বিশ্বজুড়ে নেতাদের 'রাজনৈতিক অভিনয়' কিংবা পলিটিকাল স্টান্ট

৩১৮২ পঠিত ... ২০:০৬, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

অভিনেতারা যেমন রাজনীতিতে নামেন, রাজনীতিবিদদেরও তেমনি নানান কারণে প্রায়ই অভিনয় করতে হয়। সেই 'কারণ' ইমেজ পরিষ্কার করা হোক কিংবা জনপ্রিয়তা ধরে রাখা, যুগ যুগ ধরে সারা বিশ্বেই এই অভিনয় পরিচিত 'পলিটিকাল স্টান্ট' হিসেবে, এবং তা রাজনীতিরই অংশ বটে। চলুন দেখে নিই রাজনীতির মঞ্চে প্রভাবশালী কিছু নেতার এমনই কিছু অভিনয় কিংবা পলিটিকাল স্টান্টের চিত্র! 

 

১# জনদরদ যখন অন্য লেভেলে!

নোয়াখালী ৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও রাজনীতির বাইরের কারণে শিরোনামে এসেছেন। তার নির্বাচনী এলাকার অর্ধেকই চরাঞ্চল যেখানে সুপেয় পানির বেশ অভাব। আর চরাঞ্চলে মানুষের সুপেয় পানির অভাব দূর করতে সরকারি উদ্যোগেই বিভিন্ন সময় টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়। নোয়াখালী ৪ আসনে টিউবওয়েল বিতরণে একরামুল করিম চৌধুরীর একটি স্টান্টের গল্প লোকেমুখে প্রচলিত আছে।

একবার চরের একটি গ্রামে নলকূপ বসানোর কার্যক্রম চলছিল। স্বাভাবিক নিয়মেই এদিক সেদিক টাকা পয়সা চলে যায়। এসবের পরও কিছু বাড়িতে টিউবওয়েল বসানো হয়। কিন্তু একটি বাড়িতে প্ল্যান করেই টিউবওয়েল বসানো হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাক করে মোটর সাইকেলে চেপে দলবল নিয়ে সেদিন ঐ এলাকায় গেলেন সাংসদ। একেবারে ঐ বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলেন। গিয়েই বাড়ির বয়োবৃদ্ধ মহিলার কাছে পানি চাইলেন। ভদ্রমহিলা পানি এনে দিলে তিনি তা খেয়ে বললেন, খালা, এটা তো ঠাণ্ডা পানি না। টিউবওয়েলের পানি আনেন।

বৃদ্ধা জানান, তার বাড়িতে টিউবওয়েল নেই। পাশের বাড়ি থেকে এনে দিতে হবে।

শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন একরামুল করিম চৌধুরী। তার এলাকায় একটা বাড়িতে টিউবওয়েল নেই, এই দুঃখ তিনি কোথায় রাখবেন! রেগেমেগে ফোন করে সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে আনলেন।

এরপরই শুরু হলো কর্মচাঞ্চল্য। সাংসদের উপস্থিতিতেই ঐ বাড়িতে বসানো হলো টিউবওয়েল। সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল ঘটনাটি। সফলভবে ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে পারলেন এই নেতা।

 

২# ফটোবম্বার জাস্টিন ট্রুডো

বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই সম্ভবত থাকবেন কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মিষ্টভাষী সদাহাস্য এই ভদ্রলোককে পছন্দ না করার তেমন কোন কারণ মানুষের (বিশেষ করে কানাডার বাইরের মানুষের) নেই। তারপরেও এই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের নামেও 'অভিযোগ' আছে পাবলিসিটি স্টান্টের।

‘ফটোবোম্বার’ হিসেবে জাস্টিন ট্রুডোর খ্যাতি আছে। রাস্তাঘাটে, পার্কে এখানে সেখানে তিনি বিভিন্ন মানুষের ছবির ফ্রেমে ঢুকে পড়েন। কখনো কোন ফ্রেমে দেখা যায় তিনি জগিং করছেন, তো কখনো কোন গ্রুপ সেলফি তুলছে, তার পিছনেই তিনি। শুধু এসব ফ্রেমেই তিনি আসেন এমনটা না, তার ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফারও এসব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে কখনো ভুল করেন না। অনেকটা যেন, ব্যাপারটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা।

পাবলিসিটি স্টান্ট হোক আর যেটাই হোক, ব্যাপারটা ট্রুডোর জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছেই।

 

 

৩# কোকেন হাতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি!

জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ ওরফে সিনিয়র বুশ ছিলেন আমেরিকার ৪১তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট হবার কিছুদিন পরই তিনি বলে ওঠেন ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’। বলে রাখা ভালো তখন দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকায় উৎপন্ন কোকেনসহ বিভিন্ন মাদকের সবচাইতে বড় বাজার ছিল আমেরিকা। তখনো কোকেন-সম্রাট পাবলো এস্কোবার জীবিত।

তো হোয়াইট হাউজের ওভালে বসে মাদকের বিরুদ্ধে অল আউট যুদ্ধ ঘোষণার এক পর্যায়ে সিনিয়র বুশ এক প্যাকেট ‘ক্র্যাক কোকেন’ হাতে নিয়ে তা ক্যামেরায় দেখান। তিনি জানান ক্যাপিটলের কাছ থেকেই এটি উদ্ধার করা হয়েছে, মাদকের প্রকোপ কত ভয়ানক তা তিনি বলেন।

পরে জানা যায়, শুধুমাত্র লাইভ টিভিতে দেখানোর জন্য প্রেসিডেন্টের হাতে যেন তাজা কোকেন তুলে দেওয়া যায়, সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা অভিযান করেন। এমন এক জায়গায় 'অভিযান' পরিচালনা করা হয়, যেখানে তারা কখনোই অভিযান চালাননি। সে সময় আমেরিকান জনগণ অবশ্য বেশ পছন্দ করেছিল পুরো ব্যাপারটি।

 

 

৪# ‘ফুকুশিমার পানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, এই দেখুন আমি খাচ্ছি!’

২০১১ সালের ১১ মার্চ এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও তাতে সৃষ্ট সুনামিতে জাপানের পূর্ব উপকূল ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আর এমনিতেই বড় এই দুর্যোগ আরো ভয়াবহ রূপ নেয় ফুকুশিমা নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি চুল্লি বিস্ফোরিত হলে। জাপানের ইতিহাসে সবচাইতে বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনার ফলে ফুকুশিমা প্রদেশ বেশ বড় তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে পড়ে।

পানিতে অবস্থিত তেজস্ক্রিয়তা সরাতে জাপান সরকার কাজ করতে থাকে। কিন্তু জনগণ ও সংবাদমাধ্যম ক্রমাগত সমালোচনা করে যায় যে, সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট না। তখন ২০১১ সালেই ফুকুশিমার এক পার্লামেন্ট মেম্বার ইয়াসুহিরো সোনোদা সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ফুকুশিমার পানি পান করলেন। উদ্দেশ্য ছিল এই পানিকে নিরাপদ এবং তেজস্ক্রিয়তামুক্ত প্রমাণ করা।

 

 

 

৫# স্বেচ্ছায় বাঘের গুহায় প্রবেশ!

সবার জন্য যে পাবলিসিটি স্টান্ট জনপ্রিয়তা নিয়ে আসবে তা কিন্তু না। কখনো কখনো রাজনৈতিক নেতাদের স্টান্ট ভয়াবহ ব্যাকফায়ার করতে পারে। যার সবচেয়ে বড় উদাহারণ সম্ভবত রাহুল গান্ধী। রাজিব গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী দম্পতির সন্তান রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসলেও নানাবিধ সমালোচনায় সবসময়ই ঘিরে রেখেছে তাকে। সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়াতেও তার আগ্রহ দেখা যায়নি কখনো। ২০১৪ সালে যখন সমালোচনা একেবারে তুঙ্গে তখন ভাবমূর্তি সংস্কারে ‘প্রিন্সের’ জন্য কংগ্রেস বেছে নেয় এক অভিনব পন্থা।

সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে একেবারেই অপটু রাহুল গান্ধীর একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। বেছে নেওয়া হয় রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনায় মুখর সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে। ইন্টারভিউতে রাহুল গান্ধীকে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করে জর্জরিত করে তোলেন অর্ণব গোস্বামী। সাক্ষাৎকার প্রচারিত হলে সেটি চলে আসে পুরো ভারতের আলোচনার শীর্ষে। কোথায় স্বেচ্ছায় বাঘের গুহায় যাবার সাহসিকতার জন্য প্রশংসা পাবেন, উল্টো ভারতবাসী মেতে উঠে রাহুলের সমালোচনায়। চলতে থাকে রসিকতা। কয়েক দিনেই ইন্টারভিউটি নিয়ে টুইটের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় আড়াই লক্ষ। টুইটার ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসে শীর্ষে।  

