এরশাদের মতো হাসপাতালে ভর্তি হতে চান বাংলাদেশের হাজারো ব্যাচেলর

১১৮৫ পঠিত ... ১৫:৪৪, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও স্বৈরশাসক লে. জে. হু মু এরশাদ হাসপাতাল থেকে বের হবার ৩ দিনের মাথায় ৪ ডিসেম্বর আবারো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, এরশাদ শতভাগ সুস্থ আছেন। নিঃসঙ্গতার জন্যই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন (সূত্র: ডেইলি স্টার)।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের নানান প্রান্ত থেকে ব্যাচেলর ও তরুণ বয়সীদের হাহাকার ও দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে যেতে থাকে বাংলার বাতাস। হাসপাতালগুলোয় নিরোগ মানুষের লম্বা লাইন পড়ে যায়। এমন খবর পেয়ে জনৈক eআরকি প্রতিনিধি (যিনি নিজেও বেশ নিঃসঙ্গ) রাজধানীর স্বনামধন্য কিউব হসপিটালে ছুটে গেলে দেখেন, সেখানে সুস্থ সবল মানুষের লম্বা লাইন, যার সবই ব্যাচেলর, অর্থাৎ তরুণ-তরুণী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণকে হাসপাতালে আগমনের হেতু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আমাদের বলেন ‘বাংলাদেশ যেমন পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল, তেমনি এরশাদ আমার জীবনের রোল মডেল। একলা ভালো লাগে না বলে তিনি যেমন হাসপাতালে এসেছেন, তেমনি আমিও চলে এসেছি হাসপাতালে।’ চারপাশের ব্যাচেলর তরুণ-তরুণীরাও স্লোগান দিয়ে এই কথায় সায় দেন। এই বয়সে একলা কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অন্য এক তরুণ বলেন ‘প্রেমটা হচ্ছে না ভাই! যাকেই প্রোপোজ করি, রিফিউজ হয়ে যাই। খুব একা লাগে! এতদিন একাকীত্ব দূর করতে কী করবো, বুঝতে পারছিলাম না। এরশাদ চাচাই পথ দেখালেন।’

এ পর্যায়ে গিটার হাতে হাসপাতালের গেটের সামনে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা একজন ব্যাচেলর গেয়ে ওঠেন হাসানের সেই একাকীত্ব এনথেম, ‘একা… আমি একা… জীবন মরুভূমি!’

এ সম্পর্কে একজন ব্যাচেলর তরুণীর কাছে আমরা মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জীবনের এতগুলো বসন্ত কাটলো, তবু আমি সিঙ্গেল। এতদিন খুব আফসোস হতো, একা একা কি কিছু ভালো লাগে বলেন? কিন্তু এরশাদ চাচাকে দেখে আমার কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এত “রঙিন” একজন মানুষ যদি একা থাকতে পারেন, আমি কেন নয়! তাই উনার দেখাদেখি একাকীত্ব কাটাতে হাসপাতালে চলে এলাম।’

পাশ থেকে আরেকজন তরুণীকে ‘আই এম সো লোনলি ব্রোকেন এঞ্জেল’ গানটি গুনগুন করে গাইতে শোনা যায়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালটির একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান ‘হাসপাতালে আসলে ডাক্তাররা আছেন, নার্স আছেন। আরও নানান মানুষেরা আছে। হাসপাতালে আপনার একলা লাগার সুযোগ নেই। তাই পল্লীবন্ধুর মতো এসব তরুণেরাও চলে আসছেন হাসপাতালে।’

কিউব হসপিটালসহ স্থানীয় আরও কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। অবশ্য সর্বত্রই মেয়েদের চাইতে ছেলেদের অবস্থান লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বেশি। এ বিষয়ে এক তরুণীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আমার এক বান্ধবীও আসত। কিন্তু ওর বাসা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার পর একা বের হতে দেয় না! কী আর করবে… বেচারি!’

এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে কিছু ডাক্তার জানিয়েছে, অনেক একা ছেলেমেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসার পর এই ভিড়েই অনেকের একাকীত্ব কেটে যাওয়ায় তারা হাসপাতাল ত্যাগ করাও শুরু করেছেন।

১১৮৫ পঠিত ... ১৫:৪৪, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top