সার্ফ এক্সেলের উপর ক্ষোভ মাইক্রোসফট এক্সেলের রেটিং কমিয়ে ঝাড়লো ভারতীয়রা

২৫৭৪ পঠিত ... ১৭:১৮, মার্চ ১৩, ২০১৯

‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত এক প্রবাদ। একজনের দোষ অন্যজনের উপর চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা যে আমাদের চারপাশে নিত্যদিনের ব্যাপার সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, যেটার বর্ণনায় এই প্রবাদটিও ঠিকমত ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এই বেলায় উদোর (সার্ফ এক্সেল) দোষটাও স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না, আবার উদোর পাশাপাশি বুধোও (মাইক্রোসফট এক্সেল) শিকার হচ্ছে ‘শাস্তির’।

সম্প্রতি ইউনিলিভারের জনপ্রিয় ডিটারজেন্ট সার্ফ এক্সেলের চমৎকার একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ভারতে। বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, একটা ছোট-সুন্দর গলিতে হোলি উৎসবে মাঝ দিয়ে একটি বাচ্চা মেয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে আর দু পাশের বারান্দা থেকে সবাই রঙ ছুড়ে মারছে। অবশেষে সবার রঙ শেষ হলে দেখা যায় মেয়েটির ইশারায় একটি সফেদ টুপি-পাঞ্জাবি পরা বাচ্চা ছেলে বের হয়েছে। মেয়েটি তাকে সাইকেলে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যায়। সবার রঙ শেষ হয়ে যাওয়ায়, ছেলেটিকে (বিজ্ঞাপনে যাকে মুসলিম হিসেবে বোঝানো হয়েছে) কেউ রঙ মারতে পারেনি। এভাবেই বিজ্ঞাপন শেষ হয় আর হিন্দিতে সার্ফ এক্সেলের জনপ্রিয় স্লোগান ‘দাগ আচ্ছে হ্যায়!’ ভেসে ওঠে পর্দায়।

হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতি প্রকাশক এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের জনগণ। আবার মুদ্রার উল্টো পিঠে এই বিজ্ঞাপনকে একেবারেই পছন্দ করতে পারেনি সে দেশের প্রতিক্রিয়াশীল গোঁড়া হিন্দুদের একটা অংশ। তাদের দাবি বিজ্ঞাপনটি 'লাভ জিহাদ' বিষয়টিকে উৎসাহ দিয়েছে। কোন মুসলিম ছেলে যদি কোন হিন্দু (কিংবা অন্য ধর্মালম্বী) মেয়ের সাথে প্রেমের অভিনয় করে তাকে ধর্মান্তরিত করে যখন বিয়ে করে কিংবা জোর করে ধর্মান্তরিত করে, সেই কথিত প্রচেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে 'লাভ জিহাদ'। ভারতে এমন কিছু ঘটনার নমুনা থাকলেও ভারতীয় জনতা পার্টি 'লাভ জিহাদ' বিষয়টিকে পুঁজি করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে উস্কে দিচ্ছে, এমনও অভিযোগও আছে ভারতের প্রগতিশীল মানুষদের। 

কোন কিছু অপছন্দ হলে 'ক্ষোভ' প্রকাশের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নেয়াই হাল জমানার নিয়ম। বাংলাদেশিদের মতো ভারতীয়রাও নিশ্চয়ই এর ব্যতিক্রম নয়। এর পাশাপাশি তাদের একটা অংশ খুঁজে বের করেছে মাইক্রোসফট এক্সেলকে এবং গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে মাইক্রোসফট এক্সেলের অ্যাপে রেটিং দিয়ে এসেছে ওয়ান স্টার। এই অংশের ধারণা, নিশ্চয়ই মাইক্রোসফট এক্সেল এবং সার্ফ এক্সেল একই কোম্পানির বিষয়।

প্লে স্টোরে মাইক্রোসফট এক্সেলের অ্যাপের রিভিউ সেকশনে গিয়ে এক তারকার পাশাপাশি দেখা গেছে বেশ কিছু কমেন্টও। এসব মন্তব্যে মাইক্রোসফট এক্সেলের উদ্দেশে কেউ বলছেন ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে পাশের দেশ পাকিস্তানে চলে যেতে। কারো কারো ধারণা, এটি একটি জাতীয়তাবাদ বিরোধী অ্যাপ। কোন প্রকৃত ভারতীয়ের উচিত না এটি ব্যবহার করা। আবার কেউ কেউ চলে যাচ্ছেন আরও দূরে। মাইক্রোসফট এবং গুগলকে এক প্রতিষ্ঠান ভেবে তারা গুগলের ভারতীয় সিইও সুন্দর পিচাইকে একরকম বয়কটের দাবি তুলেছেন।

আবার রিভিউ সেকশনে অন্যদের নির্বুদ্ধিতা নিয়ে রসিকতা করতেও দেখা গেছে অনেক ভারতীয়কে। পুরো ব্যাপারটি বুঝেই একজন এক স্টার দিয়ে রিভিউতে লিখেছেন, ‘আমি জানি সার্ফ এক্সেলের সাথে তোমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু ভারতীয়দের নির্বুদ্ধিতা আমার জিনেও আছে। তাই আমি বিনা কারণে এক স্টার দিচ্ছি।’ এসব বলে তিনি আবার ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেও খোঁচা দিয়ে ‘জয় মোদী!’ বলেন। আবার এক পাকিস্তানিকেও দেখা যায় রসিকতা করে প্রতিবেশীদের নির্বুদ্ধিতার সাথে ‘একাত্মতা’ প্রকাশ করে ওয়ান স্টার দিতে।

অবশ্য ভারতে এমন ঘটনা নতুন না। এর আগে ভারতীয়রা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটের সাথে অনলাইন শপিং সাইট স্ন্যাপডিলকে গুলিয়ে ফেলেছিল। ‘স্ন্যাপচ্যাট শুধুমাত্র ধনীদের জন্য। ভারত বা স্পেনের মতো গরীব দেশের জন্য স্ন্যাপচ্যাট না।’ এমন একটি মন্তব্য স্ন্যাপচ্যাটের সিইও-র নামে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল ইন্টারনেটে। স্ন্যাপচ্যাটের সিইও এমন কিছু বলেছেন, তার কোন শক্ত প্রমাণ না পাওয়া গেলেও ভারতে স্ন্যাপচ্যাট বয়কটের ধুম পড়ে যায়। আবার অনেকেই স্ন্যাপচ্যাটের সাথে মিলিয়ে ফেলে ই-কমার্স অ্যাপ স্ন্যাপডিলকেও আনইনস্টল করা শুরু করেছিলেন।

২৫৭৪ পঠিত ... ১৭:১৮, মার্চ ১৩, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top