 

 

৬# সাইক্লিস্ট এরশাদ

পৃথিবীর ইতিহাসের সকল স্বৈরশাসক আর একনায়কের যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে, যাচ্ছে এবং যাবে, তা হলো পাবলিসিটি স্টান্ট। বাংলাদেশের স্বৈরশাসক এবং রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। আশির দশক থেকেই বিভিন্ন কারণে নিয়মিত খবরে আসা এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে নানারকম স্টান্ট করেছেন। ১৯৮৮ ভয়াবহ বন্যার সময় ‘তোমাদের পাশে এসে বিপদের সাথী হতে’ নামের একটি গানের ভিডিওতে এরশাদকে দেখা গিয়েছিল জনতার মাঝে ঘুরে ঘুরে সকলের 'কষ্টের সাথী' হতে। পানি ভেঙে হাঁটা, গরীব-দুঃখী মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরা, ত্রাণ বিতরণ এবং তাকে পেয়ে জনগণের উচ্ছ্বাস প্রকাশ; এসবই ছিল মিউজিক ভিডিওটিতে। সে সময় বিটিভিতে সারাদিনই এই ভিডিও প্রচারিত হতো।

এরশাদকে বিভিন্ন সময় দেখা যেত সাইকেলে চড়ে অফিস যাচ্ছেন। সাথে অবশ্যই দেহরক্ষী থাকতেন। তবুও এত জাঁদরেল রাষ্ট্রপতি সাইকেলে করে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো অফিসে যাচ্ছেন, এই দৃশ্য দেখাটাও তো কম সুখের না।

জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতিকেও ব্যবহার করতেন তিনি। জানা যায়, প্রায়শই তিনি শুক্রবারের জুম্মার নামায পড়ার জন্য বেছে নিতেন ভিন্ন ভিন্ন মসজিদ। কথিত আছে, তিনি সে সব মসজিদে গিয়ে বলতেন যে আগের রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেছেন এই মসজিদকে। তাই বিধাতার ইচ্ছাপূরণেই তিনি এসেছেন এই মসজিদে।

 

 


৭# রাষ্ট্রপতি যখন শ্রমিক

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও পিছিয়ে ছিলেন না পাবলিসিটি স্টান্টের দিক দিয়ে। খুব বেশিদিন ক্ষমতায় না থাকতে পারলেও, ঐ কিছুদিনেই তিনি দুর্দান্ত কিছু স্টান্ট করে রেখে যান। যা পরবর্তীতে যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই বিটিভির টপচার্টে উঠে এসেছে। 

জিয়াউর রহমান কাটতেন খাল। এতে কোন কুমির না আসলেও, জনপ্রিয়তা ঠিকই এসেছিল। প্রায়ই তাকে দেখা যেত এদিক সেদিক চলে গেছেন খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সাধারণ গ্রামবাসীর পাশেই তিনি কোদাল হাতে নেমে পড়তেন খাল কাটতে। রাষ্ট্রপতির খাল কাটার ভিডিও দেখলে তাতে অসম্ভব জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।

অনেকেরই কৌতুহল জাগে, এত খাল কেটেও দেশের বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি কেন হয়নি? এবং এসব খাল এখন কোথায়? পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি খাল কাটতে আসছেন এমন খবরে এলাকার লোকজন জড়ো হতো। ক্যামেরায় পর্যাপ্ত মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেন দলীয় কর্মীরা। বাকি সময় তথৈবচ। 

এছাড়াও জিয়াউর রহমান নিজেকে জনতার একজন বলে দাবি করতেন। তার শাসনামলে 'বিচিত্রা'য় প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন 'জনগণ যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি।'

 


