রবীন্দ্রনাথ যদি ফেসবুকে সোনার তরী কবিতাটা পোস্ট করতেন, তা হলে কী ধরনের কমেন্ট আসত

৫৬৫৫০পঠিত ...১৭:৩৪, আগস্ট ০৬, ২০১৬


গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।/কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।/রাশি রাশি ভারা ভারা/ধান কাটা হল সারা,/ভরা নদী ক্ষুরধারা/খরপরশা।/কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।/একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,/চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।/...ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-- ছোটো সে তরী/আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।...

 

ফেসবুক ব্যবহারে মগ্ন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি ফেসবুকে তার সোনার তরী কবিতাটি পোস্ট করতেন, তা হলে কী ধরনের কমেন্ট তাতে আসত; একটু ভাবা যাক :


১. ইয়াহু, ফার্স্ট কমেন্ট আমার!

২. আপনি কি ঘরে বসে পাঁচ মিনিটে পাঁচ হাজার টাকা আয় করতে চান? তা হলে এই পেজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

৩. বেশ কিছুদিন ধরেই আপনার পোস্ট ফলো করছি। যদিও আপনার লেখায় সমসাময়িক অন্যান্য কবিদের কবিতার একটা প্রভাব আছে, তবু আপনাকে দিয়ে হবে; চালিয়ে যান। পাশে আছি। শুভ কামনা রেখে গেলাম, ভাই।

৪. কূলে একলা-একলা বইসা রইছেন ক্যা, ভাই? জিএফ নাই? ব্যাপার না, সবার সব থাকে না! মুখে দেড় হাত লম্বা দাড়ি রাইখা ভড়ং ধইরা থাকলে জিএফ ক্যা, কাউয়াও জুটবে না। কবিতা লিখলেই দাড়ি রাইখা, পাঞ্জাবি পইরা ভড়ং ধরা লাগবে; এমন কোনো কথা আছে? শালা গাঞ্জাখোর! ফার্দার তোরে শিলাইদহে পাইলে থাপড়ামু!

৫. বাংলা সাহিত্য আরেকটা উজ্জ্বল নক্ষত্র পেতে যাচ্ছে। আপনাকে দিয়েই হবে। বন্ধুতালিকায় যোগ করলে ভালো লাগবে।

৬. এই 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' একটা ফেইক আইডি। হালায় হিন্দু নামে নিক খুইলা জামাতি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেসে! ধান নিয়া কপিতা লেখে! নির্বাচনরে সামনে রাইখা হালায় ধানের শিষের পক্ষে প্রচারণায় নামসে! খাড়া, তোর আইডি এক ঘণ্টার মধ্যে খাইয়া দিতেসি!

৭. এপিক, জাস্ট এপিক! হ্যাটস অফ টু ইউ, ম্যান! ক্যামনে পারেন!

৮. দিন-দিন আপনার ফ্যান হইয়া যাইতেসি, ব্রো! পুরা মাথা নষ্ট অবস্থা! কবে যে আপনার মতো করে লিখতে পারব! ফেসবুকে আপনিই সেরা।

৯. আজকালকার পোলাপান এইসব কী বালছাল লেখতেসে! আমি তো সেই ছোটবেলায়ই কত নাইস নাইস পোয়েম লিখসি, অবশ্য এখন আর পোয়েম লিখি না। এখন আমার এইজ সেভেন্টিন, তিন-চার বছর আগেই পোয়েম লেখা ছাইড়া দিছি।

১০. ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোট সে তরী;
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি। (y)(y)(y)
এইটুক জোস ছিল। কপি মারলাম।

১১. ১০০০তম লাইকটা আমি দিলাম! 

