চায়ের দোকানে স্যাটেলাইট নিয়ে আলাপ জমাতে যে সব তথ্য জেনে রাখতে পারেন

৬৫২৮ পঠিত ... ১৬:২২, মে ১১, ২০১৮

প্রথমবারে উৎক্ষেপণ করা না গেলেও অবশেষে মহাকাশে উৎক্ষেপিত হয়েছে আমাদের 'স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১'। পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে সবাই যেমন আলোচনায় থাকে, আছে স্যাটেলাইটও।আলোচনায় যখন রয়েছে, তা নিয়ে আলাপ তো জমাইতেই হবে।তবে নিতান্তই আলাপ জমানোর জন্য হলেও কিছু তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন! চায়ের দোকানে যেন আগামী কয়েকদিন যেকোনো মুখরোচক 'স্যাটেলাইট আলাপ'-এ পিছিয়ে না পড়েন, তাই নিচের স্যাম্পল প্রশ্নোত্তর থেকে কিছু তথ্য জেনে নিতে পারেন!

অলংকরণ: সালমান সাকিব শাহরিয়ার

প্রশ্ন: ভাই, স্যাটেলাইটের নাম বঙ্গবন্ধু-১ কেন? এইটা কি পলিটিক্যাল স্যাটেলাইট?
উত্তর: স্যাটেলাইটের নাম 'বঙ্গবন্ধু-১' হইতেই পারে। বিএনপির আমলে এই স্যাটেলাইট উড়লে নাম হইতো 'জিয়া-১'। এরশাদের আমলে এই স্যাটেলাইট উড়লে নাম হইতো 'বিদিশা-১'। এইটা একধরনের বাংলাদেশী কালচার। বদরুল সাহেব স্যাটেলাইট পাঠাইলে এর নাম দিবে উনার ছোট মেয়ে নাবিলার নামে। তখন স্যাটেলাইটের নাম হবে- 'নাবিলা-১'। ঘটনা বোঝা গেছে?

প্রশ্ন: আরে ভাই, এই স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায়া কী হবে? আমাদের স্যাটেলাইট থেকে লাভটা কী?
উত্তর: একজন লোকের ব্যক্তিগত গাড়ি থাকা, আর একটা দেশের ব্যক্তিগত স্যাটেলাইট থাকা একই কথা।

প্রশ্ন: প্রাইভেট কার-এর সাথে স্যাটেলাইট এর মিলটা কোথায়? বুঝায়া বলেন।
উত্তর: ধরুন আপনার এলাকায় ৫৬ জনের গাড়ি আছে। এরপর ৫৭ তম ব্যক্তি হিসেবে আপনি গাড়ি কিনলেন। এখন এই গাড়ি কেনার পর প্রথমেই যেটা হবে, এলাকায় আপনার ভাব বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে। যাবে না?
- ভাব তো বাড়বোই। গাড়ি থাকলে লোকজন সমাদর কইরা কথা কইবো। গাড়ি দেইখা অনেকে আমারে 'স্যার' কইবো।
- হ্যাঁ, ব্যক্তিগত স্যাটেলাইট ওড়ানোর ফলে বাংলাদেশের ভাবও খানিকটা বেড়ে গেলো। সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। যে সব দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেই, তারা আমাদের সাথে সমাদর করে কথা বলবে।

প্রশ্ন: গাড়ি তো কাজে লাগবো, মাগার স্যাটেলাইট কোন কাজে লাগবো?
উত্তর: এখন আপনি গাড়ি দিয়ে কী কী করবেন? প্রয়োজনে নিজের কাজে যাতায়াতে ব্যবহার করবেন। স্যাটেলাইটও নিজের কাজে আমরা ব্যবহার করতে পারবো।

প্রশ্ন: স্যাটেলাইট কিভাবে ব্যবহার করব সেইটা বলেন শুনি?
উত্তর: এখন দেশে প্রায় ৩০টি স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের স্যাটেলাইট থাকায় আর ভাড়া নিয়ে কাজ করা লাগবেনা। নিজেদের স্যাটেলাইট ব্যবহারের ফলে খরচ কমে আসবে। দেশের টাকা দেশেই থাকবে।

প্রশ্ন: স্যাটেলাইট তো কাজের জিনিস ভাই! এইডা আর কোন কাজে লাগানো যাবে?
উত্তর: আপনি যেমন আপনার গাড়ি ভাড়ায় খাটিয়ে ইনকাম করতে পারেন। স্যাটেলাইটও আমরা ভাড়ায় খাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবো।

প্রশ্ন: কিন্তু ভাই, স্যাটেলাইট ভাড়ায় খাটাইলে ওইসময় আমরা ব্যবহার করব কী?
উত্তর: এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে বলে সরকার থেকে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ ২০টি ট্রান্সপন্ডার আমাদের জন্য সব সময় থাকবে।

অলংকরণ: সালমান সাকিব শাহরিয়ার

প্রশ্ন: বাহ! স্যাটেলাইট তো মারাত্বক জিনিস! ভাই, এই একটা স্যাটেলাইট দিয়া কি কেয়ামত পর্যন্ত কাজ চালানো যাবে?
উত্তর: নাহ! আগেই বলেছি স্যাটেলাইট গাড়ির মত। গাড়ির যত্ন নিলে আপনি গাড়িকে ২০-২৫ বছর টিকিয়ে রাখতে পারবেন। কিন্তু উৎক্ষেপণের পর মুহূর্ত থেকে এই স্যাটেলাইটের মেয়াদ থাকবে মাত্র ১৫ বছর।

প্রশ্ন: এত কম সময়?
উত্তর: হ্যাঁ। তাই যতভাবে ব্যবহার করা যায়, এই ১৫ বছরের মধ্যেই ব্যবহার করতে হবে। অযথা সময় নষ্ট করা হলে, আপনার আমার পকেটের তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্যাটেলাইট কোন কাজেই আসবে না। গাড়ি কিনে ফেলে রাখলেন, চালালেন না, এতে কি কোন লাভ হবে? হবে না।

প্রশ্ন: ভাই, গাড়ির মত কি স্যাটেলাইটেরও লাইসেন্স লাগে?
উত্তর: ভাই, মহাকাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। এসব ভাবনা না ভেবে, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে স্যাটেলাইট যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা। এটা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।

বাড়তি তথ্য: বড় কোন দুর্যোগে তারবাহিত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, স্যাটেলাইট থেকে তরঙ্গের মাধ্যমে ইন্টারনেট যেকোনো এলাকায় দেয়া যাবে। এতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে না। এমনকি পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে বর্তমানে নেট পাওয়া যায় না সেখানেও স্যাটেলাইট থেকে এখন নেট দেয়া যাবে। কিন্তু এই পদ্ধতি খরচ সাপেক্ষ।

৬৫২৮ পঠিত ... ১৬:২২, মে ১১, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top