কুয়েত মৈত্রী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেলের সদস্যদের প্রতি এ কেমন অবিচার!

৪১৯৭ পঠিত ... ১৪:৩২, মার্চ ১১, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন সকালেই কুয়েত মৈত্রী হলে ছাত্রীরা বস্তাভর্তি ভোটের চিহ্ন দেওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধার করলে, তিন ঘন্টার জন্য ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে। ছাত্রীদের ক্ষোভের মুখে হল প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয় দায়িত্ব থেকে (খবর: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর)।

১১ মার্চ সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েত মৈত্রী হল সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ভোট শুরুর আগেই খুঁজে পাওয়া যায় হলের রিডিং রুমে। বস্তাবন্দি এসব ব্যালট পেপারে দেখা যায় প্রতিটি ব্যালটেই ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের নামের পাশে ভোটের ‘ক্রস’ চিহ্ন দেওয়া। এই ঘটনায় ছাত্রীদের মাঝে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। পুরো প্রতিবাদের ভিডিওর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে চিহ্নিত ব্যালট পেপারের ছবি। এসব ছবি থেকেই এক সীমাহীন অবিচারের নমুনা খুঁজে পেয়েছে eআরকি।

চিহ্নিত ব্যালট পেপারগুলোয় সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এবং বাকি ছয় সম্পাদক প্রার্থীর প্রতিটিতেই ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের ছাত্রীরা সমানভাবে ‘ভোট’ পেলেও, সদস্য পদপ্রার্থী চারজন ছাত্রীর ব্যাপারে দেখা গেছে নিদারুণ বৈষম্য। মৈত্রী হলের রিডিং রুম থেকে উদ্ধার করা একটি ব্যালট পেপারে দেখা গেছে ছাত্রলীগ মনোনীত ১৩ সদস্যের প্যানেলের ১২ জনের নামের পাশেই ক্রস চিহ্ন আছে, নেই শুধু একজনের। তিনি হলেন ঐ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী সানজিদা ইসলাম শ্রাবণী। এরপর কৌতূহলী হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু ব্যালট পেপার মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। আরও তিনটি ব্যালট পেপার খুঁজে কোনটিতেই শ্রাবণীর নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার অন্য একটি ব্যালট পেপারে দেখা যায় আরেক সদস্য পদপ্রার্থী মিতালী মালো বঞ্চিত হয়েছেন ‘ভোট’ থেকে। আবার অন্য একটি ব্যালটে কোন সদস্য পদপ্রার্থীর কপালেই জোটেনি ভোট।

কেবল মাত্র সম্পাদক পদে ছিলেন না দেখেই কি এই অবিচার ও বৈষম্য? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে eআরকি চলে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। কুয়েত মৈত্রী হলে ডাকসু নির্বাচনের সাথে জড়িত একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেউই কোন কথা বলেননি। তবে অবিশ্বস্ত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় একজন ছাত্র প্রায় সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে সন্দেহের শিকার হয়েছিলেন এবং শেষে ভালো রেজাল্ট খুঁজতে গিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস বেরিয়ে আসে। সেখান থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনে, ব্যালটকে বিশ্বাসযোগ্য করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই সদস্য পদপ্রার্থীদের ‘ভোটে’ লুকোচুরি খেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অবহেলিত দুই সদস্য পদপ্রার্থীর একজন মিতালী মালোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফেসবুক আইডি খুঁজে পাওয়া যায়নি (আমাদের প্রতিবেদক ব্লকলিস্টেও থাকতে পারেন!)। অপর অবহেলিত প্রার্থী শ্রাবণীর ফেসবুক আইডিটি ব্রাউজার বারবার রিফ্রেশ করার পরও লকড অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে অনির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ভোটের আগের রাতের ভোটের রেজাল্ট দেখে শোকে মুষড়ে পড়েছেন দুজনই। ভোট না পাওয়া কোনো ব্যাপার না, তাই বলে ভোটের আগের রাতের ভোটেও ভোট না পাওয়া? মুষড়ে পড়ার মতো ব্যাপার বটে। #sadlife

৪১৯৭ পঠিত ... ১৪:৩২, মার্চ ১১, ২০১৯

Top