কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, সমুদ্র সৈকত ফাঁকা

৩৬২১ পঠিত ... ১৭:৩৬, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

কিছুদিন আগে, শেষ হলো ঈদ। আর প্রতি বছরের মতোই, আমাদের দেশের জাতীয় টুরিস্ট স্পট কক্সবাজার, লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিলো ঈদের ঠিক পরপরই। কিন্তু প্রতি বছরের সাথে এবার যেই অমিল লক্ষ্য করা গেলো, তা হলো দিন যাওয়ার সাথে সাথে এই জনসমাগম কমার বদলে দর্শনীয় হারে বেড়ে যাওয়া। এই উপচে পড়া ভিড়ের পেছনের রহস্য জানার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান আমাদের রিপোর্টার। কিন্তু যাওয়ার পরে তিনি যা দেখতে পান, রাসেল ভাই সাক্ষী, তিনি তা দেখার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না। কক্সবাজার শহরে দীর্ঘ ১৩ ঘন্টা জ্যাম ঠেলে তিনি যেই হোটেলেই যান না কেন, কোনো হোটেলই তার জন্য একটি সিঙ্গেল রুম যোগার করে দিতে পারেনি। এই বিষয়ে সব ম্যানেজার তাকে একটা কথাই বলেন, তারা শুধু ঈদ কেনো, কোনো সিজনেই এমন জনসমাগমের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেবার পরে এক ম্যানেজার তাকে নিজের ঘরে থাকার প্রস্তাব দেন। আর সত্য সন্ধানী রিপোর্টার সুযোগের সদ্বব্যবহার করে সেখানেই ঘাটি গাড়েন।

এতো মানুষ কেনো আজ সৈকত নগরীতে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে সৈকতে গেলে রিপোর্টারের মাথায় বাজ পড়ে। এতো মানুষ শহরে, কিন্তু সৈকতে মানুষ কই? ধুধু বালুচরে একা দাঁড়িয়ে রিপোর্টার যখন শহরে ফেরত আসেন, তখন তার ফেসবুকে হঠাৎ ভেসে ওঠে এক যুগান্তকারী বিজ্ঞাপন। আর সেই বিজ্ঞাপন দেখে, তখনই রিপোর্টার বুঝে যান, এত ভিড়, এত মানুষ, কী সেই রহস্য। ছুটে যান তিনি, কক্সবাজার লিঙ্ক রোডে। আর যেতেই বাণিজ্যমেলার ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলে তার চোখে পরে সেই রাজকীয় গেট। যার উপরে বড় করে লেখা 'মেরিন সিটি মেগা শপিং কমপ্লেক্স'।

আর ঠিক বিজ্ঞাপনের মতই, কী নেই সেখানে? বিজ্ঞাপনে বলা জিনিসগুলোর পাশাপাশি সেখানে আরও একটি লক্ষণীয় ব্যাপার ছিল, এই যায়গায় ঠিক বিজ্ঞাপনের মতই অনিন্দ্যসুন্দর মেকআপ করা রমণীদের ভিড়। রিপোর্টার আসলে কখনো ধারণাই করতে পারেননি, আমাদের দেশে সাদা আটার পাশাপাশি লাল আটার এতো প্রচলন কবে থেকে হলো। এই বিষয়ে এক রমনীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আমাদেরকে জানান, ‘আসলে লুকিয়ে লুকিয়ে এসেছি তো, তাই কখন আবার কে চিনে ফেলে, তাই এতো সুন্দর করে মেকআপ করে আসতে হলো।’ আমাদের সেই মার্কেটে যেয়ে আরো দেখা হয় লাল চুলে নাচের তালে দেশ কাপানো, গানে যেয়ে বিশেষ কোনো সুবিধা না করতে পেরে গরীব হয়ে যাওয়া আজিজ সাহেবের সাথে, যিনি কিনা ছোট ভাইয়ের কথা শুনে কম খরচে শপিং করতে এসেছেন এখানে। তাকে আমরা এতো ভিড় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা দেখুন, এই মাথাগুলোকে যদি আপনি গাড়ি ভেবে নেন, তাহলে কিন্তু আপনার মনে হবে, আপনি ঢাকার ফার্মগেটেই শপিং করতে এসেছেন।’

ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়ার মহাবিশ্বের বৃহত্তম শপিং মল হিসেবে পরিচিতি প্রাপ্ত যমুনা ফিউচার পার্ককে হারিয়ে শীঘ্রই শীর্ষে উঠে আসবে মেরিন সিটি শপিং মল। ঢাকা থেকে এই শপিং মলে ঘুরতে আসা জনৈক দর্শনার্থীকে যখন প্রশ্ন করা হয় তিনি আর ফিউচার পার্কে যাবেন নাকি, তখন তিনি এক কথায় আমাদেরকে বলেন, ‘যামু না ফিউচার পার্ক’. এদিকে মেরিন সিটি থেকে বের হওয়ার সময় হারিয়ে যাওয়া জনৈকা ‘শাশা গ্রে’কে যখন প্রশ্ন করা হয় মেরিন সিটির বিশালতা সম্পর্কে কিছু বলতে, তখন তিনি বলেন তিনি জীবনে অনেক অনেক বড় বড় স্থাপত্য দেখেছেন, কিন্তু এতো বড় কিছু দেখার সৌভাগ্য তার হয়নি।

আমরা দেখতেই পাচ্ছি কক্সবাজারের ইকোনমির জন্য এই শপিং মল কত গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো এই মলের কারণেই স্থানীয় মানুষ রুটির তাগিদে গুটির ব্যবসা ছেড়ে টাকায় লুটোপুটি খাওয়ার মতো কিছু করতে পারবে। আর মানুষ না যাওয়ার কারণে হয়তো প্লাস্টিকের আগ্রাসন থেকে বেচে যাবে আমাদের জাতীয় টুরিস্ট স্পট, এই সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র নাহয় মানুষেরই হোক, মেরিন সিটি মেগা শপিং মলে।

৩৬২১ পঠিত ... ১৭:৩৬, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top