হার্ভার্ড অক্সফোর্ড থেকে টিএসসির ১০ টাকার সমুচা সিঙ্গাড়া খেতে ছুটে আসছে হাজারো শিক্ষার্থী

১০৬৯৫ পঠিত ... ১৪:৫২, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড সহ বিশ্বের সব নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আর তাদের এইম ইন লাইফ রচনায় লিখছে না উদ্যোক্তা, গবেষক, বিজ্ঞানী বা বিলিয়নিয়ার হওয়ার কথা। তারা গ্রাজুয়েশন শেষ করে বা না করেই ছুটে আসছে বাংলাদেশে। গন্তব্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি। উদ্দেশ্য, ১০ টাকায় চা সিঙ্গাড়া চপ আর ছমুচা খাওয়া। তারা শয়নে স্বপনে নিদ্রা ও জাগরণে দেখছে টিএসসির দশ টাকার কম্বো প্যাকের ছবি।

গত ২৮ জানুয়ারি টিএসসিতে একটি নবীনবরণের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, 'ঢাবির শিক্ষক-ছাত্র মিলনায়তনে দশ টাকায় এক কাপ চা, একটি সিঙ্গারা, একটি সমুচা আর একটি চপ পাওয়া যায়, এবং এটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে রেকর্ড হবার মতোন ব্যাপার।' আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাড়া পড়ে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

 

হার্ভার্ডে পিএইচডি করছেন এমন একজন শিক্ষার্থী আমাদের জানান, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান অসাধারণ, নানান জ্ঞানমূলক গবেষণা ও আবিষ্কারের সাথে যুক্ত আমরা। অথচ ক্যাফেটেরিয়ায় পিজ্জা বার্গার এসব খেতে গিয়ে লাখ লাখ ডলার খরচ হয়ে যাচ্ছে। মূল জায়গাটাতেই আমরা পিছিয়ে পড়লাম। তাই হার্ভার্ড ছেড়ে ঢাবিতে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১০ টাকায় সিঙ্গাড়া সমুচা খেয়ে আমিও গর্বিত হতে চাই।'

এ বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববদ্যালয়ের সাবেক স্টুডেন্ট বিশ্বের এক নাম্বার ধনী বিল গেটস বলেন, 'এত টাকা আয় করে কী লাভ হলো? আমার এলাকায় খাবারের দাম অনেক। লাইনে দাঁড়িয়ে বার্গার কিনতে কিনতেই ফতুর হয়ে যাচ্ছি। আগে জানলে হার্ভার্ড ছেড়ে ঢাবিতে পাড়ি জমাতাম। দশ টাকায় খেতাম পৃথিবী বিখ্যাত টিএসসির চা সিঙ্গাড়া চপ আর সমুচা।'

তবে অতীতে বিল গেটস ভুল করলেও সেই ভুল করছে না একালের শিক্ষার্থীরা। ১০ টাকা পকেটে নিয়ে তারা দলে দলে ছুটে যাচ্ছে টিএসসির দিকে। অক্সফোর্ডের এক শিক্ষার্থী এ সম্পর্কে জানান, 'আমরা বই এ বাংলার শায়েস্তা খানের ইতিহাস পড়েছিলাম। যার আমলে টাকায় নাকি আট মণ চাল পাওয়া যেত। ভেবেছিলাম সেসব বুঝি ইতিহাস। কিন্তু আজ গরীবের শায়েস্তা খান ঢাবি ভিসির বক্তব্য শুনে ভুল ভাঙলো। এখনো সেই যুগই চলছে ঢাকাতে। তাই আর দেরি না করে চললাম ইতিহাসের সাক্ষী হতে।'

মাত্র দশ টাকায় চা সিঙ্গাড়া চপ আর ছমুচা বিক্রি করার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রচনা করলো এক গর্বের ইতিহাস। সারা বিশ্বের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে ঢাবি উচু করে ধরলো নিজস্ব পতাকা। উড়ালো সবার উপরে, পত পত করে। সাফল্যে ঢাবিকে ছাড়িয়ে যেতে দেশ-বিদেশের অন্যান্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ও কি ক্যাফেটেরিয়ায় ১০ টাকার সেট মেন্যু রাখার কথা
ভাবছে? এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, 'আগে জানলে আমরা এত রিসার্চ, থিসিস, উদ্ভাবন ও আবিস্কারের পেছনে সময় নষ্ট করতাম না একদমই। সোজা দশ টাকায় চা সমুচা সিঙ্গাড়া বিক্রি করে নাম্বার ওয়ান ইউনিভার্সিটি হয়ে যেতাম।'

ক্যালটেকের এক বিজ্ঞানী বলেন, 'নোবেল পেয়ে কী লাভ? যদি ভার্সিটি আমাদের ১০ টাকায় এতকিছু না দিতে পারলো, তাহলে কী হবে গবেষণা-সম্মাননা এসব দিয়ে! ঢাকা ভার্সিটির মত বিশ্বের গর্ব হতে হলে লেখাপড়া বা গবেষণায় না, মনোযোগ দিতে হবে চা ও সমুচার দামের দিকে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় বড় হয় চপ সিঙ্গাড়ার দামে।'

 

আরও পড়ুন-

১০৬৯৫ পঠিত ... ১৪:৫২, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top