ঢাকার বঙ্গবন্ধু ফুটবল স্টেডিয়ামে চলছে সবজি চাষ

৯৯৮পঠিত ...১৯:০৬, জুলাই ১২, ২০১৮

ফুটবলকে জীর্ণদশা থেকে মুক্ত করতে বাফুফে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলছে। এই লক্ষ্যে প্রায় দেড় বছর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল (পুরুষ) পূর্ণ বিশ্রামে ছিল। গত মার্চে লাওসের বিরুদ্ধে খেলার আগে দীর্ঘ ১৯ মাস বাংলাদেশ কোন আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। এই বিশ্রামের সাথে যেন খেলোয়াড়দের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নেয়া হয়েছে সবজি চাষের মত এক অভিনব ও অসাধারণ উদ্যোগ।

সম্প্রতি একটি ভিডিও ফেসবুকে নতুন করে ভাইরাল হলে দেখা যায়, ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্সের জন্য বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটির পল্টন প্রান্তে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকের বাইরে থেকে গ্যালারির দেয়ালের মাঝের খালি জায়গায় নানা রকম দেশি-বিদেশি সবজি চাষ হচ্ছে। সেখানে খুঁজে লাউ, কুমড়া, টমেটো, বেগুন থেকে শুরু করে লালশাক, পুইশাক সহ বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি দেখা যায়।

এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, কালাম ফকির নামের এক মাঠকর্মী সুদীর্ঘ ২১ বছর ধরে মাঠের এই অঞ্চলে সবজি চাষ করে আসছেন। খেলার মাঠে সবজি চাষ নিয়ে তাকে মাঠের কর্তাব্যক্তিরা কেউ কখনো কিছু বলেছেন কি না, তা জানতে চাইলে কালাম ফকির বলেন, ‘হ্যা, তারা আমাকে সব সময় মনোযোগ দিয়ে সবজি চাষ করতে বলছে। কীটনাশক না দেওয়ার জন্যেও তারা আমাকে বলছে।’

কালাম ফকির আরও জানান, সবসময়ই কর্মকর্তারা তার কাছ থেকেই সবজি নিয়ে থাকেন। নিজের ও কর্মকর্তাদের পরিবারের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পেরে তিনি যারপরনাই আনন্দিত। মাঠে সবজি চাষ অথচ খেলোয়াড়দের বদলে কর্মকর্তাদের বাড়িতে সবজি চলে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সবজি চাষ হয় খেলোয়াড়দের জন্যই। সালাউদ্দিন ভাইয়ের সাথে আমার আগেই কথা হয়েছে। ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যেন নিয়মিত তাজা শাক-সবজি খেতে পারে, তার জন্য উনি এবং আমরা সদা তৎপর।’

খেলার মাঠে সবজি চাষ নিয়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল কৃষি আন্দোলনের অবিসংবাদিত মহান নেতা জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে পুরো বিষয়টি জানালে তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। আদ্র চোখ থেকে চশমা খুলে রুমালে মুছতে মুছতে তিনি বলেন ‘এমনটাই ছিল আমার স্বপ্ন। এক টুকরো জমি যেন খালি না থাকে। মাঠ ভরে উঠবে সবুজে, সে খেলা হোক আর ফসলের মাঠ হোক।’ খেলার মাঠ এমনিতেই সবুজ হয় এমনটা তাকে মনে করিয়ে দিলে এমবাপ্পে যেভাবে বলের নিমিষেই বলের দিক পরিবর্তন করে ফেলতে পারে, তেমনি তিনিও প্রসঙ্গের দিক পরিবর্তন করে বলতে থাকেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কৃষি থেকে দূরে সরে গিয়ে বাংলার মানুষ কিংবা ফুটবল দল, কেউই খুব বেশিদূর যেতে পারবে না।’ সময় থাকতেই সবার দৃষ্টি এদিকে ফিরেছে বলে তিনি আনন্দিত।

স্টেডিয়ামে সবজি চাষ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি আমার লক্ষ্য কাতার বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আর মাত্র চার বছর বাকি। তাই এখন থেকেই আমরা ভেজালমুক্ত তাজা সবজির মাধ্যমে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে চাই। ২০২২ বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ মানে এই পুষ্টি প্রকল্প অনুসারেই আমরা ফুটবল দলের খেলা বন্ধ রেখেছিলাম গত কয়েক বছর। আশা করি মাঠের তাজা মূলা-গাজর খেয়ে আগামীবার আমাদের ফুটবলাররা দৌড়ে এমবাপ্পেকেও পেছনে ফেলবে!’

কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিতে বদ্ধপরিকর বাফুফে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সভাপতি আরও জানান, তিনি নিজেও স্টেডিয়াম থেকেই সবজি নিয়ে থাকেন। হাতে থাকা ফ্রেশ একটি গাজরে কামড় দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মাঠে খেলে এত নাম কামিয়েছি, সেই মাটিতেই চাষ করা শাক-সবজি খেয়ে আজ তৃপ্ত হতে পারছি। ভাবতেই ভাল লাগে।’ তিনি eআরকি প্রতিনিধিকেও টাকি মাছ দিয়ে লাউয়ের তরকারি আর লালশাক দিয়ে লাঞ্চ করান।

৯৯৮পঠিত ...১৯:০৬, জুলাই ১২, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top