মুহম্মদ জাফর ইকবালের সমিস্যা সমূহ

১৪৪০০ পঠিত ... ০০:২৯, মার্চ ০৪, ২০১৮

এক জ্ঞানী লোকের পশ্চাৎদেশে একবার ইয়া বড় এক ফোঁড়া হল। বেচারা কোথাও গিয়ে বসতে পারেনা। শিষ্যরা তাকে বসার জন্য কাঠের চেয়ার এনে দিলে সে বলে, এইভাবেই দেশের সমস্ত কাঠ কেটে ফেলা হচ্ছে। বন জঙ্গল উজাড় করে দেয়া হচ্ছে। মানিনা মানবো না। কাঁচুমাচু হয়ে শিষ্যরা ষ্টীলের চেয়ার এনে দিলে বলে, এইভাবে ষ্টীল মিল বানিয়ে দেশ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চারিদিক দূষিত করে ফেলছে। মানি না মানবো না। ভয়ে ভয়ে এবার তাকে প্লাস্টিকের চেয়ার এনে দিলে সে চিৎকার করে বলে, প্লাস্টিক শিল্প দেশ ধ্বংসের মূল কারণ। প্লাস্টিক গলে না, পচে না, দিনের পর দিন পরিবেশ নষ্ট করে যায়। মানি না, মানবো না। 

ডক্টর জাফর ইকবাল বাংলাদেশের বহু ধান্দাবাজ মানুষের জন্য একটা ফোঁড়া ছাড়া আর কিছু না। এই ফোঁড়ার জন্য তারা আরাম করে বসতে পারেনা, এটাই তাদের সমস্যা। বন জঙ্গল কাটা, কলকারখানার ধোঁয়া, প্লাস্টিক এগুলোর কোনটাই তাদের সমস্যা না, ফোঁড়াটাই সমস্যা। 

অনেক আগে ডক্টর জাফর ইকবালকে নিয়ে একটা ফিল্টার বানিয়েছিলাম। তাকে কে কিভাবে গালি দেয় বা তাকে নিয়ে কার কী রকমের চুলকানি হয় দেখে চট করে তার ন্যাজখানা আইডেন্টিফাই করে ফেলা যায়।

ফিল্টারের টেকনিক্যাল ডিটেইলস:

ফিল্টার ব্যান্ডউইথ - লছাগু টু গছাগু

স্যামপ্লিং ফ্রিকুইয়েন্সি - ১ মেগাছাগু/সেকেন্ড

ফিল্টার টাইপ - IIR (Infinite Idiot Response)

স্টপব্যান্ড attenuation - জাফর ইকবাল এর পেপার সংখ্যা কয়টা থেকে Nastik Zafar er pussy cai পর্যন্ত 

 

তবে কালে কালে এই ফিল্টারের ব্যান্ডউইথ লছাগু-গছাগু ছাড়িয়ে আরও অনেক বড় হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ডক্টর জাফর ইকবালের অবদান কতটুকু সে কথা বাদ দেই। তবে ফেসবুকে জামাত, বামাত, সুশীল, কুশীল থেকে শুরু করে নানা পদের মানুষ ডিটেক্ট করার জন্য তার অবদান অবিস্মরণীয়। বাংলাদেশে আগে ঈদ হতো বছরে দুইবার, রোজার ঈদ আর কুরবানির ঈদ। এখন সেটা বেড়ে বছরে চার পাঁচ বা তার বেশী হয়ে থাকে। অতিরিক্ত সকল ঈদের নাম 'নাস্তিক মুরতাদ জাফর ইকবাল কুরবানি' ঈদ। ডক্টর জাফর ইকবালকে নিয়ে কোন একটা ঘটনা হয়। আর সাথে সাথে 'আজ ঈদ, মদিনার ঘরে ধরে আনন্দ' বলতে বলতে জামাত, বামাত, হেফাজত, আনসার, আম্লিগ, বিএনপি দৌড়ে এসে একে অপরের সাথে কুলাকুলি করে। প্রতিবার যখন কোন একটা বিষয় নিয়ে ডক্টর জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়, আমি চুপচাপ বসে বসে খালি দাঁত গুনি। কার কয়টা দাঁত বের হল দেখে তার মনে কত ফুর্তি হচ্ছে সেটার একটা ধারণা পাওয়া যায়। এই ঈদ উৎসব করা মানুষগুলোকে মোটামুটিভাবে চারভাগে ভাগ করা যায়। 

