সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতিকে বহিষ্কারের ঘোষণাপত্রের অদ্ভুত বিষয়টি খেয়াল করেছেন কি?

৪২১৮ পঠিত ... ১৯:৫৯, এপ্রিল ১১, ২০১৮

গতকাল দিবাগত রাতে অর্থাৎ ১১ তারিখের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান এশার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের এশা গত কদিন ধরে নির্যাতন করেছেন। কাল রাতে তার কক্ষে কয়েকজন সাধারণ ছাত্রীকে আটকে মারধোর করার সময়, আক্রান্ত ছাত্রীদের চিৎকারে হলের সব ছাত্রী জড়ো হয়ে রক্তাত্ত অবস্থায় ছাত্রীদের মুক্ত করে আনে। পুরো হলের ছাত্রীরা সোচ্চার হয়ে ওঠে নিপীড়নকারী ছাত্রীর বিরুদ্ধে।

সংগঠনের একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রীদের এই তীব্র অবস্থানে ভয় পেয়ে যায় ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। উসাইন বোল্টের গতিতে তারা এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষান্ত থাকে না। গিনেজে ‘পৃথিবীর দ্রুততম বহিস্কার’ এর রেকর্ড করতে ছাত্রলীগের হাই কমান্ড বিশেষ তৎপর হয়ে পড়ে।

এই তৎপরতায় দ্রুততম সময়ে বহিষ্কারের আদেশ লিখে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও নেয়া হয়ে যায়। তবে নোটিশের দিকে একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে দ্বিতীয় লাইনের একেবারে শেষে প্রথম ব্র্যাকেট আছে। হাতে লিখার সময় কেন এভাবে লাইনের স্পেস ঠিক রাখতে প্রথম ব্র্যাকেট লাইনের শেষে দিতে হয়েছে তা ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না কারো।

এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ছাত্রলীগের এক নেতা জানান ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, প্রগতি এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত আমাদের প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগ। বড় ভাইয়েরা কখনো আমাদের বিশৃঙ্খল হতে শেখাননি। লাইনের শেষে ফার্স্ট ব্র্যাকেট দেয়াটাও নিশ্চয়ই এই শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ।’

এমনটাও ধারণা করা হচ্ছে, লেখকের লেখার হাতেখড়ি নিশ্চয়ই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড দিয়েই হয়েছিল। তাই তিনি হাতে লেখার সময়ও লাইনের স্পেসিং এবং পৃষ্ঠার মার্জিন নিয়ে সচেতন থাকেন। পরীক্ষার খাতাতেও সম্ভবত উনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সকল নিয়ম কানুন মেনেই লেখালেখি করেছেন। 

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের কিছুক্ষণের মাঝে এশাকে সুফিয়া কামাল হল থেকে এবং তার খানিক বাদে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কারের ঘোষণা আসে। ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এতটা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

একজন সাধারণ শিক্ষার্থী eআরকি প্রতিনিধিকে বলেন ‘এমনটা আগে কখনোই ঘটেনি। এত রাতেও ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক জেগে ছিলেন অন্যায়ের প্রতিবাদে। এমনটা ভাবতেই গর্ব হচ্ছে।’

চমকপ্রদ এই ঘটনার আকস্মিকতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেকে। অনেকে এমনটাও ধারণা করছেন যে, মাঝরাতে বার্সেলোনার খেলা দেখতেই জেগে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতারা। 

অসমর্থিত এক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সুদূর জামাইকা থেকে উড়ে এসেছিলেন উসাইন বোল্ট। দ্রুততম সময়ে বহিষ্কারের আদেশ নিয়ে তিনি সভাপতি এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের কাছে ছুটে গেছেন স্বাক্ষর নিতে। উসাইন বোল্টকে দিয়ে আবারো বাংলার হারিয়ে যাওয়া ডাক হরকরার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনায় ছাত্রলীগ অনেকের বাহবাও কুড়িয়ে নিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গিনেজের প্রতিনিধিরাও ঢাকার পথে উড়াল দিয়েছেন সবকিছুর সত্যতা যাচাই করতে।

৪২১৮ পঠিত ... ১৯:৫৯, এপ্রিল ১১, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top