শায়েস্তা খাঁর আমলে স্বর্ণ কিনেছি : বদিপত্নী শাহীন আক্তার চৌধুরী

৩৫৪১ পঠিত ... ১৫:০৭, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

২০১৮ সংসদ নির্বাচনে বদির পরিবর্তে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। নির্বাচন কমিশনে তার জমা দেয়া হলফনামায় তিনি বলেছেন, তার মালিকানায় রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা (সুত্র: জাগোনিউজ টুয়েন্টিফোর)। স্বর্ণের বাজারদর এখন ভরিপ্রতি সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার টাকা হলেও হলফনামায় তিনি স্বর্ণের বাজারমূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ৩ হাজার টাকা।

এই অবিশ্বাস্য রকমের স্বল্পমূল্যে স্বর্ণ পাওয়ার কথা দেশের সর্বত্র ভাবীসমাজে সৃষ্টি করেছে আলোড়ন। তার এই তিন হাজার টাকা ভরি সোনার উৎস জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আর তা জানতেই বদিপত্নী শাহীনের সাথে যোগাযোগ করে eআরকির স্বর্ণসন্ধানী দল।

তাদের সাথে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে শাহীন আক্তার জানান, ‘দেখুন, আমার হলফনামা নিয়ে নানা লোকে নানা মন্দ কথা ছড়াচ্ছে। আমার সোনার দাম নাকি আমি ইচ্ছা করে কমিয়ে দিয়েছি। আবার অনেককে বলতে শুনলাম আমার সোনায় নাকি ভেজাল আছে। কিন্তু আজ আমি সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমি বাবার কসম কেটে বলছি, আমার সোনা একদম বাংলাদেশের মাটির মতোই খাঁটি। আর যারা তিন হাজার টাকা ভরি শুনে এত কথা বলছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমার সোনা এই ভেজালের যুগে কিনি নি। আমি সবসময় খাঁটি জিনিসে বিশ্বাস করি। আমার স্বামী ও আমি মিলে সারা দেশে যেই বাবা সাপ্লাই দেই, তা থেকে কোন ভেজালের অভিযোগ শুনেছেন? আমার স্বর্ণ আমি কিনেছি শায়েস্তা খাঁর আমলে। তখন ১ টাকায় যেমন ৮ মণ চাল পাওয়া যেত, তেমন করে টাকায় তিন হাজার ভরি স্বর্ণও পাওয়া যেত!’

চোখের কোণে টলমলে জল নিয়ে শাহীন আক্তার আমাদের আরো বলেন, ‘আমি একজন সৎ মানুষ। আমার স্বামী বদিও একজন সৎ মানুষ, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিলো দেশের সব বাবাহীন মানুষের কাছে বাবা পৌছে দেয়া। কিন্তু কিছু ঈর্ষান্বিত মানুষের ষড়যন্ত্রে এবার তিনি নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারলেন না। তার বদলে জনগণের সেবার জন্য নেতৃত্বের মশাল আমি ধরলাম। আর আমি সরল মনে সততায় বিশ্বাসী হয়ে হলফনামায় আমার সোনার আসল দামটা দিলাম। তা নিয়েও মানুষের এত লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে তা আমি ভাবিনি।’

তবে একবিংশ শতাব্দীতে বসে তিনি সেই প্রাচীন আমল থেকে কী করে স্বর্ণ কিনতে পেরেছেন, তা জিজ্ঞেস করতেই তিনি হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে বদি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের আরএন্ডডি (রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) এক্সিকিউটিভ বলেন, ‘আরে বাবা, এখন তো শুধু বাবার সাপ্লাই দিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকা যায় না! নতুন বাজার ধরতে বদি ভাইয়ের নির্দেশে তৈরি করা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক টাইম ট্রাভেলিং ট্যাবলেট- টিটিটি। শুধু এই একবিংশ শতাব্দীতে নয়, এই বিশেষ টাইম ট্রাভেলিং বড়ি আমরা এখন সাপ্লাই দেই অতীত ভবিষ্যৎ সর্বত্র। আর সেই সুবাদেই শাহীন ম্যাডাম একটু ঘুরে এসেছিলেন শায়েস্তা খাঁর আমল থেকে।’

সুলভ মূল্যের এই স্বর্ণের খোঁজ পেয়ে অনেকেই এখন বিয়ের অলঙ্কার কেনার জন্য শায়েস্তা খাঁর আমলে নিয়ে যেতে অনুরোধ করেন শাহীন আক্তারকে। নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষ করে তাদের সাথে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

[এটি একটি স্যাটায়ার নিউজ। এটাকে বিশ্বাস করা তো দূরের কথা, অবিশ্বাস করারও প্রশ্নই আসে না]

 

বদি সংক্রান্ত আরও পড়ুন:

৩৫৪১ পঠিত ... ১৫:০৭, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top