ফেসবুক থাকলে বাংলা সিনেমার ডায়লগগুলো যেভাবে পাল্টে যেত

৪৪৯৪পঠিত ...১৫:২৩, আগস্ট ১৯, ২০১৬


বিটিভি আমলে শুক্রবার বিকেল তিনটা কুড়ি মিনিট ছিল আমাদের শৈশবের সবচেয়ে আরাধ্য সময়। পিতৃপ্রহার উপেক্ষা করে ঐ সময়ে ছুটে যেতাম পাশের বাসায়, শাদা-কালো সিঙ্গার টিভিতে বাংলা সিনেমা দেখতে। প্রায় প্রতিটি সিনেমার গল্প থাকত একই। দেখার সময়ে বলে দেওয়া যেত কী দৃশ্যের পর কী দৃশ্য আসবে, কী দৃশ্যে কী সংলাপ থাকবে। তবুও উত্তেজনার কমতি ছিল না। সে আমলে মুঠোফোন বা ফেসবুক ছিল না। থাকলে কেমন হতো বাংলা সিনেমার কমন সংলাপগুলো—ভাবতেই গা-হাত-পা শিউরে ওঠে! তবুও চলুন একটু দেখে নেই :


সংলাপ ১

নায়িকার মা : এ কী, নদী! তোর জামা-কাপড় ছেঁড়া কেন? ছেলেটি কে? কথা বল, পোড়ামুখী, কথা বল!

নায়িকা : রাস্তায় গুণ্ডারা আমাকে আক্রমণ করেছিল, মা। উনি সময়মতো না এলে কী যে হতো! উনিই আমাকে গুণ্ডাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন।

নায়িকার মা : তোমাকে কী বলে যে ধন্যবাদ দেবো, বাবা! তোমার মতো সোনার টুকরা ছেলে যেন ঘরে-ঘরে জন্ম নেয়। কীভাবে যে তোমার এই ঋণ শোধ করব!

নায়ক : বলুন তো, আন্টি— আপনার মেয়েকে বাঁচাবার জন্য আমি কয়টি লাইক আশা করতে পারি? আপনাদের পরিবারের যারা ফেসবুকে আছেন; আমার বিগত ৫ বছরের সব পোস্টে লাইক দিয়ে দিন; ভালো-ভালো কমেন্ট করে দিন, আর পোস্টগুলো শেয়ার করে দিন; নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক-কমেন্ট অ্যাকটিভ থাকুন! এতেই ঋণ শোধ হয়ে যাবে।


সংলাপ ২

নায়ক : তালুকদার, আজ থেকে বিশ বছর আগে তুই আমার বাবাকে হত্যা করেছিলি, আমাকে করেছিলি এতিম, আমার মাকে করেছিলি বিধবা। আজ তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না!

ভিলেন : আমাকে ছেড়ে দে, বিপ্লব, আমাকে ছেড়ে দে। তোকে আমি আমার সব সম্পত্তি লিখে দেবো, সব!

নায়ক : দে, পারলে ফিরিয়ে দে আমার বাবার আদর, পারলে ফিরিয়ে দে আমার মায়ের লাল শাড়ি! তোকে ছেড়ে দিলে আমার বাবার আত্মা কষ্ট পাবে।

ভিলেন : তাহলে কী চাস তুই?

নায়ক : তুই কী নামে আইডি চালাস, বল! আজ আমি তোকে নৃশংসভাবে ব্লক করব, নৃশংসভাবে!


সংলাপ ৩

নায়িকার বাবা : আকাশ নামের ঐ ছোটলোকের বাচ্চাটার কাছে তুই আর কোনো দিন যেতে পারবি না! আজ থেকে তুই এই ঘরে বন্দি থাকবি!

নায়িকা : দরজা খোলো, বাবা, দরজা খোলো। তুমি কেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি আকাশকে বৃষ্টির বুক থেকে আলাদা করতে পারবে না। তুমি দরজা না খুললে আমি তোমাকে পোক করব, পোক করব, পোক করব!


সংলাপ ৪

ভিলেন : কলেজে সবার সামনে সেদিন তুই আমাকে চড় মেরেছিলি! আজ তোকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে, নূপুর? উম-উম-উম্মাহ!

নায়িকা : বাবলা, আমার নয়ন জানতে পারলে তোদের সব কটাকে ও মেরে ফেলবে, সব কটাকে!

ভিলেন : জানার আগেই তোর নয়নকে আমরা শেষ করে ফেলব! এখন আমি তোকে লুটেপুটে খাব, আর আমার সাথে 'ইন আ রিলেশনশিপ' দিতে তোকে বাধ্য করব, হুহাহা!

নায়িকা : শয়তান, তুই আমার দেহ পাবি, মন পাবি, মজা পাবি, তবু পাসওয়ার্ড পাবি না!


