গঠিত হলো 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদ'

১৯২৪ পঠিত ... ২১:১৫, মে ১৭, ২০১৮

২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল মাঠে বলিষ্ঠ দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন; বিগত ৩২ বছর ট্রফিহীনতায় ভোগা ঐতিহ্যবাহী দল আর্জেন্টিনার সম্মান বাড়াতে গঠিত হয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদ’। পৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্য্যশীল ফ্যানবেসের একটি অংশ যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী তাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহাদ আমিন এই অভাবনীয় উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থন করে এসেছেন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করেন যে, প্রত্যেক শিশুর মৌলিক অধিকার আর্জেন্টিনা সমর্থন করতে পারা। তিনি বলেন ‘আর্জেন্টিনা একটি বিশ্বাসের নাম। ছোটবেলায় কচি কচি শিশুরা পরিবারের কাছে এ তে আর্জেন্টিনা শিখে বড় হয়।’

এ কমিটির প্রচার ও প্রসার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি eআরকিকে বলেন ‘গত বিশ্বকাপে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ থাকলেও কোন কমিটি আর তাদের কার্যক্রম ছিলো না। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা ছড়ায় সারা বিশ্বে। ফিফা হ্যাজ মোর মেম্বার দ্যান ইউ এন। মূলত মনে প্রাণে এ কমিটির সবার মাঝে আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রতি ভালবাসা কাজ করলেও চার বছর পর পর যখন ৩১টা দল লাফালাফি শুরু করে তখন এক থাকাটা জরুরী হয়ে যায়।’

এ পরিষদের সভাপতি সাহাদ আমিন তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আমাদের জানিয়েছেন। ১৮ সদস্য বিশিষ্ট এ কার্যকরী পরিষদের কাজ জেনে নেয়া যাক।

১) আর্জেন্টিনা হেটার্স প্রতিরোধ বিষয়ক সম্পাদক: টিএসসির জনপ্রিয় চা বিক্রেতা স্বপন মামা আছেন এ দায়িত্বে। তিনি মজাদার চা বানিয়ে আর্জেন্টিনা হেটারদেরকে এই দলের প্রতি অনুরাগী বানিয়ে ফেলবেন।

২) অভিনেতা বিষয়ক সম্পাদক: পেশাদারি ফুটবলে পিছিয়ে থেকে অভিনয় করে দমানোর প্রচেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষ। এ সম্পাদক অভিনয়ের বিপক্ষে সোচ্চার থাকবেন।

৩) মেসি বিষয়ক সম্পাদক: একবিংশ শতাব্দীর ফুটবল লিজেন্ড এর গুণকীর্তন করবেন।

৪) পতাকা বিষয়ক সম্পাদক: ঢাকা শহরে কোন অনুপাতে আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি আছে, তার হিসাব ও পরিসংখ্যান করবেন।

৫) জার্মান হেটার্স বিষয়ক সম্পাদক: গত তিন তিনটি বিশ্বকাপে যারা অপেশাদার ফুটবল খেলে আসছে, তাদের নিন্দাসূচক কার্যাবলি সম্পাদন করবেন।

৬) অফ সাইড বিষয়ক সম্পাদক: আর্জেন্টিনার সাথে খেলায় না পেরে প্রতিপক্ষ অফ সাইডের মত কঠিন পৈশাচিকতায় লিপ্ত হয়। অফ সাইডের প্রতিটি আপডেট সম্পর্কে সজাগ থাকবেন।

৭) সাইড বেঞ্চ বিষয়ক সম্পাদক: সাইড বেঞ্চে বসে থাকা প্রতিটি প্রতিভাবান আর্জেন্টাইন ফুটবলারের আপডেট দিবেন।

৮) রেফারি বিষয়ক সম্পাদক: অলিখিত শিরোপা জয়ীদের দমানোর লক্ষ্যে প্রতিপক্ষ দল রেফারিদের দ্বারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে থাকে। এ সম্পাদক রেফারির প্রতিটি ডিসিশনের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন।

৯) সেভেন আপ বিষয়ক সম্পাদক: নাম বললাম না, নাম বললে বিশ্বকাপ খেলবে না। ঐ দলের  সমর্থকদের লাফালাফি বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

১০) কোচ বিষয়ক সম্পাদক: কিছু কিছু কোচ আছেন নিজেরাই মাঠে নেমে খেলতে চায়। তাদের কোচিং এর সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি তুলে ধরবেন।

১১) ইউরোপ বিষয়ক সম্পাদক: ইউরোপের দল যারা হালকা প্রতিরোধ করতে পারবে তাদের ত্রুটি তুলে ধরবেন।

১২) লাতিন আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক: লাতিন আমেরিকার দল যারা হালকা হালকা প্রতিরোধ করতে পারবে তাদের ত্রুটি তুলে ধরবেন।

১৩) গোলবার বিষয়ক সম্পাদক: আর্জেন্টিনা এবারেও অনেক অনেক গোল দিবে। এত গোলের আপডেট দেয়া কিছুটা কঠিন। এ কঠিন কাজটিই তিনি করবেন।

১৪) স্টেডিয়াম বিষয়ক সম্পাদক: আর্জেন্টিনার শিরোপা কেড়ে নেয়ার জন্যে স্টেডিয়ামের ঘাসের মাঝে ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়। এ নিয়ে আপডেট দিবেন এ সম্পাদক।

১৫) প্লাস্টিক বিষয়ক সম্পাদক: প্রতি চার বছর পর পর বানের পানির মত সমর্থক পরিবর্তন হয়। এদের নানা স্ক্রিনশট নিয়ে আপডেটেড থাকবেন।

এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ কি না সে বিষয়ে মেসি বিষয়ক সম্পাদকদ্বয়ের একজন আরিয়া পৃথা eআরকিকে বলেন ‘মেসি একবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। সে আমৃত্যু বিশ্বকাপ খেলে যাবে! তার কখনোই স্ট্যামিনার অভাব হবে না! হতে পারে না!’

‘দেখা হবে ১৫ জুলাই, মস্কোর প্রান্তরে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদ' কাজ করে যাবে বলেই সাহাদ আমিন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সাথে এ পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একীভূত করে নিজেদের মেধা ও মনন দিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকার ঐতিহ্য ও সম্মান বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

eআরকির পাঠকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ‘বিশ্বকাপ ট্রফির আধিক্যের প্রতি নজর না রেখে শৈল্পিক ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্যে eআরকির পাঠকরা পড়াশোনা করবেন বলে আশা রাখি।’

১৯২৪ পঠিত ... ২১:১৫, মে ১৭, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top