 

প্রথম ভাগ: দাঁত সংখ্যা দুই বা তার থেকে কম

সবচেয়ে কম দাঁত বের করে দেশের আন্তর্জাতিক-নিরপেক্ষ-নির্দলীয়-সচেতন-সুশীল-নাগরিক কমিটির (আনিনিসসুনাক) মানুষেরা যারা সবসময় দেশের গুম-হত্যা-গণতন্ত্র-আইনশৃঙ্খলার অবনতি-যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনাল নিয়ে ব্যাপক চিন্তিত। তবে দেশের নিরপেক্ষ মানুষ যে আসলে কারা এটা ঠিক বুঝে উঠা মুশকিল। দেশে আগে দুইটা দল ছিল আওয়ামীলীগ আর বৃহত্তর জামাত। আর এখন দেশের দুই দল হচ্ছে, আওয়ামী আর নিরপেক্ষ। বিএনপি জামাতের সবাই গেল ঠিক কোথায় বুঝে উঠতে পারি না। মনে হয় সেই গুমই হয়ে গেছে আসলে। নিরপেক্ষ মানুষগুলোর বুদ্ধিমান হবার কারণে অল্প পরিমাণে দাঁত বের করলেও কি এক আছায্য কারণে তাদের জ্বলুনিটাই সবচেয়ে বেশী মনে হয়। সাধারণত জাফর ইকবালক কোন বাটে পড়লে এরা এগিয়ে এসে একটু আহা উহু করেন প্রথমে। তারপর একটা 'কিন্তু' বসিয়ে বাকি আলাপ শুরু হয়। কথাবার্তার নমুনা মোটামুটি এই ফরম্যাটে বাঁধা, সংক্ষেপে যাকে বলা যায়: হাঁসট্যাগ বালের আলাপ - কিন্তু - হাঁসট্যাগ আসল আলাপ। 

 

(# বালের আলাপ ... ...) কিন্তু যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করে আপনি আজকে (# আসল আলাপ ... ...)

(# বালের আলাপ ... ...) কিন্তু দেশপ্রেমের নামে আজকে যেই গুম-হত্যা-লুটপাট-দুর্নীতি চলছে (# আসল আলাপ ... ...)

(# বালের আলাপ ... ...) কিন্তু ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আপনি যখন (# আসল আলাপ ... ...)

(# বালের আলাপ ... ...) কিন্তু তিনি যদি ছোটবেলা থেকে সাদাকে সাদা, আর কালকে কালো বলতে শিখতেন তাহলে আজকে বড়বেলায় এসে তাকে (# আসল আলাপ ... ...)

 

দ্বিতীয় ভাগ: দাঁত সংখ্যা তিন থেকে ত্রিশ

 

এরচেয়ে খানিক বেশী দাঁত বের করে আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ পাণ্ডারা। মাত্র কিছুদিন আগে জাফর ইকবাল তাদের হবু নেতা জয়ের সমালোচনা করেছেন। মুখের উপর বলে দিয়েছেন, এ ধরণের মেরুদণ্ডহীন আচরণ মৌলবাদকে আরও উস্কে দিতে পারে। নেতার কথার এমন সমালোচনা কি সহ্য হয়? তার মধ্যে এই সরকারের শিক্ষানীতি, প্রশ্ন ফাঁস এগুলো নিয়ে দিনরাত তার প্যানপ্যান তো লেগেই আছে। তাদের কথাবার্তার নমুনাতে সরকারের প্রতি আহ্লাদ আর তেল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। 

(# দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধার উপদেশ) দেশ যখন শা শা করে এগিয়ে যাচ্ছে তখন এভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারের প্রগতিতে বাঁধা দেয়া ঠিক নয়

(# সরকারের গুণগান ও তেল) 

(# দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধার উপদেশ) আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, দেশ চালানোর জন্য দরকার আওয়ামীলীগ সরকার। (# সরকারের গুণগান ও তেল)

 

তৃতীয় ভাগ: দাঁত সংখ্যা বত্রিশ

 

লাজ শরমের মায়রে বাপ করে বত্রিশ বা ততোধিক দাঁত বের করে ফেলে দেশের আপামর ছাগু সম্প্রদায়। একদিক থেকে চিন্তা করলে এরাই সবচেয়ে সৎ। এরা কোনরকম তবে কিন্তু মার্কা ত্যানা প্যাঁচানোতে যায় না। এরা একেবারে প্যান্ট খুলে নাস্তিক মুরতাদ থেকে শুরু করে কুত্তার বাচ্চার পুসি চাই টাইপের গালাগালিতে চলে যায়। অনেকটা এরকমের ফরম্যাটে-- 