১২. যারা বলছেন যে, কবিতাটা ভালো হয়নি; তারা পারলে এ রকম দুটো পঙক্তি লিখে দেখান তো! যত্তসব! রবি দা, আপনি এসবে পাত্তা দেবেন না তো! এদেরকে আপনি ফ্রেন্ড লিস্টে রাখেন কেন? এই আবালগুলোকে আনফ্রেন্ড করে আমাকে অ্যাড করেন। আমি রেগুলার লাইকার।

১৩. দিন দিন তো নকলবাজ হয়ে যাচ্ছেন। গত বছর আমার বন্ধু মৃন্ময় মোতাহার ঠিক এই প্লটেরই একটা কবিতা লিখেছিলেন। মোতাহারের কবিতাটা মেরে দিতে লজ্জা লাগল না আপনার? আপনার মুখোশ উন্মোচিত করে দিচ্ছি এখনই!

১৪. তরী মানে তো নৌকা। আপনি নৌকা নিয়ে কবিতা লিখছেন! শেষ পর্যন্ত আপনি লিগের দালালি শুরু করলেন? ছিঃ ভাই, আপনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। আপনাকে নিরপেক্ষ ভেবেছিলাম। কবিদের রাজনীতিতে মানায় না। অবশ্য আপনি তো আবার ভিন্নমত সহ্য করতে পারেন না। কমেন্ট ডিলিট করে কাপুরুষের পরিচয় দেবেন না প্লিজ!

জাকারবার্গের আমন্ত্রণে ফেসবুক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন রবি ঠাকুর!
১৫. কেমন আছেন, ভাই? আজকে কুষ্টিয়া গেসিলেন? শাহজাদপুরে তো আপনারে পাইলাম না। আজকাল কই যে থাকেন! প্রেমে-ট্রেমে পড়সেন নাকি, মিয়া? ট্রিট দেন!

১৬. তরীতে ঠাঁই হয় না? তরীতে ঠাঁই হবেও না! শালা মালাউন, ভোট তো দিসো তরীতেই। তোর তরীর লোকজন পদ্মাসেতু, হলমার্ক, শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, রানা প্লাজার টাকা খাইয়া ভাগছে; তোর তরীর লোকজন এই তরীতে কইরাই শীতলক্ষায় সাতটা লাশ ভাসায়া দিছে। আর কয়টা বছর ওয়েট কর, তুইও পালাবার জায়গা পাবি না! তোদের একটা একটা ধরে-ধরে জবাই করা হবে, জবাই কইরা তরীতে কইরাই গঙ্গায় ভাসায়া দেয়া হবে, মালাউনের বাচ্চা!

১৭. কবিদের এই এক সমস্যা! লুলামি ছাড়া তাগো চলে না! ভাই, সোনা ছাড়া কিছু বোঝেন না? চব্বিশটা ঘণ্টা সোনা ধইরা টানাটানি না করলে হয় না, ভাই?

১৮. দুই লাইন কবিতা লেইখা তুই নিজেরে কী ভাবা শুরু করছোস? তুই কি নিজেরে মাইকেল মধুসূদন ভাবোস? ছয় মিনিট ধইরা আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেন্ডিং রাকছোস তুই! তোরে ব্লকাইলাম, আবালের আবাল!

১৯. একই কবিতায় ধান এবং নৌকা! বাহ্, আপনি তো দারুণ সুশীল! বড় হয়ে আপনিই হবেন দ্বিতীয় আসিফ নজরুল!

২০. শুনলাম আপনি নাকি নোবেল পদক পেয়েছেন। তো, দেশে যখন বন্যা হলো, তখন আপনি কই ছিলেন? মানুষ যখন বোমা হামলায় মরছে, তখন আপনি কই থাকেন? শিলাইদহে বসে বসে আপনি কার কী ছেঁড়েন? নোবেল ধুয়ে কি পানি খাচ্ছেন? এমন নোবল লরিয়েট লইয়া জাতি কী করিবে?

২১. ব্রো, এটা কার লেখা?

ফলাফল : রবীন্দ্রনাথ আশি বছরে যে পরিমাণ সাহিত্য রচনা করে গিয়ে মরেছেন, ফেসবুকযুগে জন্মালে এর আশি ভাগের এক ভাগ রচনা করেও মরতে পারতেন না।

৫৬৫৫০পঠিত ...১৭:৩৪, আগস্ট ০৬, ২০১৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য ( ২ )

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    Bikroy
    Bdjobs
    rokomari ad
    evolution22
    
    Top