প্রেমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা

২১৩৪ পঠিত ... ১৩:৫৬, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার প্রশ্নটি হচ্ছে, 'ভালবাসো, তার প্রমাণ কী?' রোমিও-জুলিয়েট, দেবদাস-পার্বতী থেকে শুরু করে সেপাই-অফিসার কিংবা মন্ত্রী-মিনিস্টার, ফাঁস হওয়া এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খায় সবাই। তবে যুগের বিবর্তনে এই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।ভালবাসার পরীক্ষাকে পেছনে ফেলে, প্রেমের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো থ্যালাসেমিয়ার পরীক্ষা৷কারণ, এই থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষায় ফেল করলেই সেই প্রেম আর কোনো পরিণতির দিকে যেতে পারবে না৷

বাংলাদেশে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রির সময় বর-কনের রক্তে থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা তা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করছে হাইকোর্ট (সূত্র: ডিবিসিনিউজ)।

 

খবরটি প্রকাশের সাথে সাথে প্রেমিক-প্রেমিকাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা গেছে৷ চারিদিকে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। রমনা পার্কে গিয়ে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকারা সেখানে আজ যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি বসে আছেন। কান পেতে শোনা গেছে তাদের অধিকাংশই ভালবাসা আলোচনা বাদ দিয়ে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত আলোচনা করছেন।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা শুনতে পাই, জনৈক প্রেমিকা জিজ্ঞেস করছে, 'এ্যাই! তোমার থ্যালাসেমিয়া নাই তো?' এ সময় প্রেমিক ছেলেটি ভীত চোখে আমতা আমতা করে বলছেন, 'জান!কালই রক্ত পরীক্ষা করাবো, প্রমিজ।'

এদিকে অনেক জুটিই মনে করেন, এটা অভিভাবকদের ষড়যন্ত্র। আবার অনেকের দাবি, কাজী অফিসে ফ্রি রক্ত পরীক্ষার সিস্টেম রাখা উচিত৷ এতে করে পালিয়ে বিয়ে করার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধা পাওয়া যাবে৷ অন্যদিকে কিছু আবেগী জুটি আকাশ বাতাস প্রভৃতিকে সাক্ষী রেখে বলেছেন, 'থ্যালাসেমিয়ার মতো জাস্ট একটা রোগ আমাদেরকে আলাদা করতে পারবে না, পারবে না, পারবে না।'

[বি.দ্র: থ্যালাসমিয়া একটি ভয়ংকর রক্তবাহিত রোগ। সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মায়। মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। থ্যালাসেমিয়া থেকে বাঁচতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, এ রোগের বাহকদের শনাক্ত করা। দুজন বাহক যদি একে অন্যকে বিয়ে না করে তাহলে কোনো শিশুরই থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করা সম্ভব নয়।]

২১৩৪ পঠিত ... ১৩:৫৬, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top