সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা তাদের দাবিতে আরো যে ১৫টি দফা যোগ করতে পারে

১৯৯১ পঠিত ... ১৩:১৯, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

আজ (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সারা দেশে পরিবহন শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে না। সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করাসহ বেশ কিছু দাবিতে তারা ধর্মঘট পালন করছেন (সূত্র: প্রথম আলো)। 

তবে আরো বেশ কিছু দাবি তারা করতে পারতেন। মাথার ঘাম রাস্তায় ফেলে সেগুলোই তাদের খুঁজে দিয়েছে eআরকির সড়ক পরিবহন গবেষক দলের সদস্য সোহাইল রহমানশোহান রাহমান

১. সড়কে 'দুর্ঘটনা' ব্যাপারটা তো একটা অ্যাক্সিডেন্ট! আর অ্যাক্সিডেন্ট তো বলে কয়ে আসে না, কেউ ইচ্ছা করেও করে না! তাহলে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে আবার মামলা কিসের? সুতরাং ড্রাইভারদের নামে মামলা করা অবৈধ করতে হবে৷ ড্রাইভারদের নামে মামলা করে কেউ হয়রানি করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করতে হবে৷

২. দুর্ঘটনার জন্য যদি চালককে দায়ী করাই হয়, সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রাস্তায় হলে চালকের কোনো দায় থাকবে না। শুধুমাত্র মাঠে, নদীতে বা ঘরের মধ্যে দুর্ঘটনা সংগঠিত হলেই শুধুমাত্র চালককে দায়ী করা যাবে।

৩. চালকের বয়স বা শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। জন্মের পর কথা বলা শিখলেই সে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হতে পারবে, এমন আইন করতে হবে।

 

৪. গাড়ি চালানো এক ধরনের দক্ষতা। এইটা হল প্রাকটিকাল কাজ। সুতরাং কাগজ কলমের 'লাইসেন্স' এই দক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে না। লাইসেন্স ব্যাপারটাই বাতিল ঘোষণা করতে হবে। কারো কোনো লাইসেন্স থাকবে না৷ লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।

৫. লাইসেন্সের নিয়ম যদি করাও হয়, সব চালকের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া যাবে না। একটা লাইসেন্স থাকলেই ফ্যামিলির সবার হয়ে যাবে এরকম নিয়ম করতে হবে। মামা, চাচা, খালু, দেবর, ভাগ্নে, শালা, বন্ধু, প্রতিবেশী সবাইকেই ফ্যামিলির আওতাভুক্ত করতে হবে।

৬. মহাসড়কে যেকোনো এক লেনে গাড়ি চালানোর সিস্টেম বাতিল করতে হবে। এতে করে ইচ্ছামত যেকোনো লেন ব্যবহার করা যাবে। ওভারটেকিংকে বৈধ এবং আবশ্যক ঘোষণা করতে হবে।

 

৭. গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বললে ঐ সময়ের জন্য চালকের সিমে কলরেট ফ্রি করে দিতে হবে।

৮. সপ্তাহে একটাও অ্যাক্সিডেন্ট করেনি এরকম চালকদেরকে প্রতি শুক্রবার গণভবনে সংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৯. কেউ যখন কোনো গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়, তখন ওই ড্রাইভার প্রচন্ড ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে। উক্ত ড্রাইভারের প্রচুর মানসিক ক্ষতি হয়। এতে করে ড্রাইভারের ফ্যামিলি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়৷ তাই সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির ফ্যামিলি বাধ্যতামূলক ক্ষতিপূরণ দেবে৷ অ্যাক্সিডেন্টের ভয়াবহতা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

১০. প্রতিদিন রাস্তায় দুইটা বাসের মধ্যে রেস হলে যে বাস জিতবে সেই বাসের চালককে সেইদিন ‘যেমন খুশি তেমন অ্যাক্সিডেন্ট’ করার লাইসেন্স দিতে হবে। সেই সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে সরকারিভাবে অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করতে হবে। এবং রাস্তায় হঠাৎ শুরু হওয়া বাসের রেসকে জাতীয় ক্রীড়া ইভেন্টের আওতায় এবং চালকদেরকে জাতীয় তালিকাভুক্ত অ্যাথলেটের আওতায় এনে মাসিক ভাতা দিতে হবে।

১১. এক অ্যাক্সিডেন্টে কুড়ির অধিক মানুষ মারা গেলে চালককে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার জন্য সরকারি পদক দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

 

১২. 'আজকের হেল্পার আগামীর ড্রাইভার' এই নীতি অনুযায়ী হেল্পারদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। 'হেল্পার সপ্তাহ' চালু করতে হবে৷ ওই এক সপ্তাহ গাড়ি চালাবে শুধু হেল্পাররা।

১৩. সিগনাল বাতি ব্যবহার করা যাবে না। জীবন, সময় এবং সিগনাল বাতির চেয়ে ড্রাইভারের ব্যস্ততার মূল্য বেশি। গাড়ি থামবে কিনা সেটা ড্রাইভারকেই নির্ধারণ করতে দিতে হবে৷

১৪. ট্রাফিক পুলিশ নিষিদ্ধ করতে হবে৷

১৫. পরিশেষে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদেরকে সংসদে গিয়ে ইচ্ছামত আইন প্রণয়ন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

১৯৯১ পঠিত ... ১৩:১৯, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top