দ্য নিউ হুজুর কেবলা

৩১৮৩পঠিত ...১৬:৫৩, মার্চ ০১, ২০১৮

হুজুর চিন্তিত। আজকাল চারদিকে দুঃসংবাদ। সৌদি আরবে জেনানারা গাড়ি চালাইতেছে; সেইখানে শয়তানের ঘর সিনেমা হল তৈরি হইতেছে; খতিবেরা খোতবা দিতেছে, মহিলাদের হিজাব পরার দরকার নাই। 

হুজুর দেয়ালের গিলাফে মক্কা শরিফের ম্যুরালে চুম্বন দিয়ে অশ্রুসিক্ত হন। বুকের মধ্যে হাহাকার আসে—খোদার ঘরের সম্মান কি বজায় থাকবে? কে হেফাজত করবে? 

অলংকরণ: সালমান সাকিব

হুজুরের কাছে পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজমে এসেছেন একজন সরকার দলীয় নেতা। নির্বাচন এসে পড়লে একে একে সব রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে হুজুরের হস্তমুবারক চুম্বন করেন। নেতাদের বিশ্বাস এই পলিটিক্যাল ব্যাপ্টিজমে তাদের ভোট বাড়ে। 

হুজুর মন্ত্রীকে বলেন, দুঃসময় চলতেছে; কিয়ামত কাছায়া আসছে মনে হয়। 

— কী হয়েছে হুজুর!

— সৌদি আরবের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হইতেছে। পাকিস্তানে শুনলাম, এক মহিলার জানাজায় নারী-পুরুষ একযোগে অংশ নিয়াছে। 

মন্ত্রী সরলভাবে উত্তর দেন, হজেও তো নারী-পুরুষ একযোগে অংশ নেয় হুজুর। 

হুজুর রেগে যান, যা বোঝেন না তা নিয়া অযথা কতা বলবেন না জনাব। নিজের মন্ত্রণালয়ডা ঠিক করি চালাইতে পারেন না; এখন আসছেন আমার ডিপার্টমেন্ট নিয়া কথা বলতে। 

মন্ত্রী ঘাবড়ে যান। হুজুরের দোয়া না পেলে মন্ত্রীত্বের ভবিষ্যত অন্ধকার। মন্ত্রী মিনমিন করে বলেন, গোস্তাকি মাফ করবেন হুজুর। 

হুজুর বলেন, দুইডা সোজা কথা কই। পলিটিকস মানেই ডর দেহান। আপনারা কোনো আদর্শ-টাদর্শ তো ধইরা রাখতে পারলেন না করাপশানের নেশায়। তাই আদর্শের ডরে মানুষ আর ডরে না। তো ভোটে জিততে ধর্মীয় অনুভূতিডাই একমাত্র বটিকা হিসাবে কাম করে। নাইলে তো আপনে হেলিকপ্টারে উইড়া আমার এইহানে দোয়া নিতে আইতেন না। এখন ধর্মের ভয়ভীতিগুলি সৌদি-আরব, ইরান, পাকিস্তান থাইকা কাইটা গেলে; এইহানে আর কী দিয়া ডর দেহাইবেন! 

মন্ত্রী গর্বের হাসি হেসে বলেন, পুলিশ-র‍্যাব-সেনাবাহিনী আছে কী করতে! 

হুজুর বলেন, আপনারে দিয়া পলিটিকস আর হবে না। লোকে তো আপনারে হিটলার বলবে। আরে জনাব, এইটা শেষ অস্ত্র। এইটা ব্যবহার করলে হিটলারের মতো বিষ খাইয়া মরতে হয়, জিয়াউল হকের লাহান হাউয়াই জাহাজে বোমা ফাইটা মরতে হয়; তো আপনি কী সেজন্য প্রস্তুত আছেন! 

মন্ত্রী ঘাবড়ে যান। অবোধ শিশুর মতো অসহায় হয়ে প্রশ্ন করেন, আপনি যা পরামর্শ দেবেন সেইমতো কাজ হবে হুজুর। 

হুজুর দৃপ্তকণ্ঠে বলেন, সৌদি আরব-ইরান-পাকিস্তান দূরে গিয়া মরুক। আমগো অনুভূতির হেফাজতটা ঠিকমতন করতে হইব। কী পারবেন জনাব! 

—পারব ইনশাল্লাহ হুজুর। আপনার স্বপ্নের সোনার মদিনার সুবাতাস রক্ষা করব যে কোনো মূল্যে। 

হুজুর খিলখিল করে শিশুর মতো হেসে বলেন, দেখবোহানে আপনার ঈমানের কেমন জোর! 

মন্ত্রী হুজুরের হস্তমুবারক আবার চুম্বন করে ফিরে যান। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় বুকের মধ্যে হাহাকার ওঠে। চোখ ছলছল করে। স্বগতোক্তির মতো বলেন, পারব; পারতেই হবে। 

অলংকরণ: সালমান সাকিব

হুজুরের স্ত্রী তার গদিঘরে তশরিফ রাখেন। 

—কী খুব দিল খুশ লাগতেছে আপনেরে!

—মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং কাইটা গেছে। এরাই পারে; এরাই পারবে। আর চিন্তা কইরা দ্যাখো; সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তানের হুজুরেরা বাতিলের খাতায় চইলা গেলে; আমি একাই থাকতেছি ধর্মীয় অনুভূতির হেফাজতের দায়িত্বে। 

হুজুরের স্ত্রী কটাক্ষ করে বলে, খুব আমার পোপ আইসা পড়ছেন একজন। আমি বুঝিনা লোকে আপনারে এত ডরায় ক্যান। আমি তো একদমই ডরাই না। 

হুজুর কাঁচুমাচু করে বলেন, অহন ভেতরে যাও দেহি। সামনে ইলেকশান। বিরোধী পক্ষের এক নেতা আইব দোয়া নিতে। দেহি হের ঈমানের জোর টেস্ট কইরা দেহি। 

হুজুরের স্ত্রী দ্বিগুণ কটাক্ষের হাসি হেসে অন্দর মহলে চলে যান। 

হুজুর বিড় বিড় করে বলেন, মাইয়া মানুষরে কনট্রোলে রাহাডাই দেখতেছি দুইন্যার সবচাইতে জটিল কাজ।

৩১৮৩পঠিত ...১৬:৫৩, মার্চ ০১, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    
    Top