ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় নিজের বন্ধুকে চিনে নেয়ার ১০ পদ্ধতি

২৪৫২ পঠিত ... ২০:৩৭, মার্চ ১২, ২০১৯

আজ ১২ মার্চ একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসিতে ডাকসুর ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া চলাকালীন সময়ে জনৈক ছাত্র অপর একজন ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করার পর অনুধাবন করে, তারা একে অপরের বন্ধু এবং একই পক্ষের সমর্থক। লাঠির বাড়ি দেয়ার জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাকে দেখা যায় বন্ধুকে নিজের বুকে টেনে নিতে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও দেখে মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও eআরকি বিশেষজ্ঞরা বেশ শঙ্কিত বোধ করেন। বাংলাদেশ শুধু নদীনালার দেশ নয়, লাঠি হাতে ধাওয়া পাল্টাওয়ারো দেশ। বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের মানুষেরা লাঠি হাতে নেমে পড়েন। ক্যাম্পাসেও নানা ইস্যুতে লাঠিচার্জের ঘটনা মোটেও বিরল নয়। তাই এমন লাঠিচার্জের সময় যেন একই পক্ষের বন্ধুর গায়ে লাঠি না পড়ে, এমন নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য গবেষণায় নামে eআরকি লাঠিয়াল দল। গবেষণালব্ধ ফলাফল eআরকি পাঠকদের জন্য দেয়া হলো এখানে।

 

১# জার্সির ব্যবহার

একই পক্ষের সমর্থকরা এক ধরনের জার্সি ব্যবহার করতে পারেন। জার্সি দেখে সহজেই বোঝা যাবে, কে পক্ষ দলের আর কে বিপক্ষ দলের। তবে যদি এমন দুই পক্ষের সংঘাত বাধে যাদের জার্সির রঙ বা ডিজাইনে মিল রয়েছে, তারা ফুটবলের হোম/এওয়ে পদ্ধতিতে জার্সি নির্বাচন করে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু করতে পারেন।

২# জামা খুলে নেয়া

বৃষ্টির সময় পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে যখন ভিন্ন ভিন্ন জার্সি পড়ার মতো অবস্থা থাকে না, তখন নিতে হয় বিকল্প পদ্ধতির আশ্রয়। তখন এক দল জামা পরে, আরেক দল জামা খুলে আদুল গায়ে খেলতে নামেন। এতে করে সহজেই দল চিনে নেয়া যায়। জার্সির সঙ্কট থাকলে বা ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করতে হলে এমন জামা খুলে নেয়ার সমঝোতা করলে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সহজেই এড়ানো যাবে।

 

৩# হেলমেট পরিধান

নির্দিষ্ট পক্ষের সমর্থকেরা মাথায় হেলমেট পরে থাকলেও তারা নিজেদের সহজেই চিনে নিতে পারবে। এতে করে উদোর পিন্ডি কিংবা লাঠি, কিছুই বুধোর ঘাড়ে পড়বে না।

 

৪# বিশেষ কোড ব্যবহার

মারামারির সময় লাঠি দিয়ে মারার আগে এক দলের সবাইকে একটা কোড বলতে হবে, মাইর খাওয়ার সময়ও একটা কোড বলতে হবে। সুতরাং কে মারছে আর কে মার খাচ্ছে তা কোড দিয়ে সনাক্ত করতে পারলেই কে বন্ধু আর কে প্রতিপক্ষ তা চিনে ফেলা যায়... 

 

৫# স্টার ওয়ার্স পদ্ধতি

জনপ্রিয় সিনেমা ‘স্টার ওয়ারস’এর লাইট সেবারের মতো লাঠিতে যদি ভিন্ন রঙের লাইটিং ব্যবহার করা হয়, তবে লাঠি নিয়ে ধাওয়ার সময় কোন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না।

 

৬# সবাইকে টাকা ধার দিয়ে রাখা

মানুষ মানুষকে ভুলে যায়, বন্ধুও বন্ধুকে ভুলে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবে পৃথিবীতে কোনো পাওনাদার তার টাকার কথা ভোলে না। নিজেকে বাঁচাতে আজই বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে রাখুন। মারামারির তুমুল ও হুলুস্থুল পর্যায়ে গেলেও বন্ধু আপনাকে ভুলে যাবে না।

 

৭# পতাকা নিয়ে

সবার লাঠির শীর্ষে যদি সমর্থিত সংগঠনের পতাকা বাঁধা থাকে, তবে আগেই বুঝে ফেলা যাবে নিজের দলের সমর্থক কে, আর প্রতিপক্ষ কে।

 

৮# একই চুলের কাট

মারামারির আগে একই গ্রুপের পোলাপান একই রকম চুলের কাট দিতে পারে। এতে খুব সহজেই নিজের বন্ধু চিনে ফেলা সম্ভব।

 

৯# অ্যাপ ব্যবহার

ফেসবুক ফ্রেন্ড আশেপাশে থাকলে ফেসবুকে যেমন 'your friend is nearby' দেখায়, তেমন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্ধু ৫ গজের ভেতরে আসলেই অ্যাপে দেখাবে youe friend is nearby', সুতরাং লাঠিপেটার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার সুযোগ থাকবে!

 

১০# মাইরের আগে জিজ্ঞেস করে নেয়া

কোনো উপায়ই যদি অ্যাপ্লাই করা সম্ভব না হয়, তবে প্রতিবার লাঠি দিয়ে মারার আগে জিজ্ঞেস করে নেয়া যেতে পারে, 'ভাই আপনি কি আমার সাইডে না ওদের সাইডে?'

২৪৫২ পঠিত ... ২০:৩৭, মার্চ ১২, ২০১৯

Top