের কথা পরে জানলো ক্যামনে; নিশ্চয়ই তুমরা খবরটা লিক করছো।

গোলামেরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশ আছে 'মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার করা যাবে না।'

কেউ কেউ বলে, ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন কোটা বাতিল; ২ জুলাই কোটা বাতিল বা সংস্কারের সরকারি কমিটি করলেন, এখন আবার হাইকোর্ট দেখাইতেছেন; এরশাদ পাগলা এমন ছিলেন। সকালে এক কথা তো সন্ধ্যায় আরেক কথা।

প্রধানমন্ত্রী কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, '১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকার খাবার খেয়ে লাফালাফি করে।'

এর পরপরই তিনি চারজন বৃদ্ধ মন্ত্রীকে চারটি বিএমডব্লিউ গাড়ী উপহার দেন।

সাধারণ মানুষ বলে, এগুলো খুবই এলোমেলো, দৃষ্টিকটু আর আউলা-ঝাউলা চিন্তাভাবনা। শুধু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যে ব্যয় বেড়েছে; তা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের প্রায় চারগুণ।

এরপর খবর আসে, প্রধানমন্ত্রী পাবনা যাচ্ছেন।

জনমনে স্বস্তির ভাব জাগে। পাবনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ২০০ জন জামায়াত কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেরকম হেফাজত প্রধানের কাছে গিয়ে ইসলামের চেতনার আলোয় পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজম করে; ঠিক তেমনি সারাদেশে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোয় পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজম করে।

ধর্মের তামাক আর দেশপ্রেমের ফিল্টার; দুজনে দুজনার হয়ে দেশের ফুসফুস ঝাঁঝরা হবার উপক্রম। হেফাজতের ধর্মের আলোয় দীক্ষিত আওয়ামী নেতারা ভয় দেখায়, ইসলামের অবমাননা মেনে নেয়া হবে না। আবার আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীক্ষিত সাবেক জামায়াত ও নও-আওয়ামী লীগাররা ভয় দেখায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা মেনে নেয়া হবে না।

ধর্ম আর দেশপ্রেমের বিষাক্ত মিশ্রণে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে; তার একমাত্র চিকিতসা পাবনার মানসিক হাসপাতালেই সম্ভব। প্রয়োজন বোধে দেশে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মানসিক হাসপাতাল খোলার পরামর্শ রাখে নাগরিক সমাজ।

পাবনার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে প্রতিটি গ্রাম শহর হবে।

লোকজন অনেক আশায় সে শহর কেমন হবে তা বুঝতে মহানগরী ঢাকার দিকে তাকিয়ে দেখে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা আঙ্গুল তুলে একজন শিক্ষককে শাসাচ্ছে।

এর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে জনগণ সোচ্চার হলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ওবায়দুল কাদের সরাসরি ডিনাইয়াল বা অস্বীকারসূত্র অনুযায়ী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। সুতরাং এসব হামলা ছাত্রলীগের নামে অন্য কেউ করেছে কিনা; তা খতিয়ে দেখতে হবে।

অপরাধ অস্বীকারের এরকম উদ্ভট কৌশল দেখে সবাই বলে, রঙ হেডেড লোকের কাছে সমস্যার সমাধান থাকে না; থাকে উদ্ভট অপযুক্তি আর অজুহাত।

পরদিন মন্ত্রীপরিষদের অনেকেই অভিযোগ করেন, আজকাল জনগন কথায় কথায় আমাদের পাগল বলে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাবনা ঘুরে আসা একজন মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আমার স্ত্রী পর্যন্ত বলছিলো ওর বান্ধবীরা পর্যন্ত নাকি হাসাহাসি করে বলেছে, তোমার জামাই কী পাবনায় মানসিক চিকিৎসা করাইতে গেলো নাকি!

সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, কাউকে অন্যায়ভাবে মানসিক রোগীর সার্টিফিকেট দিলে জেল-জরিমানা হবে।

৩৬৫৭ পঠিত ... ১৮:৪০, জুলাই ১৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top