সংলাপ ৫

মা : আমার ছেলে কোথায়? তোমরা ওকে আটকে রেখেছ কেন? ইন্সপেক্টর সাহেব, ওকে ছেড়ে দিন। আমি ওকে পেটে ধরেছি। আমার মন বলছে— ও খুন করেনি। সব ষড়যন্ত্র!

পুলিশ : যা বলার, আদালতে গিয়ে বলবেন। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে যে, আপনার ছেলে খুন করেনি?

মা : আছে, ইন্সপেক্টর সাহেব, আছে। খুন হয়েছে দশটায়। আর আমার বিজয় ঠিক ঐ সময়ে ওর ভালোবাসার মানুষটির সাথে 'ওয়াও, লাইফ ইজ বিউটিফুল' লিখে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বসে চেকইন দিয়েছিল। এই নিন ওর সেই পোস্টের লিংক!


সংলাপ ৬

মা : দূর হয়ে যা! বেরিয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে! তোর ঐ পাপিষ্ঠ মুখ আমি আর দেখতে চাই না! এখান থেকে চলে না গেলে তুই আমার মরামুখ দেখবি!

নায়িকা : মা, কেন তুমি ভাইয়াকে এভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছ? কী অপরাধ ভাইয়ার?

মা : সব অপরাধ আমার। দশ মাস দশ দিন ওকে পেটে ধরেছিলাম— এই আমার অপরাধ।

নায়িকা : কী করেছে ভাইয়া— চাঁদাবাজি, স্মাগলিং, খুন? মা, তুমি কোথাও ভুল করছ না তো?

মা : ও রে, ঐ হারামজাদা আমাকে ক্যানসার-রোগী সাজিয়ে আমার ছবি-সহ ভুয়া পোস্ট দিয়েছে, ভুয়া প্রেসক্রিপশন আপলোড করেছে, মায়ের চিকিৎসার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে! যখনই লোকে আমাকে দেখতে আসতে চেয়েছে, ও বলেছে— মা চিকিৎসার জন্য ভারতে আছে!


সংলাপ ৭

নায়ক : না, বাবা, না। তুমি মরতে পারো না। বলো, বাবা— কে তোমাকে ছুরি মেরেছে! ওর জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলব!

বাবা : ও রে, আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে রে! মরার আগে একটা কথা বলে যাই, বাবা— আমি তোকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছি ঠিকই, কিন্তু আমি তোর বাবা নই, আ।

নায়ক : এ হতে পারে না! বলো, বাবা— তুমি যা বলছ, সব মিথ্যে; তুমিই আমার বাবা।

বাবা : মরার আগে কেউ মিথ্যা বলে না রে, বাবা। আ!

নায়ক : কে! তাহলে কে আমার বাবা? আর কেনই বা এই বিশ বছর আমাকে কিছু বলোনি?

বাবা : ঐ কুসুমপুরের জমিদার বাহাদুর খাঁ তোর বাবা, তোর মা ছিল জমিদারবাড়ির দাসী, আ। আজ থেকে বিশ বছর আগে তোর জন্মের পর তোর মাকে ঐ জমিদার বনবাসে পাঠায়, আর তোকে নদীতে ফেলে দেয়। তোর মা গোপনে তোর মায়ের আর জমিদারের চ্যাটিংয়ের এই স্ক্রিন শটটা আমাকে দিয়েছিল। তুই এখনই জমিদারবাড়িতে যা, আর এই স্ক্রিন শট দেখিয়ে প্রমাণ করে দে— তুইই জমিদারের সন্তান। আআআআআ...ক!


সংলাপ ৮

প্রথম নায়ক : এ তুই কী করলি রে, বিজয়! আমাকে বাঁচাবার জন্য ডনের রিভলবারের গুলি তুই বুক পেতে নিলি! কে কোথায় আছো? ওকে হাসপাতালে নিতে হবে।

দ্বিতীয় নায়ক : আর হাসপাতালে নিতে হবে না রে! তোদের পবিত্র ভালোবাসাকে ঐ ডনের হাত থেকে বাঁচাতে আমি জীবন দিলাম। আশিক, তোর হাতটা দে। প্রিয়াকে তোর হাতে তুলে দেই; এরপর আমি মরেও শান্তি পাব রে, আ।

প্রথম নায়ক : রেস্ট ইন পিস, বিজয়; রেস্ট ইন পিস! তোর খুনের প্রতিবাদে এখনই ইভেন্ট খুলব।

নায়িকা : অ্যাই বিজয়, তুমি একটু পরে মরো তো প্লিজ। তুমি জীবিত থাকাবস্থায় তিন জনে একটা সেলফি তুলে রাখব! মুখটা একটু বাঁকা করো তো।

৪৪৯৪পঠিত ...১৫:২৩, আগস্ট ১৯, ২০১৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    evolution22
    
    Top