হাসপাতালের ওয়ার্ডে জন্ম নিয়েই শিশুটি যেভাবে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হয়ে উঠলো

১৮৪০পঠিত ...২২:২৯, নভেম্বর ২৪, ২০১৭

হাসপাতালের বারান্দায় হাঁটাহাটি করছেন এক ভদ্রলোক। ভেতরে তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী। হঠাত লম্বা সালাম দিয়ে এক লোক সামনে দাঁড়ায়। 

--টেনশান নিবেন না ভাইজান। আমরা আপনার পাশে আছি। 

শুনে প্রথমে খুশী হন ভদ্রলোক। তারপর মনে হয় একটা অপরিচিত লোক বলছে আমরা পাশে আছি; একটু আজগু্বি ঠেকে ব্যাপারটা। লোকটার দিকে মনোযোগ না দিয়ে ভদ্রলোক হাঁটাহাঁটি করতে শুরু করেন। লোকটাও পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকে। 

ছবি: সংগৃহীত

ভদ্রলোক একটু বিরক্ত হন। লোকটা বুঝতে পারে। একগাল হেসে বলে, না না আমি ইনশিওরেন্স কোম্পানির লোক না। তবে আমি একটা অফার দিতে পারি; যেটা সবচেয়ে বড় ইনশিওরেন্স। 

--মানে। 

--আপনার জানমালের হেফাজত, মাল বৃদ্ধি, যে কোন কাজের তদবিরে খুবই কাজে আসবে; যদি আমার অফারটা নেন। 

--ভেতরে লেবার রুমে আমার স্ত্রী; আমি খুব টেনশানে আছি। এখন কোন অফার-টফারের কথা ভাবছি না ভাই। 

--আহা অফারটা আপনার অনাগত সন্তানটির জন্যই। আর চিন্তা করবেন না ডাক্তার-নার্স সবাই আমার ঘনিষ্ট। আমি বলে দিচ্ছি এক্ষুণি। 

--অনাগত বাচ্চার জন্য অফার! সেটা আবার কী! 

--আমরা হাসপাতালে অনাগত বাচ্চাদের আমাদের রাজনৈতিক দলের সদস্য করে নিচ্ছি। জন্ম থেকেই একটা রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে আপনার সন্তান দেশপ্রেমিক হয়ে গড়ে উঠবে। আমাদের দেশপ্রেমিকের খুব অভাব বুঝলেন। 

এরমধ্যে আরেক লোক এসে ভদ্রলোককে বলে, খবরদার ভাই ওদের দলে বাচ্চাকে দেবেন না; আমাদের দলের সদস্য করুন। বাচ্চা সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। 

আগের লোকটি ক্ষেপে গিয়ে বলে, ঐ ডট ডট এখান থিকা ভাগ কইলাম; ফাতরামি করার জায়গা পাস না। পুঁইতা ফালামু কইলাম। 

প্রতিপক্ষের লোকটি উত্তেজিত হয়ে বলে, ঐ ডট ডট; আমারে চিনস, তরে কাইটা গাঙ্গের জলে ভাসায় দিমু। 

ভদ্রলোক হতবিহবল হয়ে জিজ্ঞেস করেন, এ কী শুরু করলেন আপনারা; এটা হাসপাতাল; বিহেভ ইওরসেলফ। 

লোকদুটো দুদিকে হাঁটা ধরে। তৃতীয় আরেক লোক এসে বলে, দেখলেন তো ঐ দুই দলের লোকের কারবার। খবরদার বাচ্চাকে ওদের দলে দিয়েন না। আমাদের দলে দেন। আমরা ঐসব গ্যাঞ্জামের মধ্যে নাই। 

ভদ্রলোক ভীষণ রেগে গিয়ে বলেন, পেয়েছেন কী আপনারা! এখনো যে বাচ্চার জন্মই হয়নি তাকে নিয়ে আপনারা রাজনৈতিক দলের সদস্য করার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করেছেন। 

তৃতীয় লোকটি চলে যায়। হন্তদন্ত হয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আসে ভদ্রলোকের শ্যালক। 

--দুলাভাই আপনি বাবা হয়েছেন। এই খুশীর মুহূর্তে আমার একটা ছোট্ট চাওয়া আছে; ভাগ্নেটাকে আজই একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ দেয়া হচ্ছে। দলের লোকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। 

--মানে! 

--দুলাভাই ওরা কথা দিয়েছে আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে। আপনি না করবেন না। আপনি তো রাজনীতি করলেন না। ফলে আপনার সুপারিশে কেউ চাকরি দেয়না। অথচ আমার ভাগ্নেটা জন্মেই আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলো। আগে মামার জোর লাগতো; এখন ভাগ্নের জোরেই অনেক কাজ হয়ে যাবে। 

ভদ্রলোক দৌড়ে নবাগত সন্তানের কাছে যান। দেখেন তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে কিছু অপরিচিত নারী-পুরুষ; বাচ্চাটার কানের কাছে দলীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে। 

ভদ্রলোক বাচ্চাটাকে কোলে নেন। কপালে চুমু খেয়ে মা'র কোলে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে দেখেন বাচ্চার পাছুতে একটি রাজনৈতিক দলের মার্কা ট্যাটু করে দেয়া হয়েছে। 

ভদ্রলোক খুব ক্ষেপে গিয়ে কিছু বলতে যান। তাকে থামিয়ে দিয়ে এক দলীয় লোক বলে, আপনাদের মত "আই হেট পলিটিকস" লোকদের জন্যই দেশের আজ এ অবস্থা। আপনি কী জানেন, আপনার ছেলে জন্মেই দেশ ও জাতির সেবা করার জন্য অঙ্গীকার করেছে। হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে সবচেয়ে আগে ও জন্মেছে বলে ও এখন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি। 

ভদ্রলোক তাকিয়ে দেখেন, বাচ্চাটা দলীয় লোকদের দিকে তাকিয়ে দুই হাত এমনভাবে নাড়ছে যেন সে বক্তৃতা দেবে। 

দলীয় লোক বলে, আপনার ছেলে আমাদের দলের সদস্য হওয়ায় অন্যান্য দলগুলো ওর শত্রু হয়ে পড়েছে। ও নিয়ে ভাববেন না। আমাদের দলের লোক হাসপাতাল পাহারা দেবে। 

ভদ্রলোক পুরো ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন নবজাতকদের সবার পাছুতে রাজনৈতিক দলের মার্কার ট্যাটু। দলীয় এক লোককে জিজ্ঞেস করেন, এখানে দেখছি সবগুলো বাচ্চাকে একই রাজনৈতিক দলে নেয়া হয়েছে। অন্যরা কই! এতো যে পলিটিকস পলিটিকস করছেন; গণতন্ত্র কোথায়!

--যে দল যে হাসপাতালের দখল নিতে পারে; ঐ হাসপাতালে নবজাতকদের ঐ দলের সদস্য করে নেয়। এই হাসপাতালে অন্যেরা সুবিধা করতে পারে নাই। 

হঠাত দৌঁড়ে এসে ভদ্রলোকের শ্যালক বলে, দুলাভাই হাসপাতালের এই ওয়ার্ডের সভাপতি তো অলরেডি তার একশান শুরু করে দিয়েছে। ডাক্তার রেগুলার চেক আপে এলে রেগে গিয়ে ভাগ্নে আমার ডাক্তারের নাক বরাবর ঘুষি বসিয়ে দিয়েছে।

১৮৪০পঠিত ...২২:২৯, নভেম্বর ২৪, ২০১৭

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    
    Top