(# নাস্তিক মুরতাদ কুত্তার বাচ্চা) এই চেতনা ব্যবসায়ী দেশ ধ্বংসকারী লোকের কারণে আজকে (# পুসি চাই, পুসি চাই)

(# নাস্তিক মুরতাদ কুত্তার বাচ্চা) ঢিং কা চিকা ... ঢিং কা চিকা ... ঢিং কা চিকা (# পুসি চাই, পুসি চাই)

 

চতুর্থ ভাগ: দাঁত সংখ্যা বেয়াল্লিশ বা ততোধিক

আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে মনে হয় জাফর ইকবাল ইস্যুতে নিরপেক্ষ, আম্লিগ, ছাগু সবাইকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশী ক্যালানি দেয় এক শ্রেণীর বামেরা। এদের কথাবার্তা তেল গ্যাস গুম নিয়ে শুরু হলেও এক পর্যায়ে এসে আনন্দ আর লুকিয়ে রাখতে পারে না। ওরে উইকেট পড়ছে রে পড়ছে বলে খুশীতে আত্মহারা হয়। কারণ কি? জানিনা আসলেই। আমার কাছে এটা এখনও এক আছায্য বেফার! জাফর ইকবাল কোন পীর না। তার ১০১ টা দোষ আছে, সেগুলো নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু জাফর ইকবাল যখন কষ্ট নিয়ে উচ্চারণ করেন হামলাকারীরা তার ছাত্র হলে তার গলায় দড়ি দেয়া উচিৎ বলে। তখন যেই বামছাগলকে দেখি এর আসলে গলায় দড়ি দেয়াই উচিৎ বলে নাচতে নাচতে দড়ি এগিয়ে দিতে তখন খানিকটা হিসাব মিলে। সেই পুরনো কথা আবার নতুন করে মনে হয়, রামছাগল আর বামছাগল এর মধ্যে পার্থক্য একটা ফুটার। প্রথমটার নিচে ফুটা আছে বলে যখন খুশী পুটুর পুটুর ল্যাদাইতে পারে। দ্বিতীয়টার নিচে ফুটা নাই বলে ল্যাদাইতে পারে না, ল্যাদা জমতে জমতে নিজেই পুরা ল্যাদা হয়ে যায় একসময়। আবার মাঝে মাঝে এইসব বামেদের আমার কাছে চিংড়ি মাছের মতো মনে হয়। মাথা ভর্তি গু, কোন মেরুদণ্ড নাই। তারপরেও এদের বাজার দর বেশ ভালো। 

রাজনীতির এই চারভাগের বাইরেও আরও নানা খণ্ড খণ্ড ভাগ আছে। যাদের সবাই আজকে ও মন রমজানের ওই শেষ এলো খুশীর ঈদ বলে গীত ধরেছেন। প্রথম আলো খুলে মনে হল তাদের মাঝে বেশ একটা ঈদ ঈদ ভাব। গোটা তিনেক নিবন্ধ পেলাম জাফর ইকবালকে নিয়ে। সব কয়টার মূল প্যাঁচাল, মূল উপদেশ একই সুরে বাঁধা। জাফর ইকবাল যদি লাইনে থাকতেন, খালি জামাত শিবির আর মৌলবাদীদের গালাগালি না করে সবাইকে সমান করে বকাবকি করতেন তবে তার এই দিন দেখে হতো হতো না ইত্যাদি ইত্যাদি। ফেসবুকের 'আমরাও কি পারিনা বাল ফালাতে' আন্দোলনের পথিকৃৎ হাগুর হাগুর লাইক পাওয়া ইয়া বড় সেলেব্রিটি মানব এসে উপদেশ দিচ্ছে, জাফর ইকবাল যদি সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে শিখতেন তবে তাকে আজকে এই দিন দেখতে হতো না। সেই সেলেব্রিটি মানব নিজে জীবনে সাদাকেও সাদা বলেন না, কালোকেও কালো বলেন না, সাদা কালো দুইটাকেই বলেন গোলাপি। তাই তার বরং জাফর ইকবালকে উপদেশ দেয়া উচিৎ ছিল এই বলে, আমরাও কি পারিনা সাদা কালো একসাথে মিলে সবাই গোলাপি হয়ে যেতে? চাই শুধুমাত্র একটু ইচ্ছা। আসুন আজকেই গিয়ে আমরা আমাদের দশ প্রতিবেশীকে (সে জামাত, হেফাজত, আম্লিগ, বিএনপি যাই হোক না কেন) দশটি গোলাপ উপহার দিয়ে বলি, আজকে থেকে ওগো তুমি গোলাপি। সেই দশ প্রতিবেশীর প্রত্যেকে আবার আরও দশজনকে খুঁজে বের করে দশটি গোলাপ দিবে। এইভাবে আমরাও কি পারিনা দেশের সব সাদা কালো মানুষকে গোলাপি বানিয়ে ফেলতে? 

