বেদের মেয়ে জোছনার মতো বিমানবন্দরের স্ক্যানারও ফাঁকি দিয়েছে

২২৮৫ পঠিত ... ১৮:২১, মার্চ ০৬, ২০১৯

গত ৫ মার্চ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে প্রথম স্ক্যানারে কোন ঝামেলা ছাড়াই তরতরিয়ে পার হয়ে যান তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নভোএয়ারের কাউন্টারে গিয়ে জানান, তার কাছে আছে একটি ৯ এমএম পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলি। তবে babyচকের (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) দাবি, তিনি ধরা খাওয়ার আগে স্বীকার করেন নি, দ্বিতীয় স্ক্যানারে ধরা পড়ার পর তিনি অস্ত্রের কথা বলেছেন।

কিন্তু দেশব্যাপী মানুষের মূল প্রশ্ন তা নয়। কী করে প্রথম স্ক্যানারে বন্দুকটি ধরা পড়লো না, তা নিয়েই ভাবছে অনেকেই। এ ভাবনার সূত্র ধরেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছুটে যায় eআরকি পাঙ্খা গবেষকরা।

বন্দরে পৌছানোর পর eআরকিক দলটির এক সদস্যের হঠাৎ মনে পড়ে, তার লাইসেন্স করা বৈধ ফ্লেমথ্রোয়ারটি তিনি ভূলক্রমে সাথে করে নিয়ে এসেছেন। সেটি রেখে আসতে আবার বাসার দিকে যেতে চাইলেও লেট হয়ে যাওয়ার আশংকায় তিনি ব্যপারটি তিনি চেপে যান। বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে দলের অন্য সদস্যরা অনায়াসে ঢুকে পড়লেও তিনি স্ক্যানারের টুট টুট জাতীয় সতর্কতামূলক ধ্বনির বেড়াজালে আটকে পড়েন।  কিন্তু তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে খেয়াল করলেন, তার ব্যাগে থাকা পানির বোতলটিই সেই স্ক্যানারে ধরা পড়েছে। অতঃপর গোপনে একটি আস্ত ফ্লেমথ্রোয়ার সাথে নিয়েই তিনি ঢুকে পড়েন অভ্যন্তরের টার্মিনালে।

স্ক্যানারের মাঝে ইলিয়াস কাঞ্চনের বন্দুক ধরা পড়লো না কেন, জানতে চাইলে একজন বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থার সদস্য আমাদের বলেন, ‘আসলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিমানের ভেতরে খেলনা বন্দুক নিয়ে একজন ঢুকে পড়লে আমাদের সিকিউরিটি ব্যবস্থার ইজ্জত ফালুদায় রূপান্তরিত হয়। এর পর আমরা আর্জেন্ট ভিত্তিতে নতুন স্ক্যানার স্থাপন করি। কিন্তু আমাদের এই স্ক্যানারও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের মতো হতাশ করে দেয়। কাঞ্চন স্যারের বন্দুকটি কেন ধরা পড়লো না, তা আমরা বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু সহসা আমাদের মনে পড়ে, এটার ওয়ারেন্টি এখনো শেষ হয় নি। তাই আমরা স্ক্যানার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাই, কেন এই বন্দুক আর গুলি নিরাপদে স্ক্যানার পার হয়ে ঢুকে গেল। এর পর আমরা যা জানতে পেলাম, তার জন্য আমরা মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।’

অপ্রস্তুত এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আমাদের কাছে এক অসাধারণ ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই অত্যাধুনিক স্ক্যানার কোম্পানিটির ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা শুরু করলাম। এই কোম্পানির সূচনা সম্পর্কে আমরা উইকিপিডিয়ার পাতায় সার্চ দিয়ে জানতে পারি, বাংলাদেশের এক নদীতীরে বেঁধে রাখা বেদে নৌকার মধ্যেই এটির শুরু। এবং এর প্রতিষ্ঠাতার নাম দেখে আমরা হারিয়ে যাই এক অবাক নস্টালজিয়ার গহ্বরে। বেদেকন্যা জোসনাই এই স্ক্যানিং মেশিন কোম্পানির উদ্যোক্তা। বেদেজীবনে আর থ্রিল খুঁজে না পাওয়ায় তিনি নতুন কিছু করার উদ্দেশ্যে এই কোম্পানির সূচনা করেন।’

এই পর্যায়ে ভদ্রলোক মুডে চলে আসায় গুনগুন করে কিছুক্ষণ ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’ গানটি গেয়ে আরও জানান, ‘এরপর আর কি, তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি। এই আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন সকল সিকিউরিটি ব্যবস্থার মধ্যে সেরা হিসেবে বারবার প্রমাণ করে আসছে। কিন্তু মানুষ চাইলেও তার অতীতকে মুছে ফেলতে পারে না। বেদের মেয়ে জোসনা যেমন আসি আসি করে ফাঁকি দিত, বেদে কোম্পানির এই স্ক্যানার সেই ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এ কারণেই প্রাথমিকভাবে উনার বন্দুকটি ধরা পড়ে নি। পরবর্তীতে অবশ্য আমাদের পুরানো স্ক্যানারে ঠিকই তার বন্দুক ধরা পড়েছে।’

এ বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে অনুভূতি জানতে তার এক ফেক প্রোফাইলে নক দেয়া হলে তা থেকে রিপ্লাই আসে, ‘আসলে ওইদিন জোসনা আমাকে যে ফাঁকি দিয়েছিলো, সেই শোধ তুলতেই আমি তার কোম্পানির স্ক্যানারটিকে ফাঁকি দিয়ে বিমানবন্দরে ঢুকে পড়েছিলাম। আমারও তো মাঝেমাঝে ফাঁকি দিতে ইচ্ছে হয়...’

২২৮৫ পঠিত ... ১৮:২১, মার্চ ০৬, ২০১৯

Top