৮# লোকাল বাসের ভিআইপি প্যাসেঞ্জার

বাংলাদেশের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পর্দায় তার সুঅভিনয় দিয়ে মন জয় করেছেন সবার। কিন্তু রাজনীতিতেও জনগণের মন জয় করতে হয়। সে উদ্দেশ্যে কখনো কখনো অভিনয়ের আশ্রয়ও হয়তো নিতে হয়। ২০১৮ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় তিনি একদিন অফিস শেষে সচিবালয় থেকে বাসে চড়ে তার বাসা গুলশানে যাচ্ছেন। এই ঘটনা নিয়ে তখন সব সংবাদমাধ্যমেই খবর প্রকাশিত হয়। বাসে প্রতিমন্ত্রী বসে আছেন, এমন ছবিও বেশ ভাইরাল হয় ফেসবুকে। এখন থেকে বাসে চড়েই অফিসে যাওয়া আসা করবেন, এমন কথাও বলেছিলেন তিনি। যথেষ্ট প্রশংসাও কুড়িয়ে নেন তিনি। যদিও এরপর আর কখনো তারানা হালিমের বাসে চড়ার খবর পাওয়া যায়নি। 

 

৯# আমি তোমাদেরই একজন!

বিরোধী দলীয় নেতাদের মন্তব্যের শক্ত জবাব দেওয়ায় সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদের এমনিতেই যথেষ্ট খ্যাতি আছে। তারপরেও তাকে দেখা গিয়েছিল এমন কিছু করতে যা তার নিয়মিত কাজ নয়। ২০১৭ সালের ১৮ জুন প্রকাশিত খবরে দেখা যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি রাস্তা মেরামতের কাজে তিনি স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙি পরে একেবারে সাধারণ শ্রমিকের মতই মাটি কাটার কাজে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। কেটে রাখা মাটি তিনি মাথায় নিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, এমন দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা মেরামতের এই কার্যক্রমে আরও অনেক আওয়ামী নেতাকর্মী অংশ নেন। স্বেচ্ছাশ্রমের পর বিবর্ণ হয়ে যাওয়া পোশাকেই তিনি সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেন।

 

১০# হেলমেট না পরায় কাল!

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তরুণদের মাঝে এমনিতেই যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাকেও কখনো কখনো দেখা গেছে মোটর সাইকেলে করে সাধারণ বাইক আরোহীর মতো করে অফিস যাচ্ছেন। গত ৮ জানুয়ারি নতুন মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম অফিস যাবার দিন তিনি বেছে নেন অভিনব পন্থা। মোটর সাইকেলের আরোহী হয়ে তিনি বছরের প্রথম অফিস যাত্রা সম্পন্ন করেন। সে ছবি ফেসবুকেও প্রকাশ করেন তিনি। তবে চালকের পেছনে বসলেও তার মাথায় হেলমেট ছিল না। একজন সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী হেলমেট না পরে মোটর সাইকেলে চড়ছেন, এমন ছবিতে সাধারণ ফেসবুকবাসীর প্রতিক্রিয়াও খুব একটা সুবিধার ছিল না। সমালোচনার মুখে হেলমেট পরিহিত আরও একটি ছবি আপলোড করেন প্রতিমন্ত্রী পলক। তবে এর আগেও একাধিকবার হেলমেটবিহীন অবস্থায় মোটর সাইকেলে চড়তে দেখা গিয়েছিল তাকে।

 

১১# আমাদের ‘ফাটাকেষ্ট’

সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও কখনো কখনো নেমে আসেন জনতার কাতারে। রেলমন্ত্রী থাকার সময় তিনি হুটহাট ঝটিকা সফরে চলে যেতেন দুর্নীতি হাতেনাতে ধরতে। ক্যামেরার সামনেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মৌখিক ও কখনো হালকা শারীরিক শায়েস্তাও করেছেন বিভিন্ন সময়। ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন পরিদর্শনের সময় ট্রেনের এক কর্মচারীকে শাস্তি হিসেবে চড় মারেন তিনি। ঐ কর্মীর বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা দাবি করা।

এছাড়াও কখনো ওবায়দুল কাদের নিজেই নেমে এসেছেন ট্রাফিক পুলিশের সাথে রাস্তায়। কোন কোন হেলমেটহীন বাইক আরোহীর সৌভাগ্য হয়েছিল মন্ত্রীর কাছ থেকে উপদেশ পাওয়ার। ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার প্রটোকল ভেঙে বেড়িয়ে এসে সাধারণ মানুষের সাথে একই সাথে বাসে চড়েছেন।

অবশ্য তার জীবনের নানান মুহূর্তের মতো লোকাল বাসে চড়ার মুহূর্তও ফটোসেশনের মাধ্যমে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মোটর সাইকেলেও চড়তে দেখা গেছে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে। অবশ্য তখন তার মাথায় হেলমেট ছিল না।

৩১৮২ পঠিত ... ২০:০৬, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top