রূপচর্চায় পোড়া মোবিল ব্যবহার করতেন মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা

৬৫২ পঠিত ... ০০:০৩, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

পরিবহন ধর্মঘটের সময় রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির চালক ও যাত্রীদের মুখে পোড়া মোবিল মাখিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। ব্যাপারটা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। তবে eআরকির প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, মুখে পোড়া মোবিল মাখা কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়। বরং রূপচর্চায় প্রাচীন যুগ থেকেই মুখে পোড়া মোবিল মাখার প্রচলন রয়েছে। প্রাচীন মিশরের রাণী অনিন্দ্য সুন্দরী ক্লিওপেট্রা নিজে রূপচর্চায় ব্যবহার করতেন পোড়া মোবিল। মিশরীয় নানান দেয়ালশিল্পে পাওয়া গেছে এই প্রমাণ।

প্রাচীন মিশরীয় দেয়ালচিত্র নিয়ে গবেষণা করে দেখা যায়, এর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে রাণী ক্লিওপেট্রার হাতে রয়েছে রূপচর্চার সামগ্রী। সেইসব ছবি ও দেয়ালচিত্র কেমিকাল ল্যাবে টেস্ট করে দেখা গেছে, ক্লিওপেট্রার হাতের বাটিতে থাকা মিশ্রণ কিছুই নয়, বরং পোড়া মোবিল। পিরামিড নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা অবসর সময়ে মোবিল পোড়ানোর মাধ্যমে রাণীর রূপচর্চার সামগ্রীর যোগান দিচ্ছেন, এমন কয়েকটি চিত্রও দেখা গেছে।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সুদূর মেসোপটেমিয়া থেকে খাঁটি পোড়া মোবিল সংগ্রহ করতে পেরে আনন্দিত ক্লিওপেট্রা

মিশরীয়দের প্রাচীন কিছু লিপি উদ্ধার করে পোড়া মোবিলের মাধ্যমে রূপচর্চা সামগ্রী উৎপাদনের রেসিপিও পাওয়া যায়। ক্লিওপেট্রা মুখে মাখার পাশাপাশি চুল ও ভ্রু কালো করতেও পোড়া মোবিল ব্যবহার করতেন, প্রাচীন লিপি ঘেটে এমন দলিলও পাওয়া গেছে।

ক্লিওপেট্রা চরিত্রে রূপদানকারী হলিউড অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের মেকাআপেও ব্যবহৃত হতো পোড়া মোবিলের নির্যাস।

স্ত্রীর জন্য পোড়া মোবিল কিনছেন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস।

শুধু প্রাচীন মিশরেই নয়, রূপচর্চা ও সাজসজ্জায় পোড়া মোবিলের ব্যবহার দেখা গেছে অন্যান্য বেশ কিছু সভ্যতার নিদর্শনে। গ্রীক সভ্যতার নানান শিল্পকর্মে রূপচর্চার উদ্দেশ্যে এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে পোড়া মোবিল ঢালার চিত্র দেখা গেছে। গ্রীক স্থাপত্যেও কালো রঙের ব্যবহার সে যুগে সাজসজ্জায় পোড়া মোবিল ব্যবহারের অনন্য নিদর্শন। 

এমনকি ভারতবর্ষে আর্য সভ্যতার শুরু থেকেই ছিল পোড়া মোবিলের ব্যবহার। নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, চোখে কাজল দেওয়ার কাজে এই অঞ্চলের মেয়েরা হাজার বছর ধরে পোড়া মোবিল ব্যবহার করেছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট যখন ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয় করেন, তখনই তিনি এক নারীর পোড়া মোবিল টানা চোখের প্রেমে পড়ে যান; এমনটাই ধারণা অনেক গবেষকের।  

(বাঁয়ে) রোমান সাম্রাজ্যে পোড়া মোবিল মাখা এক সিনেটর। (ডানে) নিজ ফ্যাক্টরির পোড়া মোবিল বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছে এক গ্রিক বিক্রেতা।

এছাড়া মেসোপটেমিয়ান সভ্যতা, রোমান সভ্যতা এবং পারস্য সভ্যতার নানান ছবিতেও পাওয়া গেছে পোড়া মোবিলের অস্তিত্ব। শিল্পকর্মে কালো রঙের বিকল্প হিসেবে যুগের পর যুগ ব্যবহৃত হয়েছে পোড়া মোবিল।

*প্রত্নতাত্ত্বিক এই গবেষণায় সহযোগী হিসেবে ছিলেন eআরকির প্রত্নতাত্ত্বিক স্পেশালিস্ট পীয়্যান মুগ্ধ নবী

৬৫২ পঠিত ... ০০:০৩, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top