বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ফুটওভার ব্রিজ বানালো বাংলাদেশ

৪৩৩০ পঠিত ... ১১:৫৫, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই পদ্মা ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেছিল সরকার। তবে পদ্মা ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ার আগেই নিজস্ব অর্থায়নে আরেকটি ব্যয়বহুল ব্রিজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই এবার বাংলাদেশ বানিয়েছে কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ। 

চলতি মাসের ৩ তারিখ (নভেম্বর ২০১৮) নাটোরের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্টিল নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটির শুভ উদ্বোধন করেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। ব্যয়বহুল ব্রিজটির সাথে সেলফি তুলতে এসময় উপস্থিত জনগণের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গুজব ছড়িয়ে পড়ে, এই ব্রিজ আসলে স্টিলের নয়, সোনা দিয়ে তৈরি।   

উদ্বোধনের সময় স্থানীয় এক নেতা গর্বিত কন্ঠে বলেন, 'এই ব্রিজের মাধ্যমে আমরা উন্নত ধনী দেশের তালিকায় আরও উপরে উঠে গেলাম। আমরা এখন বিশ্বব্যাংককে সহায়তা করার ক্ষমতা রাখি।' বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই সামনে আরও বিরাট বাজেটে ব্রিজ বানানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ বুর্জ আল মিয়া খলিফা বানাবে, আইফেল টাওয়ার বানাবে। ' 

এসময় তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে ভিডিও কল দিয়ে ব্রিজটি দেখিয়ে দুই আঙুলের মাধ্যমে 'ভি' চিহ্ন প্রদর্শন করেন। 

এদিকে সেতু মন্ত্রনালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকায় ফুটওভার ব্রিজ তৈরির খবর শুনে শিহরিত হয়েছেন। নিজের ফেসবুকে কাঁপাকাঁপা হাতে তিনি লিখেছেন, 'আমি শিহরিত হয়ে গেলাম! বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই চোখের পলকে এত দামি ব্রিজ বানিয়ে পলক ছেলেটা অত্যন্ত চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিগগিরই ওকে ডেকে পদ্মা ব্রিজের ব্যাপারে আলোচনা করব।' 

অন্যদিকে নদী ছাড়াই এত দামি একটি ব্রিজ পেয়ে সিংড়া এলাকাবাসীও প্রচন্ড উচ্ছ্বসিত। অনেকেই জুতা খুলে ফুটওভার ব্রিজে উঠছেন। ব্রিজের পাশে পা ধোয়ার পানির ব্যবস্থা করতে তারা মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ব্যাপারটা নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে নানা ধরনের আলোচনা। সামান্য একটা স্টিলের ব্রিজ তৈরি করতে কেন পৌনে তিন কোটি টাকা লাগলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস এট ফেসবুক) আদি আদিত আদিত্য বলেন, 'ভাই আপনারা পলক ভাইকে শুধু শুধু ভুল বুঝছেন। এই ব্রিজ তৈরিতে এত টাকা লাগার কারণ এই ব্রিজ রাতের বেলা জ্বলজ্বল করবে, দিনের বেলা চিকচিক করবে। সারা দেশ বন্যায় ভেসে গেলেও এই ব্রিজে কখনও পানি উঠবে না, এমনকি পানি জমেও থাকবে না। বাসা-বাড়িতে গ্যাসের অভাবে রান্না করতে না পারলে দিনের বেলা এই ব্রিজে চলে আসবেন। ব্রিজের লোহা এত পরিমানে সূর্যের তাপ ধরে রাখতে পারে যে অনায়েসে রান্না করতে পারবেন।'

তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন আরেক প্রকৌশলী (ওয়ার্কস এট ফেসবুক) আসিক আফসান। তিনি এত কম টাকায় ব্রিজ বানাতে পারার ব্যাপারে বিস্মিত হয়ে বলেন, 'ওএমজি, কিভাবে এতো কম খরচে এই ওভারব্রিজ হয়ে গেল? আমার গ্রামের বাড়িতে একটা বাঁশের সাঁকো করতে তো ছয় কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিলো। তাও না হওয়ায় পরে আবেদন করে আরও দুই কোটি টাকা বাড়িয়ে আট কোটি টাকায় সাঁকোটি কমপ্লিট করে এলাকার চেয়ারম্যান। ধন্যবাদ জুনায়েদ সাহেবকে।'

এই ব্রিজ বানাতে সত্যিই কি বেশি টাকা খরচ হয়েছে নাকি কম টাকা খরচ হয়েছে--এমন প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে গেলে ভিড় থেকে গা বাঁচিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান মাহবুব নামের এক পথচারী পলককে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'জিতসেন ভাই জিতছেন।' 

৪৩৩০ পঠিত ... ১১:৫৫, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top