ছাত্রলীগের চার সদস্যের কমিটির কাছে তদন্তে সাহায্য চাইলেন শার্লক হোমস

১৯৩৮পঠিত ...১৯:৫০, এপ্রিল ১৩, ২০১৮

পৃথিবীর ইতিহাসে দ্রুততম তদন্ত এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। চিতার ক্ষিপ্রতায় ছাত্রলীগের ৪ সদস্যের একটি কমিটি উদঘাটন করেছে ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগকে মাত্র ২৪ ঘন্টায় তাঁরা ভিত্তিহীন প্রমাণ করে এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। 

তদন্ত কমিটির এই অসাধারণ সাফল্যের কথা দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পরে। ২২১/বি বেকার স্ট্রিট নিবাসী প্রাইভেট গোয়েন্দা শার্লক হোমসের কাছেও এই খবরটি পৌঁছায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার একান্ত সহচর জন ওয়াটসনকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

দাঁতে দাঁত চেপে উছ্বাস ঠেকানোর চেষ্টা করতে করতে তিনি বলেন, 'এতদিন ধরে থিওরি অব ডিডাকশন দিয়ে অনেক রহস্যের সমাধান করতে পারলেও তার জন্য অপচয় করতে হয়েছে অনেক সময়। এতটা দ্রুততার সাথে কখনোই আমি কোনো সমাধান করতে পারিনি। এত কঠিন রহস্যময় এক ঘটনার চাঞ্চল্যকর তদন্তের মাধ্যমে এশা নামের মেয়েটিকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য কমিটির প্রত্যেক সদস্যের উদ্দেশ্যে আমি অন্তরের অন্তরস্থল থেকে টুপি খোলা অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই অসাধারণ তদন্ত কমিটির কর্মদক্ষতা দেখে আজ আমি আমার নিজের দক্ষতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছি। আফসোস, আমার সহকারী হিসেবে সোহাগ ভাই ও জাকির ভাইয়ের মতো দক্ষ কেউ নেই।' 

এই পর্যায়ে তিনি ওয়াটসনের দিকে তাকিয়ে একবার অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। 

তিনি পরবর্তীতে এই কমিটির কাছে নিজের কিছু কেস আউটসোর্সিং করার উৎসাহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন 'এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডিজিটাল গতির সাথে আমি তাল মেলাতে পারছি না। আমাদের এক কালেক্টেড কবিতায় আছে, ''এসেছে নতুন কিড, তাকে ছেড়ে দিতে হবে প্লেস"। হয়তো রহস্যের সমাধান আমি করতে পারি, কিন্তু এত দ্রুততা এবং নৈপুণ্যের সাথে কখনোই পারবো না। ভবিষ্যতে এই তরুণ তদন্ত কমিটির কাছে আমি আমার কিছু কেস আউটসোর্সিং করে দিলে, তাঁরা এভাবেই দ্রুততার সাথে সমাধান করে আমাকে সহায়তা করবেন বলে আশা করছি।' 

উল্লেখ্য বিগত ১১ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ৩ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে রেকর্ড সময়ে প্রথমে ছাত্রলীগ, পরে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় উক্ত হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে। জানা যায়, কোটা আন্দোলনে জড়িত থাকায় সেই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেন এশা। পরদিনই কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনে বিরতি ঘোষণা করা হয়। কোটা ইস্যু কিঞ্চিত স্তিমিত হবার পরপরই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এশার বহিষ্কারের ইস্যু নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসেন। নতুন করে তারা এশার বিরুদ্ধে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। ১২ এপ্রিল ছাত্রলীগ চার সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ২৪ ঘন্টা পার হবার আগেই এই কমিটির অসাধারণ নৈপূন্যে সত্য উদঘাটন হয়, যার মাধ্যমে ইফফাত জাহান এশা সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হন। 

[eআরকি একটি স্যাটায়ার সংবাদ মাধ্যম। এর খবর বিশ্বাস তো করবেনই না, অবিশ্বাস করারও প্রশ্নই আসে না।]

১৯৩৮পঠিত ...১৯:৫০, এপ্রিল ১৩, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    রম্য

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top