গাজা পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে : ঘূর্ণিঝড় গাজার ভয়াবহতা সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ জুনায়েদ ইভান

১৬১৩ পঠিত ... ১৭:৫৩, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

ঘূর্ণিঝড় তিতলির পর আসছে আরো ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় গাজা। কি হবে এই ঘূর্ণিঝড়ে? তবে কি এবার পৃথিবীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে? এসব প্রশ্ন নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম হাওয়া-বাতাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রদক্ষিণ-ধর্ম গবেষক, তরুণ প্রজন্মে জনপ্রিয় আবহাওয়াবিদ জুনায়েদ ইভানের কাছে।

জুনায়েদ ইভানের বাড়ির সামনে আসতেই আময়াদের মাথাটা ঘুরে উঠলো। নাকে এসে লাগলো অন্যরকম এক ঘ্রাণ। কি ফুলের ঘ্রাণ হতে পারে এটা, এরকম ভাবতে ভাবতে আমরা কলিংবেল এ চাপ দিলাম। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও কেউ দরজা খুললোনা। আমরা হতাশ হয়ে ফিরে যাবো এমন সময় দরজার খুললেন স্বয়ং ইভান সাহেব।

লাল চোখে তিনি আমাদের বললেন, 'ভেতরে কেন? বাইরে আসুন!' আমরা থতমত খেয়ে ভেতরে ঢুকলাম।

গাজার ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি শুনে জুনায়েদ ইভানে চোখ দুটো চক চক করে উঠলো। তিনি চকচকে লাল চোখে বললেন, 'আপনারা বেডরুমে গিয়ে বসুন। আমি ড্রয়িং রুম থেকে একটু আবহাওয়াটা দেখেই আসছি।'

ড্রয়িং রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই ফুলের তীব্র ঘ্রাণটা আবারো পেলাম। মাথাটা ঘুরে উঠলো।

বেডরুমে ঢুকে বসতেই দেখলাম ড্রেসিং টেবিলের উপর বিভিন্ন সাইজের কাঁচি। কাঁচিগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। তখনই এলেন ইভান সাহেব। বললেন, 'কাঁচি কালেকশন আমার হবি। জ্যামাইকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, সবখানে গিয়েছি আর সেখানকার কাঁচি নিয়ে এসেছি।'

আমরা একটু হেসে ডিরেক্ট প্রশ্নে চলে গেলাম। বললাম, 'ঘূর্ণিঝড় গাজার ব্যাপারে শুনেছেন নিশ্চই? '

-হ্যাঁ। আমি তো অনেক আগেই গাজাকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে তুলে ধরেছি। তখন কেউ পাত্তা দেয়নি। অনেকেই হেসেছে।

-আপনি ঠিক কী বলেছিলেন?

-কেন? 'মাথার ভেতরে গাজা ঘোরে' বলেছিলাম। এই মাথা শব্দটা তোমাদের কাছে নিছকই মাথা। তবে আমার কাছে মাথা মানে গভীর সমুদ্র।

-তার মানে ঘূর্ণিঝড় গাজার ব্যাপারে আপনি আগে থেকেই জানতেন?

-(হো হো করে হেসে) আমার কাছে বাতাসে চেপে খবর আসে বৎস। ধোয়ার কুন্ডলিই আমার নিজস্ব সংবাদদাতা।

-এই ঘূর্ণিঝড় গাজার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় কি আছে?

-শোনো, পৃথিবী যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, গাজা তেমন পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। পৃথিবী সৃষ্টির আগে থেকেই চলছে এই ঘূর্ণন। প্রাকৃতিক এই নিয়মকে তোমরা কেন থামাতে চাও?

কথাটা বলেই জুনায়েদ ইভান একটা সিগারেট জ্বালালেন। মনে হল বিদেশি কোনো হোমমেড সিগারেট। সাথে সাথে সেই ফুলের ঘ্রাণটা আবার পেলাম আমরা। মাথাটা আবারো ঘুরে উঠলো। ঝিমঝিম একটা অবস্থায় প্রশ্ন করলাম, 'তাহলে উপকূল বাঁচানোর কোন উপায় কী নেই?'

ধোয়া রিং করে ছেড়ে ইভান বললেন, 'উপকূলে ১০০ নম্বর সুখের সংকেত দিয়ে দাও। গাজা কোনো বিপদ নয়। গাজা সুখের সমার্থক শব্দ।'

-কী বলছেন এসব? তবে কি ঘূর্ণিঝড় গাজায় সব ওলটপালট হয়ে যাবে?

-তোমরা অযথাই ভয় পাও। তিতলি নিয়ে এত তোলপাড় করলে। কিছুই তো হয়নি। গাজাটাকেও তার মতো আসতে দাও। মনের বিরুদ্ধে কবিতা লেখাও যায়না, গাজাকেও এড়ানো যায় না।

মুচকি হেসে জুনায়েদ ইভান আমাদের দিকে তার সিগারেট এগিয়ে দিলেন। বললেন, চলবে নাকি?

লৌকিকতা মেইনটেইন করার জন্য সেটা নিয়ে একটা টান দিতেই মনে হল পুরো ঘরটাই যেন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আছে। আমরা আর প্রশ্ন করার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

বললান, 'ইভান ভাই, আমরা তবে আসি। বাইরে যাওয়ার জানালাটা কোনদিকে?'

কোনোমতে বাইরে এসে আমরা একটা সিএনজি নিলাম। সিএনজিওয়ালার চেহারা মনে হল একদম নির্মলেন্দু গুণের মত। তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন, 'ভাইজান, আপনাগো চোখ এত্ত লাল ক্যান?'

 

[এটি একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার। নিছক হাস্যরসই এর একমাত্র উদ্দেশ্য, কাউকে হেয় করা নয়।]

১৬১৩ পঠিত ... ১৭:৫৩, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top