অস্ত্র জমা না দিয়ে কি ট্রেনিং জমা দিলেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা?

৩০৭৭ পঠিত ... ১৮:২১, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

কক্সবাজার জেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফের একটি স্কুলের মাঠে ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার কয়েক হাজার মানুষের সামনে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল রহমান বদির আপন তিন ভাই সহ ঘনিষ্ঠ আটজন আত্মীয় ছিলেন। তবে বদি এবং বদির আরেক ভাই মজিবর রহমান- যিনি টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র এবং শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছেন, আত্মসমর্পণ করেননি (বিবিসি বাংলা)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটি 'আগ্নেয়াস্ত্র' এবং ৩৫০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জমা পড়েছে। তবে ফেসবুক এই জমা পড়া 'আগ্নেয়াস্ত্র'-এর ছবি দেখা গেলে সেই অস্ত্রগুলো থেকে আদৌ 'অগ্নি' সম্পর্কিত কিছু নির্গত হয় কিনা, তা বোঝা যায়নি। অনেকে মন্তব্য করেছেন, 'মিয়ানমার থেকে আমদানি তো, ওদের বাজেট কম হওয়ায় বন্দুকগুলো এমন', কারো মতামত, এগুলা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে! একজন লিখেছেন, 'গ্রামে টিনের এক রকম পিস্তল পাওয়া যায় লাল কাগজের পাতায় গুলি থাকে সেটা ফাটানোর জন্য, সেরকম লাগছে।'

এতসব মন্তব্য শুনে আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র গবেষণা দল অস্ত্র হিসেবে একটি ইকোনো কলম হাতে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জমা দেয়া এই বস্তুগুলো কি আসলে অস্ত্র, নাকি শস্ত্র? নাকি এগুলো বন্দুকের মতো লাইটার, আগুন জ্বালানো হয় বলে এটাকে আগ্নেয়াস্ত্র বলা হচ্ছে? নাকি এগুলো আসলেই খেলনা বন্দুক, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আসল বন্দুক ভয় পান বলে খেলনা বন্দুক ব্যবহার করেন!

এ সম্পর্কে আমরা জানতে ছুটে যাই এখনও আত্মসমর্পণ না করা এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে। জানতে চাওয়া মাত্র তিনি 'হ্যান্ডস আপ' বলে কোটের ভেতর থেকে একটি বন্দুক বের করে তাক করেন। আমরা ঘাবড়ে গেলে এরপর তিনি হো হো করে হেসে ফেলেন। এটিও দেখতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জমা দেয়া খেলনা বন্দুকগুলোর মতোই, এটা খেয়াল করার পর আমরা বোকা বোকা হাসি দিই। মিনিটখানেক পর তিনি হাসি থামিয়ে বলেন, 'চমকে গেছেন না? হে হে! দেখলেন, বন্দুকগুলো কত কাজের।'

এ সময় আমরা ইয়াবা ব্যবসায়ী ভদ্রলোকের আশেপাশে তার কিছু ৯-১০ বছর বয়সী গার্ড দেখতে পাই, তাদের হাতেও রয়েছে এই দুর্ধর্ষ আগ্নেয়াস্ত্রগুলো। বন্দুকটা হাতে নিয়ে জেমস বন্ডের মতো গুলি করার ভঙ্গি করে ভদ্রলোক বললেন, 'এগুলো আসলে আমাদের ট্রেনিংয়ের অস্ত্র। এই যে বাচ্চাগুলো, ওরা এগুলো দিয়ে ট্রেনিং করছে। আমরাও ট্রেনিংয়ের সময় এগুলো দিয়েই শিখেছি।'

বন্দুকটা আকাশের দিকে তাক করে মুখে 'ঢিশকিয়াও' শব্দ করে তিনি আরও বলেন, 'অস্ত্র জমা দেয়ার চেয়ে ট্রেনিং জমা দেয়াই বেটার। তাই আত্মসমর্পণ করে ট্রেনিংয়ের সময় ব্যবহৃত হওয়া এই বন্দুকগুলোই জমা দিয়েছে ভাইয়েরা। জিনিসটা দেখেন, ক্লাসিক না? দাঁড়ান, আপনাকেও একটা বানিয়ে দিই, খুব সোজা কিন্তু...'

আমরা আপত্তি করলেও ভদ্রলোক ইশারা করামাত্র একজন শিশু গার্ড দৌড়ে গিয়ে টিন ও কাঠ কেটে দশ মিনিটের মধ্যে এমন একটি বন্দুক বানিয়ে দেয়। ভদ্রলোক আমাদের হাতে উপহার হিসেবে সেটি তুলে দিয়ে বলেন, 'নিন, আত্মরক্ষা ও আত্মসমর্পণ, দুই কাজেই লাগবে জিনিসটা।'

আমরা উপহার পাওয়া এই 'আগ্নেয়াস্ত্র'টি উল্টেপাল্টে দেখে জিজ্ঞেস করি, 'ভাই, একটা প্রশ্ন, এগুলো যদি আগ্নেয়াস্ত্র হয়, জমা দেয়া ইয়াবা বড়িগুলো তাহলে প্যারাসিটামল না তো?'

ভদ্রলোক এই প্রশ্নে রহস্যময় হাসি হেসে বলেন, 'দুই বেলা খেয়ে টেস্ট করে দেখুন তাহলে, হা হা হা...'

এ সময় আশেপাশে থাকা একদল শিশু গার্ডরাও হো হো করে হাসতে হাসতে তাদের হাতের বন্দুকগুলো আকাশে তাক করে একযোগে মুখ দিয়ে 'ঢিশকিয়াও' শব্দ করে একটি রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

৩০৭৭ পঠিত ... ১৮:২১, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

Top