সে যাই হোক। লেখার মূল অংশে ফিরে আসি। জাফর ইকবালের সমিস্যা কি? ডক্টর জাফর ইকবালের যে সমিস্যা আছে এটা আজে থেকে বারো তের বছর আগে আমি প্রথম শুনি আমার এক বন্ধুর কাছে। আমার কাছে জাফর ইকবাল তখন এক রূপকথার নায়ক। যে লোক হাত কাটা রবিন লিখেন, টাইট্রন একটি গ্রহের নাম লিখেন সে আবার আমেরিকার নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে দেশের এক অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যোগ দিয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে আবার ধাইধাই করে টেনে তুলার স্বপ্ন দেখেন। অধিক উচ্ছ্বসিত হয়ে এক আড্ডায় তার বেশী প্রশংসাই করে ফেলেছিলাম বোধহয়। শাহজালালে অধ্যয়নরত আমার বন্ধু মুখ অন্ধকার করে বলল, উনার সমিস্যা আছে। আমি উৎকণ্ঠিত হয়ে জিজ্ঞেস করি, কি সমিস্যা? বলে, আছে, এইসব পলিটিক্স এর ব্যাপার, তুই বুঝবি না। আফসোসের ব্যাপার, সেই সমিস্যাটা কোথায় এত বছর পরে আজ ঠিক বুঝলাম না। তবে আমি টিউব লাইট হলেও দেশের জনগণ টিউব লাইট না। এই লোকটার যে ভয়ঙ্কর সমস্যা আছে সেটা তারা বুঝে ফেলেছে। গবেষণা করে বুঝলাম মোটের উপর জাফর ইকবালের সমিস্যা এক হাজার। তার মাঝে শতকরা আশি ভাগ সমস্যা তিনি কি করেছেন সেটা নিয়ে না, তিনি কি করেন নাই সেটা নিয়ে। 

 

১) কেন তিনি গুম হত্যা নিয়ে কথা বলেন না?

২) কেন তিনি তেল গ্যাস নিয়ে কথা বলেন না?

৩) কেন তিনি বিএনপি-জামাতকে 'আসো বাবু খাও' বলে নির্বাচনে ডেকে আনেন না?

৪) কেন তিনি মতিঝিলে কুটি কুটি শহীদ হওয়া হেফাজত কর্মীদের জন্য কান্নাকাটি করেন না?

৫) কেন তিনি সিলেটের মানুষদের দেশের বাকি সব মানুষ থেকে আলাদা করে দেখেন না?

৬) ৯৯.৯৯৯৯ পৌনঃপুনিক ভাগ মুসলমানের দেশে বসে তিনি কোরআন হাদিসকে ফিল্টার না বানিয়ে কেন তিনি মুক্তিযুদ্ধকে ফিল্টার বানাতে চান?

৭) কেন তিনি বসে বসে খালি সায়েন্স ফিকশন আর বিজ্ঞানের পেপার না লিখে দেশের ব্যাপারে নাক গলান?

৮) কেন তিনি জামাতকে যত পরিমাণ বকাবকি করেন, আম্লিগকে তার চেয়ে বেশী পরিমাণ বকাবকি করেন না?

৯) সব বুদ্ধিজীবী যখন নিজের শিশ্ন নিজের মুখে পুরে মুখ বন্ধ করে বসে থাকে, শুধু তিনি একা কেন ব্লগার হত্যা আর মৌলবাদ নিয়ে প্যানপ্যান করেন?

১০) কেন তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে যত খুশী রাজনৈতিক দল থাকতে পারবে কিন্তু তাদের সবাইকে একটা বিষয়ে এক হতে হবে, সেটা মুক্তিযুদ্ধ।

১১) কেন তিনি ছাত্রলীগকে শিবিরের সমান করে বকে দেন না?

