জনগণের ভিটামিনের অভাব পূরণে কমলাযুদ্ধে নামলেন হাজী সেলিম

২১৯০ পঠিত ... ১৯:০৬, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

২০১৮ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঢাকা-৭ আসনে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন হাজী সেলিম। মানিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় প্রার্থীকে পিছনে ফেলে তিনি পেয়ে গেছেন দলের মনোনয়ন। নির্বাচন সামনে রেখে অন্য সব প্রার্থীরা যখন ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচারণায় নেমেছেন, হাজী সেলিম নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পদক্ষেপ। নিজ আসনের ভোটারদের ভিটামিনহীনতা দূর করতে তাদের উদ্দেশে কমলা ছুড়তে শুরু করেছেন তিনি।

 

২০১৬ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার পর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এবং কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি বাকশক্তিহীন অবস্থায় দিনযাপন করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর আবার ফিরে পেয়েছেন বাকশক্তি। সীমিত শব্দ ব্যবহার করে তিনি সবার সাথে মনের ভাব আদান প্রদান শুরু করেছেন নতুন উদ্যমে।

অন্যান্য প্রার্থীরা যখন নিজেদের নাম ডাক প্রচারে ব্যস্ত, তখন তিনি নিজের প্রচারণার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ডিজিটাল দেশ হওয়ার পথে। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে যান্ত্রিকতার মাঝে অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন নিজের খেয়াল রাখার কথা। ডিজিটাল উপায়ে সব তথ্য পেলেও ভিটামিন পাওয়ার উপায় এখনো আবিষ্কার হয় নি। তাই দেশের একটি মানুষও যেন ভিটামিনের অভাবে না ভুগে, সে উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন কমলাযুদ্ধ। তার এলাকার রাস্তা ধরে তার সুদৃশ্য নিশান পেট্রোলের ছাদ খুলে তাকে সবার হাতে যুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র হিসেবে কমলা ছুড়ে দিতে দেখা যায়।  

পারমাণবিক যুদ্ধ, স্নায়ু যুদ্ধ, বন্দুক যুদ্ধ এমনকি আফিম যুদ্ধের নাম মানুষ শুনলেও কেউ কখনো কমলাযুদ্ধের কথা শুনেনি। তাই এই যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হাজী সেলিমের সাথে যোগাযোগ করেন eআরকি ভিটামিন অনুসন্ধানী দল। লালবাগ কেল্লায় এক পড়ন্ত বিকেলে একান্ত আলোচনায় তিনি বলেন, ‘নোকা, নোকা নোকা নোকা...নোকা নোকা’। পাশে থাকা তার অনুবাদক তা অনূদিত করে আমাদের বলেন, ‘পক্ষাঘাতের নিদারুন আঘাতে আমি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলাম। তখনি আমি বুঝতে পারি, সুস্বাস্থ্যের কত মূল্য। আমি চাই না ভিটামিনের অভাবে অন্য কেউ আমার মত শত কষ্ট ভোগ করুক। জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য আমি কোন জনপ্রিয়তা পাওয়ার অসুস্থ লড়াইয়ে নামবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বরং আমি নামবো সুস্থতার লড়াইয়ে।’

কীভাবে তিনি এই লড়াই করবেন জানতে চাইলে তার ‘নোকা’ ভাষাকে অনুবাদ করে বলার পর আমরা জানতে পারি, ‘রোগ বালাই ও নানাবিধ অসুখের সাথে যুদ্ধ করে নিরোগ থাকতে সবার প্রথমে দরকার হলো পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন। তাই আমি আমার এলাকায় সবার হাতে তুলে দিচ্ছি রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার মোক্ষম অস্ত্র- কমলা। কমলা বিপুল পরিমাণে ভিটামিনের যোগান দিতে সক্ষম। তাই কচি কচি কমলার কোয়ায় কোয়ায় লুকোনো ভিটামিন পেয়ে সবাই থাকবে নীরোগ ও সুস্থ।’

তবে তার এই ভিডিওতে তার গাড়ির কাছে এসে ভিড় জমানো কিছু দরিদ্র নরনারীর হাতে এই কমলা না দিয়ে দূরে দাঁড়ানো জনতার দিকে কেন ছুঁড়ে মারছিলেন, তা জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠেন, ‘নোকা নোকা নোকা! নোওওওওকাআআ নোকা! নোকা নোকা নোকা নোকা!’ তাকে বহু কষ্টে শান্ত করে তার অনুবাদক আমাদের বলেন, ‘সেলিম ভাই তার এলাকাকে বহুদিন আগেই দারিদ্র্যমুক্ত ঘোষণা দিয়েছেন। যারা তার গাড়ির কাছে এসে হাত পেতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা নিশ্চই এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়। এরা আসলে বিরোধীদলীয় এজেন্ট, যারা তার এই ভিটামিনের স্বপক্ষে কমলাযুদ্ধকে বানচাল করে দিতে চায়।’

কমলা দিয়ে শুধু ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হলেও বাকি ভিটামিন কোথা থেকে সবাই পাবে- তা জানতে চাইলে তিনি আকস্মিকভাবে উঠে পড়েন, এবং সংক্ষেপে একবার ‘নোকা’ বলে তিনি সামনের দিকে রওনা দেন। তার ব্যক্তিগত অনুবাদক তার সাথে তাল মেলাতে হন্তদন্ত হয়ে যাত্রা শুরু করায় এই ‘নোকা’র প্রকৃত অর্থ কী- তা আর জানা যায় নি।

তবে হাজী সেলিমের এই কমলা নিক্ষেপ কর্মসূচি কিশোর-তরুণদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছে। কিশোরদের অনেকেই টেনিস বলের বদলে একের অপরের দিকে কমলা ছুড়ে ‘বোম্ববাস্টিং’ খেলা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তরুণরা জানিয়েছেন, তারা স্পেনের ‘লা টমাটিনো’ উৎসবের আদলে ‘লা অরাঞ্জিনো’ নামে নতুন উৎসব পালন করার কথা ভাবছেন।

২১৯০ পঠিত ... ১৯:০৬, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top