ডাকসু ও হল সংসদ ক্লাসিকাল ফেস্টে বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতলেন ৫৬ প্রার্থী

৩৫৯ পঠিত ... ২১:১০, মার্চ ০৪, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল সংসদ নির্বাচনে মোট ২৩৪টি পদের মধ্যে ৫৬টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের প্রার্থী। মোট পদের প্রায় ২৪ শতাংশ পদে বিনা ভোটে জিততে যাচ্ছেন প্রার্থীরা (প্রথম আলো)।

খবরটি চোখে পড়তেই আমাদের ডাকসু বিষয়ক প্রতিবেদক ছুটে যায় ডাকসু ক্যান্টিনের দিকে। ডাকসু ক্যান্টিনে খেতে বসে আমাদের প্রতিবেদক সেখানে কিছু বেদনাময় সুর শুনতে পায়। ক্যান্টিন থেকে বেরোতেই দেখা যায়, সিঁড়িতে বসে বীণা বাজাচ্ছেন কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র।

ক্যাম্পাসে সাধারণত শিক্ষার্থীদেরকে গিটার বাজাতে দেখা যায়? কিন্তু বীণা? এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে একজন বীণাবাদক নিজের পলিটিকাল পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা ক্লাসিকাল ফেস্টের আয়োজন করেছি। সাইন্স ল্যাবে বাদ্যযন্ত্রের দোকানে অন্য কোনো ক্লাসিকাল বাদ্যযন্ত্র না পেয়ে আমরা শেষমেশ বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্যোগ নিই।’

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে নাগিন সুরে খানিকক্ষণ বীণা বাজিয়ে তিনি আমাদের বলেন, ‘আমরা দীর্ঘকাল ধরেই দেখে আসছি, সাপুড়ে ও বেদে গোত্রের মানুষেরা সাপেদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করে আসছেন বীণার সুর। বীণার ধ্বনি আর দুলুনিতে সাপেরা থাকে মন্ত্রমুগ্ধ। আর পাতি ছাত্রনেতা ও কর্মীদের সাথে সাপের তুলনা চলে আসছে বহুকাল ধরেই। সময়ের সাথে সাথে তারা দুধকলা দিয়ে পোষা সাপের মতো বিদ্রোহ ও প্যানেল পরিবর্তন করতে বেশি দেরি করে না। এই সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের এই বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছোটখাটো নেতা আর কর্মীরা এখানে সেরা বীণাবাদকদের পতাকাতলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসবেন।’

এছাড়াও প্রতিযোগিতার অন্য একটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পলিটিকাল আয়োজক eআরকিকে জানান, ‘হলে হলে দল মত নির্বিশেষে অনেকেই চেয়েছিল ডাকসু ইলেকশন... থুক্কু অর্কেস্ট্রা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম দিতে। কিন্তু আমরা তাদের বুঝিয়েছি। অর্কেস্ট্রায় অনেক লোক দরকার হয়। সবাই যদি বাজনা বাজায়, তাইলে শুনবে কে? এদেরকে দর্শক করেই এই টানটান বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে।’  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তেমন কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম দিতে না পারা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্ভয়ে এবং স্বেচ্ছায় সবাই এই প্রতিযোগিতা এড়িয়ে গেছেন। কোন প্রকার চাপ কিংবা শক্তির ব্যবহার তারা বোধ করেননি বলেও জানিয়েছে অবিশ্বস্ত একাধিক সূত্র।

৩৫৯ পঠিত ... ২১:১০, মার্চ ০৪, ২০১৯

Top