১২) কেন তিনি আম্লিগকে জামাতের সমান পরিমাণ গালি দেন না?

১৩) কেন তিনি বারবার মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধ বলে প্যানপ্যান করেন?

১৪) কেন তিনি শিক্ষকদের ভর্তি পরীক্ষা বাণিজ্যের ব্যাঘাত ঘটান? 

_________________

১০১) কেন তার চুল সাদা?

১০২) কেন তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেন?

১০৩) কেন তিনি ছাত্রদের ঠ্যাঙ্গানি খেয়ে চুপচাপ ঘরের ভেতর না গিয়ে গর্দভের মতো বৃষ্টিতে ভিজেন?

১০৪) কেন তিনি চশমার ভেতর দিয়ে না তাকিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে তাকান? 

_________________

৯৯৯) কেন তিনি কথা বলেন? কেন? কেন? কেন?

১০০০) কেন তিনি কথা বলেন না? কেন? কেন? কেন? 

 

লেখার এই পর্যায়ে এসে একটা বিজ্ঞাপন বিরতি দিচ্ছি। বিজ্ঞাপন হিসেবে হাসিব মাহমুদের দেয়া এই 'কেন কেন কেন কেন' সঙ্গীত সবাইকে শুনতে অনুরোধ করছি। আমাদের দেশে আরও কী কী সমিস্যা সেটা এই কেন কেন কেন কেন সঙ্গীত শুনলে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

মাঝে মাঝে মনে হয় জামাত-হেফাজত-আনসার মিলে যখন এই মানুষটিকে মারতে যাবে তখন ছাত্রলীগের কয়েকজন এসে চুপিচুপি বলে যাবে, ওই যে স্যারের বাসা ওই দিকে। দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বামেরা বলবে, আহা এরকম খুনোখুনি ঠিক নয়। মাও আঙ্কেল আর চে ভাইয়া খুনাখুনি পছন্দ করেন না। তবে আপনারা যখন কষ্ট করে ওই দিকে যাচ্ছেনই তখন এই ধারালো চাপাতিটাই নিয়ে যান। অল্প সময়ে কাজ শেষ হবে। 

আছায্য বেফার হচ্ছে, শাহজালাল ভার্সিটিতে একদল শিক্ষকের উপর হামলা করলো ছাত্রলীগের কর্মীরা। সেই হামলার নিন্দা করায় সমস্ত ফোকাস চলে আসলো ডক্টর জাফর ইকবালের উপর। আরে বাবা গালি দিতে হয় আগে ছাত্রলীগকে দে। তা না করে জাফর ইকবালের চোদ্দ-গুষ্টি উদ্ধার হচ্ছে। তার দোষটা হচ্ছে তিনি কেন পৃথিবীর যাবতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদ আগে না করে ফট করে এইখানের শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদ করে বসলেন। বুয়েট, জগন্নাথ, ইসলামী থেকে শুরু করে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্যাতনের সময় তিনি কোথায় ছিলেন? আ মোর জ্বালা! এই ধরণের ত্যানার নাম "তখন আপনি কই ছিলেন?" আমি মাত্র কয়েকবছর ধরে সামান্য কিছু লেখালেখি করেই এই ত্যানায় প্যাঁচিয়ে গেছি বারবার। শিবিরকে গালি দিলে বলা হয় যখন ছাত্রলীগ এই আকাম করেছিল তখন আপনি কই ছিলেন? ব্যাটা আম্লিগের দালাল কুথাকার। আবার ছাত্রলীগের কোন সমালোচনা করলে বলা হয় খালেদা জিয়া যখন বাস পুড়াচ্ছিল তখন আপনি কই ছিলেন? ব্যাটা সুশীল কুথাকার। এই "তখন আপনি কই ছিলেন?" অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমি আজকে এই মুহূর্তে একবারে সত্যায়িত ঘোষণা দিয়ে পৃথিবীর সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করে দিচ্ছি। 

 

আমি নামঃ চরম উদাস আজ ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ১৭ই ভাদ্র ১৪২২ বাং, ১৮ যিলকদ ১৪৩৬ হিজরি তারিখে চাঁদ, তাঁরা এবং সূর্যকে সাক্ষী রেখে পৃথিবীতে আমার জন্মের আগের, জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের এবং মৃত্যুর পরের সকল হয়ে যাওয়া, হতে থাকা এবং হতে পারে অন্যায়ের সময় আমি কঠিন, তরল বা বায়বীয় যে কোন অবস্থাতেই থাকি না কেন সেই অবস্থা থেকেই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করলাম। আমীন।

