ঈদে যে সব বিকল্প উপায়ে বাড়ি ফিরতে পারেন

৬৯৫পঠিত ...১৫:২৭, জুন ২৪, ২০১৭

ঈদে বাড়ি যাওয়ার মৌসুম প্রায় শেষের পথে। এর মধ্যেও এমন অনেকে আছেন, যারা বাড়িতে ফিরতে পারেন নি। কেউ বা টিকিট পান নি, কারো বা রাস্তার প্রচন্ড জ্যাম, হুড়োহুড়ি আর অমানুষিক ভিড় ভাট্টা ঠেলে বাড়ি ফেরার ‘এত তেল নাই’! তবে আপনি যদি আপনার তেল, মানে এনার্জি আর একটুখানি বাড়ান, কিছু বিকল্প উপায়ে আপনি বাড়ি ফিরতেই পারেন। নিজস্ব তেল খরচ করে সেই সব উপায় ভেবেছে eআরকি।

সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরুন

এ জন্য আপনাকে কমপক্ষে ১৫ রোজায় রওনা দিতে হবে। সাথে বিডি সাইক্লিস্টদেরকে নিতে পারেন। এতে করে তাদেরও সাইকেল চালানো হইলো, আপনার মধ্যে একতা কম্পিটিশন ফিলিং আসলো, কোম্পানিও পাইলেন, আর আপনারও বাড়ি আসা হয়ে গেলো! গাবতলী, কল্যাণপুর যেকোনো বাস স্ট্যান্ড থেকেই রওনা দিতে পারবেন। ইচ্ছা করলে নিজের বাসার সামনে থেকেও সাইকেল চালিয়ে যাত্রা শুরু করা যাবে। তবে যেহেতু রোজা প্রায় শেষ, ঈদও এসে গেছে, এখন শুরু করলে মনে হয় না এই ঈদে আপনি পৌঁছতে পারবেন। তবে হতাশ হবেন না, কোরবানি ঈদের জন্য এখনই রওয়ানা দিয়ে দিতে পারেন...

ঠেলাগাড়ি

এই পদ্ধতিতে বাড়ি ফিরতে হলে আপনাকে আরেকজন বন্ধুকে সাথে নিতে হবে। ঘটনা খুবই সামান্য। যখন আপনি বসে থাকবেন তখন আপনার বন্ধু ঠেলবে আর সে যখন বসবে আপনি ঠেলবেন। এ রকম ঠেলাঠেলি করতে করতে ঠিকই বাড়ি পৌছে যাবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম বা ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটের যাত্রী হলে বাসের আগে যে পৌঁছাবেন, এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ থাকতে পারেন। তবে হ্যাঁ, খেয়াল রাখবেন, আপনার বন্ধুর বাড়িও যেন আপনার বাড়ির এলাকায় হয়।

বাসের তলায়

বাসের ছাদে করে বাড়ি যাওয়া ইজ ঠু মাচ মেইনস্ট্রিম। এতে বিপদেরও আশংকা থাকে। আপনি যেতে পারেন বাসের তলায়। নিয়মিত হলিউডের মুভি দেখে থাকলে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল মনে হবে না। একটা দড়ি দিয়ে নিজেকে বাস এর তলায় ভালো ভাবে বেঁধে নিন। ব্যাস! শুরু হয়ে গেলো আপনার ঈদ জার্নি। তবে সাবধান, স্পিডব্রেকার ক্রস করার সময় পিঠটা একটু উচু করতে হবে...

ট্রেনের টয়লেটে

এই পদ্ধতিতে আপনাকে সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকেট কিনতে হবে না । আপনি দু মিনিট সময় নিয়ে একটি বেতের মোড়া অথবা প্লাস্টিকের এর টুল কিনে নিন। এবার টুল সহ পছন্দ মত ট্রেনের টয়লেটে ঢুকে পড়ুন। নিজের কেনা টুলে বসে চলে যান সুইট হোমে। টয়লেটের ভেতর বসে সিগারেট খেতে পারেন। এর ফলে কেউ আর ডিস্টার্ব করতে চাইবে না।

হয়ে যান বাসের হেলপার

এই পদ্ধতিতে বাড়ি যেতে হলে আপনাকে উক্ত বাসের হেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাকে বলুন আপনি তার কাজটাই বিনামূল্যে করে দিতে চান। তারপর হেলপার হিসেবে বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে বাড়ি চলে যান নিশ্চিন্তে! তবে মাঠে নামার আগে জাস্ট একবার হেলপারি ট্রেনিং নিয়ে নিলে ব্যাপারটা আপনার জন্য সহজ হবে।

মাইকেল ফেলপসের পিঠে

এ পদ্ধতি কিছুটা ব্যায়বহুল। এজন্য আপনাকে সোনা মিয়া খ্যাত সাঁতারু মাইকেল ফেলপসকে ভাড়া করতে হবে। তারপর তাকে নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে চলে যান। এবার ফেল্পস এর পিঠে উঠে শক্ত করে ধরে বসুন। খুবই অল্প সময়ে ফেলপস আপনাকে পৌছে দেবে আপনার বাড়ির পাশের নদীর তীরে।

বিয়ারিং এর গাড়ি

ছোট বেলায় বিয়ারিং দিয়ে গাড়ি বানিয়ে ঠেলাঠেলি খেলে নি এমন ‘নাইনটিজ কিড’ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনি তেমন একটা বিয়ারিং-এর গাড়ি বানিয়ে নিন। এবার দড়ি দিয়ে এক প্রান্ত আপনার গাড়ির সামনে বেঁধে আরেক প্রান্ত বাস এর পিছনে বাঁধুন। এবার বাসেরপিছু পিছু স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চলে যান সেই স্বপ্ন যাত্রায়! বাড়ির পথে..

প্যারাসুট সিস্টেম

একটু খরচ করে প্লেনের টিকেট কাটুন। এবার প্লেন আকাশে উড়লে প্যারাসুট নিয়ে প্লেন থেকে লাফ দিন। ভাগ্যে থাকলে আপনি অবশ্যই বাড়ির উঠোনে ল্যান্ডিং করবেন। ভাগ্য খারাপ থাকলে কোথাও না কোথাও তো ল্যান্ডিং করবেনই, না হয় আর কখনোই ল্যান্ডিং করবেন না... সেটা অবশ্য একটা রিস্ক থেকেই যাচ্ছে। তবে ঈদে বাড়ি ফিরতে হলে, রিস্ক তো লেনা হি পাড়তা হ্যায় বস...

ডিজাইন: সালমান সাকিব

৬৯৫পঠিত ...১৫:২৭, জুন ২৪, ২০১৭

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top