 

ডক্টর জাফর ইকবালকে করজোড়ে অনুরোধ করবো উনি যেন আমার উপরের এই ফর্মে নিজের নাম বসিয়ে একইরকম একটা প্রতিবাদ লিপি ছাড়েন। অবশ্য তাতেও খুব বেশী লাভ হবে বলে মনে হয়না। আর কেউ কিছু বলুক না বলুক বামেরা এসে গাল ফুলিয়ে বলবে, খালি অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেন। ন্যায়ের প্রতিবাদ করলেন না। মানি না মানব না। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হউক। 

এত বকবক করার পরেও যদি জাফর ইকবালের সমিস্যা কোথায় না পরিষ্কার হয় তবে বরং মৃদুল আহমেদের সেই 'সমস্যা কই' কবিতাটা আবার পড়ে ফেলুন চটপট। জাফর ইকবালের ঠিক কি কি সমিস্যা বা জাফর ইকবালকে নিয়ে কি কি সমিস্যা এটা পড়লে হয়তো তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

 

সমস্যা কই?

মৃদুল আহমেদ

 

কও তো মিয়া সমস্যা কই? সিনায় ব্যথা? ঠ্যাঙ্গে গোদ?

কোষ্ঠ কঠিন? জিব্বাতে ঘা? রাইতে হঠাৎ পাকছে পোদ?

বুক ধড়ফড়? বিশাল পাথর? ...জমছে মূত্রথলিতে?

এইচআইভি? হোটেল ছিলা মগবাজারের গলিতে?

সমস্যা নাই? আইছো কেন? সময় অনেক শস্তা, না?

চেহারাখান দেখতে আহো? রূপ কি আমার মস্তানা?

খাড়ায়া থাকো, আইবা পরে আবার তোমায় ডাক দিলে--

আপনে আহেন! কোথায় জখম? বুকে? খতরনাক দিলে?

জখম তো নাই! প্যাডের পীড়া? বিছনা ভিজে ঘুমাইলে?

গোপন অসুখ? হয় না খাড়া পরের বউরে চুমাইলে?

কোমর টাটায়? সর্দি নাকে? চিপায় চাপায় খাইজ্যানি?

মাথার ব্যারাম? নিজের লগে নিজেই করেন কাইজ্যা নি?

সমস্যা নাই? তাইলে মিয়া চেয়ারডারে চ্যাটকায়া

সকাল থিকা বইসা ক্যানো আমার দিকে ভ্যাটকায়া?

সবাই আহেন! সবাই আহেন! সমস্যা কী? কইন না ভাই!

মেয়র কাকা? মার্ক্সবিবাদি? জাতের উকিল মইন্যা ভাই?

কারোই দেখি সমস্যা নাই!

জামাত-শিবির?

সমস্যা নাই!

জাসদ বাসদ?

সমস্যা নাই!

লীগের ঘেঁটু?

সমস্যা নাই!

ন্যাপের জেঠু?

সমস্যা নাই!

মেয়র কাকার?

সমস্যা নাই!

নিউজপেপার?

সমস্যা নাই!

চেয়ারম্যানের?

সমস্যা নাই!

বৃক্ষপ্রেমী?

সমস্যা নাই? 

তাইলে তোগোর সমস্যা কই? চেইতা গিয়া জিজ্ঞালে...

সবটিয়ে কয়... "সমস্যাডা শুধুই জাফর ইকবালে!"

 

উপরের এই ছবি দেখে ঈদের আনন্দে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে কত কত মানুষ। আমি শুধু যতবার ছবিটা দেখি ততবার মনে হয় কেউ যদি আমাকে বলে, বর্তমান বাংলাদেশকে এক কথায় প্রকাশ কর। তাহলে আমি এই ছবিটা দেখিয়ে বলব, এই যে এটাই আমার বর্তমান বাংলাদেশ। এই একটা ছবি পুরো বাংলাদেশকে এক কথায় প্রকাশ করে, বারবার হেরে যাওয়ার গল্পটাই বলে। চোখ খুললে এই ছবিটা দেখি আর চোখ বন্ধ করলে এই ছবির চারপাশে হায়েনাদের অট্টহাসি শুনি।

১৪৪০০ পঠিত ... ০০:২৯, মার্চ ০৪, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top